ঈদের ছুটিতে ফাঁকা ঢাকা, তবুও তৃতীয় দূষিত শহর

কোরবানির ঈদের ছুটিকে ঘিরে রাজধানী ঢাকা থেকে অগণিত মানুষ বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় চলে গেছেন। শহরের রাস্তাঘাট এখন অনেকটাই নির্জন। কিন্তু জনসমাগম কম থাকলেও ঢাকার বাতাসের গুণমানের উন্নতি হয়নি মোটেও। বরং দূষণের দিক থেকে আজও বিশ্বের শীর্ষ শহরগুলোর তালিকায় অবস্থান করছে ঢাকা।

সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণ সংস্থা আইকিউএয়ার-এর তথ্য অনুযায়ী, রবিবার সকাল সাড়ে ছয়টায় ঢাকার বায়ুর মান ছিল ১৬০, যা ‘অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচিত। ওই সময়ে চিলির সান্টিয়াগো শহর ছিল তালিকার শীর্ষে—যার স্কোর ১৬৭। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ভারতের দিল্লি, সেখানকার বায়ুমান সূচক ১৬১। ঢাকার পর চতুর্থ অবস্থানে আছে ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তা, যার স্কোর ১৫৫।

আইকিউএয়ার তাদের নির্ধারিত সূচকে বায়ুর মানকে কয়েকটি ধাপে ভাগ করেছে। তাদের মানদণ্ড অনুযায়ী, স্কোর ০ থেকে ৫০ হলে সেই বায়ুকে ‘ভালো’ ধরা হয়। ৫১ থেকে ১০০ পর্যন্ত স্কোরের মানে বায়ুর গুণমান ‘মধ্যম’ বা সহনীয়। স্কোর ১০১ থেকে ১৫০ হলে তা মূলত শিশু, বৃদ্ধ বা অসুস্থদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ—যাকে বলা হয় 'সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর'।

যখন স্কোর ১৫১ থেকে ২০০-তে পৌঁছে যায়, তখন সেই বাতাসকে সরাসরি ‘অস্বাস্থ্যকর’ বলে চিহ্নিত করা হয়। স্কোর যদি ২০১ থেকে ৩০০ হয়, তবে তা ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচিত হয়। আর স্কোর ৩০১-এর বেশি হলে সেই বায়ুকে সংস্থাটি ‘দুর্যোগপূর্ণ’ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করে।

সুতরাং, ঢাকায় জনসাধারণ কম থাকার পরও বায়ুর গুণগত মানে তেমন উন্নতি হয়নি। বরং তা দেশের নাগরিকদের জন্য এখনো স্বাস্থ্যঝুঁকির বড় কারণ হয়ে রয়ে গেছে।