নড়াইলে মাঝারি ও দেশি গরুর চাহিদা বেশি

নড়াইলে পশুর হাটে মাঝারি আকৃতির ও দেশীয় প্রজাতির গরুর চাহিদা বেশি। যার কারণে মাঝারি গরু বেশি বিক্রি হচ্ছে। তবে কিছুটা বিপাকে পড়েছে বড় আকৃতির গরুর মালিকরা। প্রথম দিকে পশুর হাট জমে না উঠলেও শেষ মুহূর্তে জমে পশুর হাট। তবে গত বছরের তুলনায় এবছর গরু-ছাগলের দাম কম বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা।

এদিকে দাম কিছুটা কম হওয়ায় খুশি ক্রেতারা। জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের তথ্যমতে, এ বছর নড়াইল জেলায় কোরবানির জন্য ৫৪ হাজারের বেশি গরু ও ছাগল বিক্রির উপযুক্ত রয়েছে। যা নড়াইল জেলার চাহিদা মিটিয়ে আরও মজুদ থাকবে।

জানা গেছে, নড়াইলের তিনটি উপজেলার ৯টি পশুর হাট রয়েছে। এর মধ্যে নড়াইল সদর উপজেলায় নাকশী, মাইজপাড়া, চাকই পশুর হাট, লোহাগড়া উপজেলায় লাহুড়িয়া কালিগঞ্জ, দিঘলিয়া ও লোহাগড়া পশুর হাট এবং কালিয়া উপজেলায় পহরডাঙ্গা, কালিয়া ও বারইপাড়া ছাড়াও বেশ কয়েকটি অস্থায়ী হাট বসেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এসব পশুর হাটে এক সপ্তাহ আগে তেমন বেচাকেনা হয়নি। গরু ছাগল হাটে আসলেও ক্রেতা কম ছিলো এবং দামও অনেকটা কম। যার কারণে পশু মালিক ও ব্যবসায়ীরা হতাশায় ছিল। তবে গত ২/৩ দিন ধরে হাটবাজারে গরু-ছাগলের বিক্রি বেড়েছে। তবে অন্য বছরের তুলনায় কম বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

বৃহস্পতিবার (৫ জুন) সদর উপজেলার নাকসী-মাদ্রাসা হাটে পর্যাপ্ত পরিমাণ গরু ও ছাগল ওঠে। এর এক সপ্তাহ আগে পশু এনে বিক্রি করতে না পেরে অনেকেই বাড়ি ফিরে গেছেন। তবে ৫ জুন হাটে পর্যাপ্ত সংখ্যক গরু ছাগল বিক্রি হয়েছে। বাজারে সব আকৃতির গরু আসলেও মাঝারি ও দেশীয় প্রজাতির গরুর চাহিদা বেশি।

গরু কিনতে আসা ক্রেতা লোহাগড়া উপজেলার ব্রাহ্মণডাঙ্গা গ্রামের মিলন জানান, তিনি একটি দেশী প্রজাতির মাঝারি আকারের গরু কেনার জন্য হাটে এসেছেন। যে গরু ঘাস খাইয়ে বড় করা হয়েছে এমন গরু খুঁজছেন। লাখ টাকার মধ্যে গরু কিনবেন বলে তিনি জানান।

রেজাউল ইসলাম নামে একজন ক্রেতা বলেন, ‘আমরা কয়েকজন মিলে আল্লাহর নামে কুরবানি করার নিয়ত করেছি। দেড় লাখ টাকার মধ্যে গরু কিনেছি। অন্য বছরের তুলনায় বাজার ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে আছে।’

নোয়াগ্রাম ইউনিয়নের বাড়ীভাঙ্গা গ্রামের ব্যবসায় আব্দুল কুদ্দুস জানান, তিনি মাইজপাড়া হাট হতে ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা দিয়ে একটি গরু কিনেছেন। অন্য বছরের তুলনায় দাম কিছুটা কম থাকায় তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন।

গরু ব্যবসায়ী আবুল কালাম বলেন, ‘এ বছর গরু প্রতি ৫ থেকে ১৫ হাজার টাকা কম বিক্রি হচ্ছে। কারণ হিসেবে তিনি মনে করেন, ৫ আগস্টের পর অনেকেই এলাকা ছাড়া। যার কারণে কুরবানির গরু কম বিক্রি হচ্ছে।

গরু বিক্রেতা দারিয়াপুর এলাকার মনিরুজ্জামান মনির বলেন, ‘গো-খাদ্যের দাম যেভাবে বেড়েছে, সে তুলনায় গরুর দাম কম। যার কারণে কৃষক ও খামারিরা গরু বিক্রি করে লোকসানে পড়ছে।’

এদিকে হাটে গরুর পাশাপাশি পর্যাপ্ত পরিমাণ ছাগল এসেছে। ছাগল বিক্রেতারা জানান, গত বছরের তুলনায় ছাগল প্রতি ২ থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত কম বিক্রি হচ্ছে। তবে দাম কম হওয়ায় ছাগল ক্রেতারা বেশ খুশি।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সিদ্দীকুর রহমান বলেন, ‘নড়াইলের খামারসহ গৃহস্থালি বাড়িতে যেসব গরু লালন-পালন করা হয়েছে, তা স্বাভাবিক খাবারের মাধ্যমে বড় করা হয়েছে। তারপরও গরু মোটাতাজাকরণে ক্ষতিকর কিছু ব্যবহার করা হয়েছে কিনা, সেজন্য স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য হাটগুলোতে ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম রয়েছে। এ বছর নড়াইল জেলায় কোরবানির হাটে বিক্রি জন্য ২৩ হাজার  গরু ও ৩১ হাজারের বেশি ছাগল প্রস্তুত রয়েছে। যা নড়াইল জেলার চাহিদা মিটিয়ে অন্য জেলার কিছুটা চাহিদা মেটাতে সক্ষম হবে। বাকি পশু বিভিন্ন সময়ে মানুষের মাংসের চাহিদা মেটাতে পারবে।’

নড়াইল পুলিশ সুপার কাজী এহসানুল কবীর বলেন, ‘ঈদকে ঘিরে হাটবাজারসহ সামগ্রিকভাবে নিরাপত্তায় পুলিশ বিভাগ সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছে। পশুর হাটগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনসহ নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। এছাড়া মার্কেট ও ব্যাংকে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। শুধু পশু কুরবানি নয়, মনের পশুত্বকে কুরবানির মধ্য দিয়ে এ বছর পবিত্র ঈদুল আযহা যথাযথ ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্যদিয়ে মানুষ উদযাপন করবে।