কারাগারে হাজতির মৃত্যু, গলায় ক্ষত দেখে সন্দেহ পরিবারের

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে মৃত্যু হওয়া সাইদুর রহমান সুজনের মৃত্যুর বিষয়ে সন্দেহপোষণ করেছে তার পরিবার। রবিবার বিকেলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে সুজনের মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। এরপর স্বজনরা লাশ বুঝে নেন।

এ সময় নিহতের বড় ভাই মেরাজ মাতবর বলেন, দুপুরে কারাগার থেকে ফোন করে সুজনের বিষয়ে জানানো হয় আমাদের। তবে তখনও তার মৃত্যুর বিষয়টি গোপন করে তারা। শুধু বলে, আপনারা হাসপাতালে আসুন। এরপর বিকেলে এসে সুজনের মরদেহ দেখতে পাই।

তিনি বলেন, সুজনের গলায় ক্ষত রয়েছে। থুতনিতেও ক্ষত। বিষয়টি আমাদের কাছে সন্দেহজনক মনে হচ্ছে। এজন্য সুরতহাল প্রস্তুতের সময় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকেও বিষয়টি বলেছি।

সাভারের বিরুলিয়া ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকে নির্বাচনে পাশ করার পর ২০১৬-২১ সাল পর্যন্ত চেয়ারম্যান হিসেবে ছিলেন তিনি। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসের ২০ তারিখ তাকে উত্তরা এলাকা থেকে আটক করা হয়। পরে কয়েকটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখায় পুলিশ। ২ ছেলের জনক তিনি। স্ত্রী রোকসানা বেগম গৃহিণী। থাকতেন সাভার কাকার বিরুলিয়া এলাকায়। তার বাবার নাম মৃত আতাউল্লাহ মাতবর।

মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেন শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) কামাল উদ্দিন মিয়া। তিনি উল্লেখ করেন, মরদেহের থুতনিতে ছিলা, ঘারের ডান পাশে কালচে দাগ ও ডান হাতের কনুইতে ছিলা রয়েছে।

এর আগে, রবিবার (১৫ জুন) সকাল ১১টার দিকে সেখান থেকে অচেতন অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসা হয়। এরপর চিকিৎসক পরিক্ষা নিরীক্ষা করে বেলা সাড়ে ১২টার দিকে মৃত ঘোষণা করেন।

কারাসূত্রে জানা যায়, ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে আটক এই বন্দির বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মামলাসহ মোট ১৫টি বিচারাধীন মামলা রয়েছে। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সূর্যমুখী ভবনের একটি সাধারণ কক্ষে তার ব‍্যবহৃত গামছা দিয়ে তিনি আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে কারা হাসপাতালে এবং পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।