একসময়ে প্রতাপশালী রাজনৈতিক নেতা, সিটি করপোরেশনের ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও বিএনপি নেতা চৌধুরী আলমের গুম হওয়ার রহস্য সুরাহাই হচ্ছে না। তিনি আদৌ বেঁচে আছেন নাকি মেরে ফেলা হয়েছে, তা এখনো জানা যাচ্ছে না। উল্টো তাকে খুঁজে পরিবারের মাঝে ফিরিয়ে দেওয়ার কথা বলে বিভিন্ন সময়ে অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে প্রতারকচক্র। এমনকি আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের কয়েক মাস আগে টাকা লুটে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এখন পর্যন্ত অন্তত কোটি টাকার ওপর অর্থ লোপাট হয়েছে বলে সরকারের একটি প্রভাবশালী সংস্থার গোপন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। প্রতিবেদন সরকারের হাইকমান্ডের কাছে পাঠানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, পার্শ্ববর্তী দেশের একটি গোয়েন্দা সংস্থার প্রত্যক্ষ ইন্ধনে চৌধুরী আলমকে গুম করে র্যাব। গুমের কয়েক মাস পর আলমের দ্বিতীয় স্ত্রীকে ভারতে নিয়ে যায় একটি চক্র। তাকে বলা হয়, সীমান্ত এলাকায় তাকে রাখা হয়েছে। কিন্তু তাকে পাওয়া যায়নি। গোপনে তার ভারতে যাওয়া নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তাছাড়া গুমের সময় বিল্লাল নামে র্যাবের এক কর্মকর্তা, দীপক সাহা ও আলমের গাড়িচালকের হদিস মিলছে না। বিল্লালকে পুলিশের এসআই বলা হলেও তিনি একটি বাহিনীর সদস্য। আর দীপক সাহা দেশের সীমান্তবর্তী এলাকায় অবাধে যাতায়াত করতেন।
সংশ্লিষ্টরা দেশ রূপান্তরকে জানায়, ১৫ বছর পেরিয়ে গেলেও বিএনপি নেতা চৌধুরী আলমের গুম রহস্যের কিনারা করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। বরং তিনি বেঁচে আছেন নাকি মেরে ফেলা হয়েছে, তা নিয়ে হিসাব চলছে। তবে চৌধুরী আলম গুমের সঙ্গে র্যাবের তৎকালীন কর্মকর্তারা জড়িত ছিলেন। পেছনে ছিল পার্শ¦বর্তী একটি দেশের গোয়েন্দা সংস্থা। সরকারের একটি সংস্থার অনুসন্ধানে এমনটিই বেরিয়ে এসেছে।
অনুসন্ধান বলছে, চৌধুরী আলমকে গুম এবং তৎপরবর্তী সময়ে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দেওয়ার সমন্বয়ক ও সহযোগিতার ভূমিকায় ছিলেন দীপক সাহা ও অসীম চন্দ্র ভৌমিক নামে দুজন। ২০১০ সালের ২৫ জুন ফার্মগেটের ইন্দিরা রোডের গার্মেন্টস গলি থেকে গুম হন চৌধুরী আলম। তিনি ১৯৯৩ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত টানা ১৭ বছর দোর্দ- প্রতাপশালী কাউন্সিলর ছিলেন। এর বাইরে বিএনপির নির্বাহী কমিটির সাবেক সদস্য এবং ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির প্রথম যুগ্ম সম্পাদক ছিলেন। ছিলেন অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের ভারপ্রাপ্ত মেয়রও। ৫৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর চৌধুরী আলম গুমের ঘটনায় তার পরিবার ১৮ জনের নাম উল্লেখ করে সম্প্রতি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে।
দ্বিতীয় স্ত্রীর বাসা থেকে বের হয়েই গুম : ঘটনার দিন চৌধুরী আলম দ্বিতীয় স্ত্রী উম্মে জাহান আরজুর বাসা থেকে বের হয়েছিলেন। বের হওয়ার পর কিছুদূর যেতেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী গাড়ি ঘিরে ধরে তাকে তুলে নিয়ে যায়, সঙ্গে গাড়িটিও। পরে গাড়িটি কারওয়ান বাজারের ওয়াসা ভবনের সামনে ফেলে রাখে। চালক অসীম চন্দ্র ভৌমিক পরিবারের কাছে গুমের খবর দেন। চালক অসীম গুমের একমাত্র প্রত্যক্ষদর্শী, তবে মামলা কিংবা চৌধুরী আলম গুমের কোনো তদন্তেই তার নাম-গন্ধ নেই। চৌধুরী আলমের দ্বিতীয় স্ত্রী উম্মে জাহান আরজু বলেছেন, অসীম ওইদিনের বদলি চালক ছিলেন। তার বাড়ি কোথায় এমনকি ভোটার আইডি তেমন কিছুই তাদের কাছে নেই। অসীমের গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার বড়ুরায়। এখন থাকেন ঢাকায়। কাজ করছেন একটি বেসরকারি সংস্থায়।
