জানালেন ডিএমপি কমিশনার

ঈদ ঘিরে রাজধানীতে ৫০০ পেট্রোল টিম, ১ হাজার ৭০০ জামাতে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা

ঢাকা মহানগরীতে এবারের ঈদুল আজহার প্রতিটি জামাতকে ঘিরে কঠোর ও সুসংহত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী। তার ভাষায়, ‘মহানগরীর একটি ঈদ জামাতও নিরাপত্তার বাইরে থাকবে না।’

আজ শুক্রবার সকালে জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে নিরাপত্তা প্রস্তুতি পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য দেন ডিএমপি কমিশনার।

তিনি জানান, ঈদের ছুটির সময় রাতের বেলায় রাজধানীতে ৫০০টি এবং দিনে ২৫০টি পেট্রোল টিম দায়িত্ব পালন করবে। এ ছাড়া গাড়ি, ফুট পেট্রোল ও মোবাইল পেট্রোল দলগুলোও তৎপর থাকবে। “যেসব অফিসার সাধারণত ফিল্ডে যান না, তারাও এবার মাঠে থাকবেন। সবার মধ্যে দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়া হয়েছে,” বলেন তিনি।

ডিএমপি কমিশনার জানান, এবারের ঈদুল আজহার প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে, সকাল সাড়ে ৭টায়। সেখানে একসঙ্গে ৩৫ হাজার মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারবেন। জামাতে অংশ নেবেন রাষ্ট্রের প্রধান উপদেষ্টা, প্রধান বিচারপতি, বিচারপতি, মুসলিম দেশের কূটনীতিকসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা।

মাঠে প্রবেশের জন্য থাকবে ৫টি ফটক—৪টি পুরুষদের জন্য, একটি নারীদের জন্য। প্রত্যেক মুসল্লিকে আর্চওয়ে এবং মেটাল ডিটেক্টরের মাধ্যমে তল্লাশি শেষে প্রবেশ করতে হবে। পাশাপাশি, মাঠের আশপাশে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়েছে এবং অস্থায়ী কন্ট্রোল রুম থেকে সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হচ্ছে।

জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে ঈদের দিন মোট ৫টি জামাত অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম জামাত শুরু হবে সকাল ৭টায়। তবে আবহাওয়া প্রতিকূল হলে ঈদগাহ ময়দানের প্রধান জামাতটি সরিয়ে বায়তুল মোকাররমেই সকাল ৮টায় অনুষ্ঠিত হবে।

ডিএমপি প্রধান জানান, রাজধানীজুড়ে এ বছর ১১৮টি ঈদগাহ ও ১ হাজার ৬২১টি মসজিদে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। এ ছাড়া শিয়া ও কাদিয়ানি সম্প্রদায়ের আয়োজনে ৮টি জামাত এবং সৌদি আরবের সাথে মিল রেখে আরও ৩টি জামাত অনুষ্ঠিত হবে।

নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এসবির সুইপিং টিম, সিটিটিসির ডগ স্কোয়াড, ডিএমপির সোয়াট ও বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট সার্বক্ষণিক প্রস্তুত থাকবে। গোটা এলাকা ঘিরে থাকবে সাদা পোশাকে গোয়েন্দা সদস্য ও পর্যবেক্ষণের জন্য থাকবে ওয়াচ টাওয়ার। হাইকোর্ট মোড়, প্রেস ক্লাব এবং মৎস্য ভবন মোড়ের তিনটি প্রধান সড়কে তল্লাশি চৌকি ও ব্যারিকেড থাকবে।

ডিএমপি কমিশনার নগরবাসীকে অনুরোধ করে বলেন, “তল্লাশির সময় যেন কেউ বিরক্ত না হন। নিরাপত্তার স্বার্থে ব্যাগ, ধারালো বস্তু বা দাহ্য কিছু সঙ্গে না আনাই ভালো। সন্দেহজনক কিছু দেখলে তাৎক্ষণিক নিকটস্থ পুলিশ সদস্যকে জানান।”

তিনি আরও বলেন, ঈদের নামাজ শেষে যেন তাড়াহুড়ো না করে সুশৃঙ্খলভাবে প্রস্থান করা হয়। শহর পরিষ্কার রাখতে কোরবানির পশুর বর্জ্য যথাযথভাবে ব্যবস্থাপনার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “যেকোনো প্রয়োজনে ৯৯৯ বা পুলিশ কন্ট্রোল রুমে যোগাযোগ করুন।”