হাজার হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ ও পাচারের মামলার আসামি প্রশান্ত কুমার হালদার বা পি কে হালদারের প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের আমানতকারীরা টাকা ফেরতের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন। গতকাল রবিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের মাওলানা মোহাম্মদ আকরম খাঁ হলে চার দফা দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের ব্যক্তি-আমানতকারী ফোরাম।
জানা গেছে, দুর্নীতি দমন কমিশন বা দুদক পি কে হালদার এবং তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে ৩৪টি মামলা করেছিল। এসব মামলায় তাদের বিরুদ্ধে কয়েক হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগ আনা হয়। পি কে হালদারের লুটপাটের প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ইন্টারন্যাশনাল লিজিং একটি।
সংবাদ সম্মেলনে ফোরামের সমন্বয়ক তাসদিক আহমেদ লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। আমানতকারীদের চার দফা দাবির মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের ব্যক্তি আমানতকারীদের বক্তব্য শোনার ব্যবস্থা করা; লুট ও পাচার হয়ে যাওয়া অর্থ দ্রুত উদ্ধারের জন্য পি কে হালদারকে অবিলম্বে আইনি হেফাজতে দেশে ফেরত আনা; সাত বছরেরও অধিক সময় ধরে ব্যক্তি আমানতকারীদের আটকে থাকা আমানতের ব্যাপারে বাংলাদেশ সরকারের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য ও সুস্পষ্ট পদক্ষেপ এবং এনবিএফআই (অ-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠান) খাতকে গুরুত্ব দিয়ে ব্যাংক খাতের সঙ্গে একই সময় সংস্কার এবং আমানতকারীদের স্বার্থ সর্বাগ্রে রক্ষা করার দাবি।
ফোরামের সমন্বয়ক তাসদিক আহমেদ বলেন, পি কে হালদার যখন ২০১৫ সালে ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের নিয়ন্ত্রণ নেন, তখন এটি একটি ভালো আর্থিক প্রতিষ্ঠান ছিল। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর এস কে সুর ও মহাব্যবস্থাপক শাহ আলম সরাসরি জনসাধারণের আমানত লুটপাটে এই গোষ্ঠীকে সহায়তা করেছেন। এর ফলে আমানতকারীরা সাত বছর ধরে তাদের আমানত ফেরত পাচ্ছেন না।
বাংলাদেশ ব্যাংক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আট মাস ধরে বাংলাদেশ ব্যাংকের বর্তমান গভর্নরের সঙ্গে আমরা দেখা করার চেষ্টা করছি। একাধিকবার চিঠি, ইমেইলসহ নানাভাবে যোগাযোগের চেষ্টা করার পরও তিনি আমাদের সঙ্গে দেখা করছেন না। আমরা ব্যক্তি আমানতকারীরা গভর্নরের সঙ্গে দেখা করে আমাদের দাবি ও বক্তব্য পেশ করতে চাই।’
তাসদিক আহমেদ বলেন, ‘ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ে প্রায় ১ হাজার ৪৭০ জন ব্যক্তি আমানতকারীর সঞ্চয় ছিল। অনেকের আজীবনের সঞ্চয় সেখানে রাখা হয়। সাত বছর ধরে সেসব টাকা আটকে আছে। আমার নিজের ২০ লাখ টাকার বেশি আমানত রয়েছে। কারও কারও ১ কোটি টাকার বেশি আমানত ছিল।’
সংবাদ সম্মেলনে ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের ব্যক্তি-আমানতকারী ফোরামের সভাপতি বাদল নন্দী, আহ্বায়ক কামরুজ্জামান কামাল ও প্রতিষ্ঠানটির আমানতকারীরা উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও অর্থ পাচারের মামলায় বাংলাদেশে ২২ বছরের কারাদ-প্রাপ্ত প্রশান্ত কুমার হালদারকে (পি কে) জামিন দিয়েছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের আদালত। ২০২৪ সালের ২০ ডিসেম্বর কলকাতার সিবিআই আদালতের বিচারক তার জামিন মঞ্জুর করেন।
এর আগে ২০২৩ সালের অক্টোবরে বাংলাদেশের আদালতে দুর্নীতির দায়ে ১০ বছর ও অর্থ পাচারের দায়ে ১২ বছর, মোট ২২ বছরের কারাদ- দিয়েছে পি কে হালদারকে। তার বিরুদ্ধে সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ এবং পাচারের অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে ৩৪৮ কোটি টাকা জরিমানাও করা হয়। আদালতের রায়ে পি কে হালদার ছাড়াও আরও ১৩ আসামিকে এই দুই মামলায় সাত বছরের কারাদ- দেওয়া হয়েছিল।