মুনসির ১৯১ ম্লান করে ডাচদের হয়ে ইতিহাস গড়লেন ও'ডাউড

দুটি ইনিংস, দুটি ব্যাটিং বিস্ফোরণ—কিন্তু হাসির শেষ হাসি হাসলেন কেবল একজনই। জর্জ মুনসির রেকর্ড গড়া ১৯১ রানের ইনিংসও হার এড়াতে পারলো না স্কটল্যান্ডকে। কারণ, তার বিপরীতে ছিলেন ম্যাক্স ও'ডাউড। তিনিও খেললেন অপরাজিত ১৫৮ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস। আর তার হাত ধরেই বিশ্বকাপ লিগ-২ এর ম্যাচে স্কটল্যান্ডকে চার উইকেটে হারিয়ে ওয়ানডে ইতিহাসের তৃতীয় সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয় তুলে নিল নেদারল্যান্ডস।

ডান্ডিতে টসে জিতে ব্যাটিং নেয় স্কটল্যান্ড। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে খেলেন জর্জ মুনসি। মাত্র ১৫০ বলে ১৯টি চার ও ৯টি ছক্কায় গড়া ১৯১ রানের ইনিংসে তিনি পেরিয়ে যান পল স্টার্লিংয়ের সহযোগী সদস্য দেশের হয়ে সর্বোচ্চ ১৭৭ রানের রেকর্ড। দ্বিশতকের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন তিনি, ইনিংসের তখনও বাকি ১০ বল। কিন্তু স্বপ্নটা তখনই থেমে যায়।

তবে মুনসিকে দারুণ সঙ্গ দেন অধিনায়ক ম্যাথিউ ক্রস, ৪৯ বলে করেন ৫৯ রান। তাদের ১৫০ রানের জুটিতে ভর করেই ৫০ ওভারে স্কটল্যান্ডের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৩৬৯/৬।

রান পাহাড় মনে হলেও ও'ডাউডের ব্যাটে তা পরিণত হলো রানের নদীতে। ওপেনিংয়ে নামা এই ডানহাতি ব্যাটার শুরুতে মাইকেল লেভিটের (৩১) সঙ্গে ৬৭ রানের জুটি গড়েন। যদিও শারিফ টানা দুই ওভারে লেভিট ও লায়ন-ক্যাশেটকে ফেরত পাঠিয়ে নেদারল্যান্ডসকে চাপে ফেলে দেন।

কিন্তু এখানেই শেষ নয়। স্কট এডওয়ার্ডসের সঙ্গে ৬৮ রানের জুটি গড়ে ম্যাচে ফেরেন ও'ডাউড। এরপর তেজা নিদামানুরুর সঙ্গে ১০১ রানের আরও এক কার্যকর জুটি। ৪০ ওভারে ৯১ রান দরকার ছিল ডাচদের, তখনও হাতে ছয় উইকেট। ঠিক তখনই ফেরেন নিদামানুরু (৫১)।

শেষে নাটক জমিয়ে দেন নোয়া ক্রস। মাত্র ২৯ বলে ৫০ রান করে স্কটল্যান্ডের জয়ের স্বপ্নকে তছনছ করে দেন তিনিও। ৪৮তম ওভারে আউট হলেও ততক্ষণে জয়ের জন্য প্রয়োজন পড়ে মাত্র ১৫ রান, হাতে তখনও ৪ উইকেট। শেষ হাসি তোলেন ও'ডাউড নিজেই, লং অনের ওপর দিয়ে ছক্কা হাঁকিয়ে জয় নিশ্চিত করেন তিনি।

অপরাজিত ১৫৮ রানে ম্যাচ শেষ করেন এই ডাচ ব্যাটার, যা তাকে এনে দেয় কেবল জয় নয়, এক অবিস্মরণীয় ইতিহাসও।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

স্কটল্যান্ড: ৩৬৯/৬ (৫০ ওভার)

মুনসি ১৯১, ক্রস ৫৯; ডাট ২/৭৩

নেদারল্যান্ডস: ৩৭৪/৬ (৪৯.২ ওভার)

ও'ডাউড ১৫৮, নিদামানুরু ৫১, ক্রস ৫০; শারিফ ৩/৬২

ফল: নেদারল্যান্ডস ৪ উইকেটে জয়ী*