প্রথমবারের মতো ঢাকায় জাতিসংঘের গুমবিষয়ক কমিটি

বাংলাদেশে গুমের ঘটনা নিয়ে তদন্ত ও পর্যবেক্ষণের দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টার পর অবশেষে প্রথমবারের মতো ঢাকায় এসেছে জাতিসংঘের গুমবিষয়ক ওয়ার্কিং গ্রুপ অন এনফোর্সড অর ইনভলান্টারি ডিজ-অ্যাপিয়ারেন্স (ডব্লিউজিইআইডি)। গতকাল রবিবার গ্রুপটির দুই সদস্যের একটি কারিগরি প্রতিনিধিদল ঢাকায় পৌঁছায়।

প্রতিনিধিদলের সদস্যরা হলেন ওয়ার্কিং গ্রুপের ভাইস চেয়ার গ্রাজিনা বারানোস্কা এবং সদস্য আনা লোরেনা ডেলগাদিলো পেরেজ। তারা চার দিনের সফরে এসেছেন এবং ১৮ জুন ঢাকা ত্যাগ করবেন।

২০১৩ সালের ১২ মার্চ প্রথমবার বাংলাদেশ সফরের জন্য অনুরোধ জানায় ডব্লিউজিইআইডি। এরপর একাধিকবার আগ্রহ প্রকাশ করলেও তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার কোনো সাড়া দেয়নি। সর্বশেষ ২০২০ সালের ২৪ এপ্রিল তারা আবার অনুরোধ জানায়। তবে এবার অন্তর্বর্তী সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের সফরের অনুমতি দিয়েছে।

সূত্র জানায়, সফরকালে প্রতিনিধিদলটি সরাসরি কোনো তদন্ত পরিচালনা করছে না। বরং তারা বাংলাদেশের গুম পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন করবে এবং প্রয়োজনীয় সুপারিশ তৈরি করবে। এ ছাড়া গুমবিষয়ক কমিশনের সদস্য, আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিনিধিসহ গুমের শিকার পরিবারের সঙ্গে মতবিনিময় করবে তারা। একই সঙ্গে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের আলোচনাতেও অংশ নেবে প্রতিনিধিদলটি।

গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস দায়িত্ব নেওয়ার পর জাতিসংঘের গুমবিরোধী আন্তর্জাতিক সনদে সই করে বাংলাদেশ। আন্তর্জাতিক ‘গুম প্রতিরোধ দিবস’-এর এক দিন আগে সনদে সই করে ঢাকা। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ বিশ্বের ৭৬তম দেশ হিসেবে সনদটিতে যুক্ত হয়।

২০০৬ সালের ডিসেম্বরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে সনদটি গৃহীত হয়। দক্ষিণ এশিয়ায় এর আগে শুধু শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপ সনদে অনুস্বাক্ষর করেছে। ভারত এটি সই করলেও এখনো অনুস্বাক্ষর করেনি।

ডব্লিউজিইআইডির সর্বশেষ তথ্যমতে, বাংলাদেশে ৭০টি গুমের ঘটনা এখনো অনিষ্পন্ন। ৮৮ জনের বিষয়ে তথ্য চাওয়া হয়েছিল। তাদের মধ্যে ৫ জন আটক ও ১০ জন মুক্ত অবস্থায় রয়েছেন।