লন্ডনে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ চেয়ে বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাগ্নি টিউলিপ সিদ্দিক যে চিঠি দিয়েছিলেন, তা পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। গত মঙ্গলবার লন্ডনে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘চিঠি পেয়েছি। এটা একটা লিগ্যাল ইস্যু এবং লিগ্যাল ওয়েতে অ্যাড্রেস করা হোক।’
প্রেস সচিব বলেন, ‘বাংলাদেশি অরিজিন যারা এমপি হয়েছেন, তাদের অল পার্টি পার্লামেন্টারি একটি গ্রুপ প্রফেসর ইউনূসের সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলেন। সেখানে এক ঘণ্টারও বেশি সময় মিউচুয়াল ইন্টারেস্টের যে জায়গাগুলো আছে, সেগুলো নিয়ে কথা হয়েছে। তবে সেখানে টিউলিপ সিদ্দিক ছিলেন না।’
গত রবিবার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানিয়েছিলেন, যুক্তরাজ্যের সাবেক সিটি মিনিস্টার টিউলিপ সিদ্দিকের পাঠানো কোনো চিঠি পাননি প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, টিউলিপের কোনো চিঠি পাননি প্রধান উপদেষ্টা। ৫ জুন থেকে আমরা ছুটিতে আছি। ফলে ড. ইউনূসের যুক্তরাজ্যের এ সফরে তার সাক্ষাৎ পাচ্ছেন না টিউলিপ।
প্রধান উপদেষ্টার যুক্তরাজ্য সফরের সময় তার সঙ্গে দেখা করে দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে ‘ভুল বোঝাবুঝির’ অবসান করতে সাক্ষাৎ চেয়ে চিঠি দিয়েছিলেন টিউলিপ। যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানে এ-সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন প্রকাশ হয়।
ওই চিঠিতে টিউলিপ আশা প্রকাশ করেন, অধ্যাপক ইউনূসের সঙ্গে তার সাক্ষাৎ ‘দুদকের দ্বারা সৃষ্ট ভুল বোঝাবুঝি দূর করতে’ সহায়তা করবে।
প্রেস সচিব আরও বলেন, এ সময় রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়েও আলোচনা হয়েছে। সেই সঙ্গে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইস্যুগুলো বিশেষ করে ডেমোক্রেটিক ট্রানজেকশন বা রিফর্ম কমিশনগুলো কী কী করা হচ্ছে, রিফর্ম কমিশনের বাইরে... কবে জুলাই চার্টার হবে সেগুলো নিয়ে আলাপ হয়েছে। এ ছাড়া বাংলাদেশে ১০ মাসে আমাদের কী কী অর্জন করেছি সেগুলো নিয়ে আলাপ হয়েছে। তারা অনেক প্রশ্ন করেছেন। প্রধান উপদেষ্টা সব প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন।
রিজওয়ানা সিদ্দিক টিউলিপের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের অবকাঠামো খাত থেকে প্রায় ৫৯ হাজার কোটি টাকা লোপাট, ক্ষমতার অপব্যবহার করে রাজউকের প্লট গ্রহণ ও ফ্ল্যাট ঘুষ নিয়ে সরকারি জমিতে ডেভেলপার কোম্পানিকে ভবন নির্মাণের সুযোগ প্রদানসহ বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের অনুসন্ধান ও তদন্ত করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ইতিমধ্যে প্লট জালিয়াতি ও ফ্ল্যাট ঘুষ গ্রহণের ঘটনা অনুসন্ধান শেষে মামলা করেছে দুদক।