সব তদন্তকারী কর্মকর্তার একই ভাষ্য : চৌধুরী আলম গুমের পরবর্তী সময়ে চারজন কর্মকর্তা তদন্ত করেছেন। কিন্তু চারজনের তদন্তের ভাষাই একরকম। তাদের কেউই চৌধুরী আলমের গুম রহস্যের কিনারা করতে পারেননি। তবে সিআইডির তদন্ত কর্মকর্তা শাহনুর বারির তদন্তে একটি সূত্র পাওয়া যায়। সেখানে বলা হয়, চৌধুরী আলম গুমের পাঁচ দিন আগে তাকে গুলশান এলাকা থেকে গুমের চেষ্টা করা হয়। গুমচেষ্টার সেই ঘটনায় র্যাব গোয়েন্দা সংস্থার সদস্য বিল্লাল জনতার হাতে আটক হন। গুলশান থানা পুলিশ তাকে উদ্ধার করে। তবে র্যাব-১-এর তৎকালীন অধিনায়ক রাশিদুল আলম তাকে ছাড়িয়ে নেন। এ ঘটনায় একটি জিডি করা হয়। তবে জিডিতে বিল্লালকে এসআই বলা হলেও বাস্তবে তিনি ছিলেন একটি বাহিনীর সদস্য। তার বিস্তারিত পরিচয় চাওয়া হলে র্যাব সে বিষয়ে কোনো তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করেনি।
জানতে চাইলে গুম কমিশনের সদস্য নুর খান জানিয়েছেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী গুমের সঙ্গে জড়িত, তাদের বাঁচাতেই মূলত তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করছে না সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো। বিল্লালকে বের করা গেলেই চৌধুরী আলম গুম রহস্যের সব পরিষ্কার হয়ে যাবে। এর বাইরে চৌধুরী আলম গুমের পর দীপক সাহা নামে জনৈক এক ব্যক্তি দ্বিতীয় স্ত্রী উম্মে জাহান আরজু ও তার স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। যিনি নিজেকে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের কর্মকর্তা দাবি করতেন।
উদ্ধারের নামে কোটি টাকার ওপর অর্থ লোপাট : দীপক সাহা নামে এক ব্যক্তি মোটা অঙ্কের টাকা দিলে চৌধুরী আলমকে উদ্ধার করা সম্ভব বলে জানায় তার পরিবারকে। দীপকের সঙ্গে আরও কয়েকজন চক্র সম্পৃক্ত আছে। তারা বিভিন্ন সময়ে অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে আলমের পরিবারের কাছ থেকে। তবে এ বিষয়ে আলমের পরিবার কথা বলছে না। ঘটনার বছরখানেক আগে ৩৫ লাখ টাকা দিলে সিলেটের জকিগঞ্জ সীমান্তে চৌধুরী আলমকে দেখানো হবে বলে জানানো হয়। টাকা নিয়েও উদ্ধার করা হয়নি। প্রায় এক মাস উদ্ধারের নামে নাটক করেছেন দীপক সাহা। এভাবেই টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে গোয়েন্দা সংস্থার এক কর্মকর্তা জানান দেশ রূপান্তরকে। তিনি বলেন, আলমের গুমের রহস্য উদঘাটন হবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তা পরিচয়দানকারী বিল্লাল, অসীম ও আলমের গাড়িচালককে পেলে। তাদের হন্য হয়ে খুঁজছি আমরা। ভারতীয় সীমান্তে চৌধুরী আলম কীভাবে গেলেন, তার সঙ্গে দীপক সাহার যোগাযোগ কীভাবে সেটি নিয়ে এখনো ধূম্রজালে রয়েছেন। পরবর্তী সময়ে পরিবারটি তাকে উদ্ধারের কথা বললে উম্মে জাহান আরজুকে ভারতে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে সেখানে পরিস্থিতি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় তিনি ফিরে আসেন।
