ইসরায়েলের হামলায় নিহত ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান

ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলায় ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান মোহাম্মদ বাঘেরি নিহত হয়েছেন বলে নিরাপত্তা সূত্রে জানা গেছে। রেভ্যুলুশনারি গার্ডের সংবাদমাধ্যম ফার্স নিউজ এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

এই হত্যাকাণ্ডের ফলে তেহরানে উত্তেজনা ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে। ইসরায়েল আগের হামলায় ইরানের শীর্ষ কমান্ডার ও দু’জন পারমাণবিক বিজ্ঞানীকেও হত্যা করেছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

হোসেইন সালামিসহ ইরানের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও বৈজ্ঞানিক ব্যক্তিদের ওপর এই হামলা আন্তর্জাতিক মহলে নিন্দার ঝড় তুলেছে। ইরানের ইসলামিক রেভ্যুলুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর তারা “জিওনবাদী শত্রুর” বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিক্রিয়া প্রদানের প্রস্তুতিতে রয়েছে।

ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইতোমধ্যে ইরানের সম্ভাব্য পাল্টা হামলার বিষয়ে সতর্ক করে বলেছেন, “যে কেউ আমাদের চ্যালেঞ্জ করবে তাকে চড়া মূল্য দিতে হবে।” একই সাথে তেহরানের প্রধান বিমানবন্দর বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে শিশুদের হতাহতের খবর পাওয়া গেছে।

জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এই সামরিক উত্তেজনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে সর্বোচ্চ সংযমের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক আলোচনা চলাকালীন এমন হামলার জন্য।

যুক্তরাষ্ট্রে ইসরায়েল বিরোধী রাজনৈতিক মতামত বাড়ছে। দেশের ডান-বাম উভয় শিবিরের একাংশ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সতর্ক করেছে যেন ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্কিত হয়ে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে না জড়ান। এই পরিস্থিতি মার্কিন রাজনৈতিক মঞ্চে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের ভিন্নতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

এই সংঘাত দীর্ঘমেয়াদী হিসেবে বিবেচিত হলে, ইসরায়েল-মার্কিন সম্পর্কের ওপর এর প্রভাব ব্যাপক হতে পারে।