মর্গের সামনে আহাজারি...

ভারতের গুজরাটের সর্দার বল্লবভাই প্যাটেল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়নের পরপরই বিধ্বস্ত হওয়া, এয়ার ইন্ডিয়ার বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার উড়োজাহাজ বিধ্বস্তের ঘটনায় শোকের চাদরে ঢাকা পড়েছে আহমেদাবাদ। উড়োজাহাজটির ২৪২ যাত্রীর মধ্যে একজন ছাড়া বেঁচে নেই কেউই। নিহতদের স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে বাতাস। প্রিয়জনের লাশ শনাক্ত করতে হাসপাতালের মর্গের সামনে ভিড় করছেন তারা। তবে ভয়াবহ এই দুর্ঘটনায় মরদেহ শনাক্ত করতে হিমশিম খাচ্ছে কর্র্তৃপক্ষ। তাই ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে মরদেহ শনাক্ত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো।

এদিকে, দুর্ঘটনার শিকার উড়োজাহাজটির ব্ল্যাকবক্স উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার এক বিবৃতিতে ভারতের এয়ারক্রাফট অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো (এএআইবি) জানায়, গুজরাট সরকারের ৪০ জন সদস্যের সহায়তায় ব্ল্যাকবক্সটি উদ্ধার করা হয়েছে। এটি ঘটনাস্থলের কাছেই এক চিকিৎসকদের হোস্টেলের ছাদ থেকে পাওয়া গেছে। ব্ল্যাকবক্সে বিমানের গতি, উচ্চতা, ইঞ্জিনের পারফরম্যান্স, ককপিটের কথোপকথনসহ গুরুত্বপূর্ণ ডেটা রেকর্ড থাকে। সাধারণত এটি উজ্জ্বল কমলা রঙের হয়, যেন ধ্বংসস্তূপের মধ্যেও সহজে শনাক্ত করা যায়। এই বিধ্বস্ত বোয়িং ড্রিমলাইনারটি ১২ বছর আগে তৈরি হয়েছিল। দুর্ঘটনায় পড়ার সময় এতে ২৪২ জন যাত্রী ছিলেন, যাদের মধ্যে কেবল একজন ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিক প্রাণে বেঁচেছেন। টাটা গ্রুপের চেয়ারম্যান এন চন্দ্রশেখর জানান, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে ভারত, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের তদন্তকারীরা ইতিমধ্যে ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন।

এদিকে, উড়োজাহাজটির দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পাশাপাশি উড়োজাহাজের একমাত্র জীবিত আরোহীর সঙ্গে দেখা করতে হাসপাতালে যান তিনি। ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতির বিষয়ে কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানায়, সর্দার বল্লবভাই প্যাটেল বিমানবন্দরে নেমেই মেঘানিনগরের কাছে দুর্ঘটনাস্থলে চলে যান মোদি। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী ভুপেন্দ্র প্যাটেল। কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান পরিবহনমন্ত্রী রামমোহন নাইডু কিঞ্জারাপু, কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী মুরলীধর মোহোল এবং রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হর্ষ সাংঘভি। এরপর সেখান থেকে অলৌকিকভাবে বেঁচে যাওয়া উড়োজাহাজটির যাত্রী রমেশ কুমার বিশ্বাসের সঙ্গে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। পাশাপাশি লোকালয়ে বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার কারণে যারা জখম হয়েছেন, তাদের সঙ্গেও দেখা করেন।

উড়োজাহাজটি আছড়ে পড়ার ঘটনায় নিখোঁজ লোকজন ও বিমানের যন্ত্রাংশের খোঁজে তল্লাশি অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা। বিমানটিতে মোট ২৪২ জন আরোহী ছিলেন। এর মধ্যে ২১৭ জন প্রাপ্তবয়স্ক, ১১ শিশু এবং ২ জন নবজাতক ছিল। বৃহস্পতিবার দুর্ঘটনার পরই ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ও বেসামরিক বিমান পরিবহনমন্ত্রী রাম মোহন নাইডু কিঞ্জারাপু। তিনি জানান, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে কেন্দ্র সরকার।