গোয়েন্দা সংস্থার ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, একপর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের সাবেক কর্মকর্তা গাজী লিকুর মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে দীপক সাহাকে খুঁজে বের করা হয়। কিন্তু তিনি তাকে উদ্ধারে কোনো ভূমিকা নেননি। বরং বিভিন্ন সময়ে উদ্ধারের কথা বলে কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। তবে ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর তার কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। তিনি মারা গেছেন, এমন খবর ছড়ানো হলেও বাস্তবে এটি সত্য নয় বলে সংশ্লিষ্ট অনেকে বলছেন।
১৮ জনের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ : গত ১০ মার্চ চৌধুরী আলম গুমের ঘটনায় আওয়ামী লীগ নেতা মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানসহ ১৮ জনের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে চৌধুরী আলমের ছেলে আবু সাঈদ চৌধুরী এ অভিযোগ দেন। অন্য যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে তারা হলেন সাবেক সেনা কর্মকর্তা এম সোহায়েল (রিয়ার অ্যাডমিরাল হিসেবে বরখাস্ত), কর্নেল মো. মুজিবর, তৎকালীন র্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক পরে লে. জেনারেল (বরখাস্ত) রিয়াজুল ইসলাম, তৎকালীন ওসি শেরেবাংলা নগর থানা, মেজর এরশাদ, তৎকালীন র্যাব-২-এর উপঅধিনায়ক, খান মো. আকতারুজ্জামান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের তৎকালীন সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ২১ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ফরিদ উদ্দিন রতন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ২১ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর নিসার উদ্দিন আহমেদ কাজল, কিশোরগঞ্জের সাবেক এমপি বঙ্গবাজার কমপ্লেক্সের প্রধান নিয়ন্ত্রক আফজাল হোসেন, মহানগর বিজনেস অ্যাসোসিয়েটসের চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান হুজুর, মহানগর বিজনেস অ্যাসোসিয়েটসের সেক্রেটারি আব্দুল বাসেত মাস্টার, ফুলবাড়িয়া সুপার মার্কেটের সভাপতি শাহজাহান খান, বঙ্গ কমপ্লেক্স, ফুলবাড়িয়ার সভাপতি মো. শাহজাহান, মীর আল মামুন, কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফুলবাড়িয়া টার্মিনাল-সংলগ্ন মার্কেটের উপপরিচালক ইসমাইল হোসেন বাচ্চুসহ অজ্ঞাত আরও অনেকে। অভিযোগটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন, ১৯৭৩ অনুযায়ী রেজিস্ট্রিভুক্ত করে অভিযোগ আনা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ করা হয়েছে। ২০১০ সালের ২৪ জুন চৌধুরী আলম নিখোঁজ হন। এরপর তার আর খোঁজ মেলেনি। ওয়ান ইলেভেনের পর চৌধুরী আলমের বিরুদ্ধে ১০টি মামলা হয়। ওই সময় গ্রেপ্তার হয়ে টানা ২৭ মাস কারাভোগ করেন তিনি।
গুমের পর থানায় মামলা : চৌধুরী আলমের গুমের ব্যাপারে ২০১০ সালে ১ জুলাই রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানা একটি মামলা করেছিলেন তার বড় ছেলে আবু সাঈদ চৌধুরী হিমু। এ ঘটনায় ২০১৬ সালের ২২ এপ্রিল আদালতে একটি তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছিলেন তৎকালীন মামলা তদন্তকারী কর্মকর্তা শেরেবাংলা নগর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. কামরুজ্জামান ও পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ঢাকা মেট্রোপলিটনের (উত্তর) পুলিশ পরিদর্শক মো. শাহানুর বারী। তদন্ত প্রতিবেদনে তারা উল্লেখ করেছিলেন, বিভিন্ন সাক্ষ্য-প্রমাণে চৌধুরী আলম অপহরণের বিষয়টি সত্য প্রমাণিত হলেও তাকে কে বা কারা অপহরণ করেছে, যে সম্পর্কে কোনো তথ্য উদঘাটন করা সম্ভব হয়নি।
