কানাডার ক্যালগেরির ক্লাব ক্যাভালরি এফসির হয়ে মাঠে নামলেন শমিত সোম। পেশাদার ফুটবলার হিসেবে এই তো তার প্রতিদিনের কাজ। তবে এবার মাঠে নামার মুহূর্তটা ছিল একটু আলাদা। কারণ তার গায়ে ছিল বিশেষ এক জার্সি, বুকের বাঁ পাশে লাল-সবুজে আঁকা বাংলাদেশের পতাকা।
শুধু শমিতই নন, ক্যাভালরি এফসির প্রতিটি খেলোয়াড়ই পরেছিলেন সেই জার্সি। তবে সবার বুকে ছিল আলাদা দেশের পতাকা—যার যার শিকড়ের প্রতি সম্মান জানাতেই ক্লাবটির এই অনন্য উদ্যোগ। আন্তর্জাতিকতা আর বৈচিত্র্যের বার্তা দিতেই তৈরি হয়েছিল এই 'হেরিটেজ জার্সি'।
কানাডার হয়ে অনূর্ধ্ব-২৩ পর্যায়ে খেললেও ফিফার অনুমোদিত 'ওয়ান টাইম সুইচ'-এর মাধ্যমে শমিত এখন বাংলাদেশের জাতীয় দলের অংশ। তার কানাডায় বেড়ে ওঠা হলেও ফুটবল-পরিচয়ের সঙ্গে জুড়ে গেছে জন্মভূমি তথা শিকড়ের দেশ বাংলাদেশ—যার প্রতীকী বহিঃপ্রকাশ ঘটল এই জার্সির মাধ্যমে।
ক্যাভালরি এফসি সবসময়ই পরিচিত বহুজাতিক স্কোয়াড গঠনের জন্য। সেই আন্তর্জাতিক বৈচিত্র্যকে সম্মান জানাতেই ক্লাবটি বিশেষ জার্সি প্রবর্তন করে। যে জার্সিতে ঘানার, কোরিয়ার, ট্রিনিডাড অ্যান্ড টোব্যাগোর মতো বিভিন্ন দেশের পতাকার পাশে গর্বের সঙ্গে উড়েছে বাংলাদেশের পতাকাও।
সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে শমিত সোমের সেই ছবিগুলো। দূর কানাডায়, বিদেশি এক ঘরোয়া লিগে বাংলাদেশি এক ফুটবলারের বুকে জাতীয় পতাকা দেখে আবেগে ভেসেছেন অনেক ভক্ত। তাদের কণ্ঠে একই সুর—'বাংলাদেশকে এইভাবে প্রতিনিধিত্ব করতে দেখে গর্ব হয়।'
আন্তর্জাতিক ফুটবলে জাতীয় দলের হয়ে মাঠে নামার অপেক্ষায় থাকা শমিত সোম এখন ক্লাব পর্যায়ে যেমন পারফর্ম করছেন, জাতীয় দলেও তেমনি আলো ছড়ানোর স্বপ্ন দেখছেন। আর তার শুরুটা যেন হয় এই পতাকার সম্মানে, বুকের বাঁ পাশে যেটি শোভা পাচ্ছে গর্বের প্রতীক হয়ে।
কাল ক্যাভালরি এফসি খেলতে নেমেছিল ওয়ান্ডারার্সের বিপক্ষে। ম্যাচটিতে শুরুতে পিছিয়ে পড়েছিল ক্যাভালরি। শুরুর একাদশে ছিলেন না শমিত। ৬৭ মিনিটে তিনি নামেন মাঠে। আর ৬৯ মিনিটে এলবার গোলে সমতায় ফিরে দল। তাতে ১-১ গোলে ড্র করে মাঠ ছাড়েন শমিতরা।