ফেব্রুয়ারিতে না হলে এপ্রিলের মধ্যে নির্বাচন করা উচিত

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘ফ্যাসিস্টরা বিদায় নিয়েছে, তবে ফ্যাসিজমের অন্ধকার এখনো জাতির ওপর ছায়া ফেলে আছে।’ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সর্বসম্মত রায়ে জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন ফিরে পাওয়া উপলক্ষে গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর বনানীতে হোটেল শেরাটনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। 

জামায়াত আমির বলেন, ‘যারা জীবন বাজি রেখে ফ্যাসিজমের বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন, তাদের লক্ষ্য ছিল এই অত্যাচারী ব্যবস্থার অবসান। কিন্তু দুঃখজনকভাবে ফ্যাসিজম এখনো বিদ্যমান। এটি সম্পূর্ণরূপে নির্মূল করতে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন প্রয়োজন, যার মাধ্যমে জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ সরকার গঠিত হবে। নির্বাচনের ক্ষেত্রে জামায়াতে ইসলামীর ঐতিহাসিক ভূমিকা রয়েছে।’ 

নির্বাচনের সময়সীমা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘প্রধান উপদেষ্টা ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে জুন ২০২৬ এর মধ্যে নির্বাচনের সময় নির্ধারণ করেছেন। আমরা মনে করি, ফেব্রুয়ারির মধ্যে নির্বাচন সম্ভব, বিশেষ করে রোজার আগে। যদি কোনো কারণে দেরি হয়, তবে এপ্রিলের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করা উচিত। মে মাস থেকে আবহাওয়ার অবনতি নির্বাচনের জন্য প্রতিকূল হবে।’ 

বর্তমান নির্বাচন কমিশনের (ইসি) অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ইসি তাদের দায়িত্ব পালন করবে এবং প্রতীক ফিরিয়ে দেবে। তবে পক্ষপাতমূলক আচরণ হলে জামায়াত নীরব থাকবে না।’ 

জামায়াত আমির বলেন, ‘বিগত সরকারের প্রভাবে একটি মহল আমাদের নিবন্ধন ও প্রতীকের বিরুদ্ধে আদালতে গিয়েছিল। ফ্যাসিবাদী প্রভাবে বেআইনিভাবে আমাদের নিবন্ধন বাতিল করা হয়।’ নিবন্ধন বাতিলে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা এখনো এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিইনি, তবে পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে ভাবব।’ 

দেশের সার্বভৌমত্ব নিয়ে তিনি বলেন, ‘সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কোনো আপস নেই। প্রতিবেশীদের সঙ্গে ন্যায্য ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের পক্ষে আমরা।’ 

তিনি অভিযোগ করেন, ‘শিক্ষার্থী, সাধারণ মানুষ ও সর্বস্তরের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়েছে। কিন্তু ফ্যাসিস্টরা পালিয়ে গেলেও বিদেশ থেকে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।’ 

সংবাদ সম্মেলনে দলটির জ্যেষ্ঠ নেতাদের পাশাপাশি অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতা ও বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতরা উপস্থিত ছিলেন।