চৌধুরী আলমের মামলার তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে তৎকালীন মামলার তদন্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) পুলিশ সুপার দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমরা বরাবরই তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে নিরপেক্ষ তদন্ত করে থাকি। এ মামলার ব্যাপারেও ব্যতিক্রম নয়। এটা অনেক পুরনো মামলা। এর আগেও এ মামলার একটি তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেওয়া হয়েছিল। আমাদের ঊর্ধ্বতনদের নির্দেশে আবার মামলাটি তদন্ত করা হচ্ছে।
কমিশন গঠন অন্তর্বর্তী সরকারের : ২০১০ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত সময়ের মধ্যে জোরপূর্বক গুম হওয়া ব্যক্তিদের সন্ধানে কমিশন অব ইনকোয়ারি গঠন করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। এ সময়ের মধ্যে বাংলাদেশ পুলিশ, র্যাব, বিজিবি, সিআইডি, বিশেষ শাখা, গোয়েন্দা শাখা, আনসার ব্যাটালিয়ন, জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই), প্রতিরক্ষা বাহিনী, প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তর (ডিজিএফআই), কোস্ট গার্ডসহ দেশের অন্য যেকোনো আইনপ্রয়োগ ও বলবৎকারী সংস্থার কোনো সদস্যের মাধ্যমে গুম হওয়া ব্যক্তিদের বিষয়ে কমিশনে অভিযোগ করা যাবে। কমিশনের কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে অথবা ডাকে বা কমিশনের ইমেইলে অভিযোগ জমা নেওয়া হচ্ছে।
র্যাব কর্মকর্তার মোবাইল থেকে এসএমএস : চৌধুরী আলম গুম হওয়ার এক মাস আগে তৎকালীন ঢাকা সিটি করপোরেশনের মেয়র প্রয়াত সাদেক হোসেন খোকার মোবাইলে দুটি খুদে বার্তা এসেছিল র্যাবের তৎকালীন গোয়েন্দা শাখার এক কর্মকর্তার মোবাইল থেকে। বার্তা ছিল, দলীয় কর্মকান্ড থেকে নিষ্ক্রিয় না হলে চৌধুরী আলমের পরিণতি প্রয়াত কমিশনার নিউটন এবং কমিশনার আহমদের মতো হবে। চৌধুরী আলম রেড লিস্টে আছেন। এ বিষয়ে গোয়েন্দারা নিশ্চিত হয়েছেন। গোপন প্রতিবেদনের বিষয়টি উত্থাপন করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
এখনো পরিবারের আশা আলম বেঁচে আছেন : চৌধুরী আলমের প্রথম স্ত্রী হাসিনা চৌধুরী বলেন, আমি এখনো আশা করছি আমার স্বামী বেঁচে আছেন। চৌধুরী আলম দেশের জন্য জীবনবাজি রেখে যুদ্ধ করেছেন। তিনি একজন মুক্তিযোদ্ধা। কিন্তু আওয়ামী লীগ আমার সংসারটি তছনছ করে দিয়েছে। তাকে গুম করার পর কতজনের দুয়ারে ঘুরেছি তার কোনো হিসাব নেই। শুরুতে কেউ মামলা নিতে চায়নি, উল্টো আমাদের হয়রানি করেছে। আমরা যেন কখনো বিচার না চাই, সেজন্য পুলিশ-র্যাব আমাদের হয়রানি করেছে। গত সরকার আমাদের সব সম্পত্তি নিয়ে গেছে। তার সব ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ করে রাখে। তখন থাকার মতো একটা বাড়ি ছাড়া আমাদের আর কিছুই ছিল না। চার ছেলেমেয়েকে নিয়ে অনেক কষ্টে দিন কাটিয়েছি।
তিনি আরও বলেন, আমার একটাই চাওয়া, আমার স্বামী কোথায় আছেন, কী অবস্থায় আছেন, সেটি জানানো হোক। তিনি বেঁচে থাকলে তাকে ফেরত দেওয়া হোক আর তাকে মেরে ফেলা হলে সেটিও জানানো হোক।