বিশ্বজুড়ে মুসলমানদের প্রধান দুটি ধর্মীয় উৎসব—ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার সময় মার্কিন প্রেসিডেন্টদের শুভেচ্ছা জানানো এক দীর্ঘদিনের রীতি। তবে সেই রেওয়াজ থেকে সরে এসেছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পরপর দুই ঈদেই কোনো বার্তা দেননি তিনি।
গত শুক্রবার, ৬ জুন, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের নানা প্রান্তে পালিত হয় ঈদুল আজহা। এ উপলক্ষে ট্রাম্পের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের শুভেচ্ছা বার্তা প্রকাশিত হয়নি। একইভাবে, এর আগে ঈদুল ফিতরের সময়ও তিনি কোনো বার্তা দেননি। অথচ এ দুই ধর্মীয় উৎসবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টদের পক্ষ থেকে মুসলিম নাগরিকদের উদ্দেশে বার্তা দেওয়া বহুদিনের ঐতিহ্য।
তবে চলতি রমজানে ট্রাম্প ওয়াশিংটনের হোয়াইট হাউসে আয়োজিত এক জাঁকজমকপূর্ণ ইফতার মাহফিলে অংশ নিয়েছিলেন। ২৭ মার্চ শবে কদরের রাতে আয়োজিত এই নৈশভোজে তিনি বলেন, “রমজান মুবারক। নভেম্বরে মুসলিম সম্প্রদায় আমাদের পাশে ছিল। যতদিন আমি প্রেসিডেন্ট থাকব, ততদিন আপনাদের পাশেই থাকব।” হোয়াইট হাউসের এ বিলাসবহুল আয়োজনে আমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্যে ছিলেন মার্কিন মুসলিম নেতৃবৃন্দ, সরকারি কর্মকর্তা ও আন্তর্জাতিক কূটনীতিকরা।
হোয়াইট হাউসে ইফতার আয়োজিত হলেও ঈদের সময় ট্রাম্পের কোনো বার্তা না দেওয়াকে অনেকেই ব্যতিক্রম হিসেবে দেখছেন। কারণ তাঁর পূর্বসূরিরা নিয়মিতভাবে ঈদ উপলক্ষে বিবৃতি দিতেন। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারির পক্ষ থেকেও এবারে কোনো বিবৃতি আসেনি।
এর আগে ট্রাম্প যখন প্রথম মেয়াদে প্রেসিডেন্ট ছিলেন, তখন ২০২০ সালের ২৩ মে ঈদুল ফিতরের প্রাক্কালে তিনি মুসলিমদের শুভেচ্ছা জানিয়েছিলেন। একদিন পর, ২৪ মে যুক্তরাষ্ট্রে ঈদ উদযাপনের সময় সেই বার্তা প্রকাশ করা হয়। সেই বার্তায় ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘বিশ্বের মুসলিমরা ঈদুল ফিতর উদযাপন করছেন। আমরা আশা করি, তারা প্রার্থনা ও ভক্তির মাধ্যমে সান্ত্বনা ও শক্তি লাভ করবেন।’
করোনাভাইরাস মহামারির সেই কঠিন সময়ে দেওয়া সেই বার্তায় ট্রাম্প আরও বলেছিলেন, ‘গত কয়েক সপ্তাহ ও মাস ধরে, যখন আমরা কোভিড-১৯ মোকাবিলা করছি, তখন এই অভূতপূর্ব পরিস্থিতিতে আমরা দিকনির্দেশনার জন্য বিশ্বাস, পরিবার ও বন্ধুদের ওপর নির্ভর করেছি।’
তিনি সে সময় উল্লেখ করেন, রমজান শেষে এই উৎসব পালিত হয়, যখন মুসলমানরা এক মাস রোজা রাখেন এবং নানা ধর্মীয় আচার পালন করেন।
এবারের ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহায় ট্রাম্পের এমন নীরবতা হোয়াইট হাউসের পূর্ববর্তী ঐতিহ্য থেকে এক সুস্পষ্ট বিচ্যুতি।