গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি বিভাগে জরুরি ভিত্তিতে যে সকল রোগী ভর্তি হন তাদের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ও জটিল রোগী হচ্ছেন পরিপাকতন্ত্রের রক্তক্ষরণে আক্রান্ত রোগীরা। যদি এই রক্তক্ষরণ দ্রুত ও বেশি পরিমাণে ঘটে, তবে তা জীবনহানির কারণও হতে পারে। এমতাবস্থায় রোগীকে জরুরি এন্ডোস্কপি সেবা দেওয়া অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়ে।
সম্প্রতি এভারকেয়ার হাসপাতাল ঢাকার কার্ডিয়াক ক্যাথ ল্যাবে এমনই এক জটিল পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয়। ৬৫ বছর বয়সী একজন রোগী হার্ট এটাকের পর করোনারি এনজিওগ্রামের সময় স্ট্যান্ট বসানোর আগেই হঠাৎ করে প্রচণ্ড রক্ত বমি শুরু করেন। অবস্থা গুরুতর দেখে রোগীকে দ্রুত সিসিইউতে নিয়ে আসা হয় এবং আমাকে রেফার দেওয়া হয়।
আমি দ্রুত এন্ডোস্কোপি কমপ্লেক্স থেকে প্রয়োজনীয় এন্ডোস্কোপ মেশিন ও এক্সেসরিজ নিয়ে আমার টিম সহ সিসিইউতে পৌঁছে যাই। রোগীর অবস্থা পর্যবেক্ষণের পর সিডেশন দিয়ে জরুরি এন্ডোস্কপি শুরু করি। এন্ডোস্কপির সময় দেখি প্রচুর রক্ত উপরের দিকে উঠছে যা রোগীর শ্বাসনালিতে ঢুকে পড়ার আশঙ্কা তৈরি করছে। এমন বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে সঙ্গে থাকা কার্ডিয়াক অ্যানেস্থেটিস্ট দ্রুত রোগীকে এন্ডোট্র্যাকিয়াল ইন্টিউবেশন করে শ্বাসনালির প্রবেশপথ বন্ধ করে কৃত্রিম ভেন্টিলেশনের ব্যবস্থা করেন।
এরপর এন্ডোস্কোপ প্রবেশ করিয়ে ধৈর্য ধরে সেলাইন দিয়ে রক্ত তরল করে সাকশন দিয়ে পরিষ্কার করা হয়। তখন আমি দেখতে পাই খাদ্যনালীর বা ইসোফেগাসের একেবারে নিচের অংশে একটি গভীর ও লম্বা ক্ষত (লিনিয়ার ডিপ টিয়ার) থেকে অনবরত রক্তপাত হচ্ছে। ক্ষতের পাশে রক্ত জমাটও দেখা যায়। বিন্দুমাত্র দেরি না করে আমরা ঐ ক্ষতের ওপর ৪টি মেটালিক ক্লিপ লাগিয়ে দিই। সৌভাগ্যক্রমে তৎক্ষণাৎ রক্তক্ষরণ বন্ধ হয়ে যায় এবং রোগীর অবস্থা দ্রুত উন্নতির দিকে যায়। পরদিন রোগীর ইনটিউবেশন টিউব সরিয়ে ফেলা হয় এবং তিনি নিজেই স্বাভাবিকভাবে শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে শুরু করেন।
তিন দিন পর ফলোআপ এন্ডোস্কপিতে আমি সেই ক্ষতের ওপর আরও একটি মেটালিক ক্লিপ লাগিয়ে দিই এবং তারপর রোগী সম্পূর্ণ সুস্থ অবস্থায় হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরে যান। আমি আত্মবিশ্বাস এর সাথে বলতে পারি যে, এভারকেয়ার হসপিটাল ঢাকার আধুনিক প্রযুক্তি, জরুরি প্রস্তুতি এবং দক্ষ টিমের সহযোগিতায় আমরা জটিল গ্যাস্ট্রোইনটেস্টিনাল রক্তক্ষরণের চিকিৎসা সফলভাবে করতে পারি। এমন উন্নত এন্ডোস্কপিক চিকিৎসা সাধারণত আমরা শুধুমাত্র উন্নত বিশ্বের উন্নত মেডিকেল সেন্টার বা ওয়ার্কশপেই দেখে থাকি।
সময় মতো সঠিক সিদ্ধান্ত ও চিকিৎসা দিয়ে আমরা রোগীকে আকস্মিক মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরিয়ে আনতে পেরেছি। এভারকেয়ার হসপিটাল ঢাকা কর্তৃপক্ষ ও আমার এন্ডোস্কোপি টিমের সদস্যবৃন্দ এবং কার্ডিওলজি টিমের সকল সহকর্মীদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ।
লেখক: ডা. ইকবাল মূশের্দ কবির, সিনিয়র কনসালটেন্ট গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল, লিভার ডিজিজ এবং মেডিসিন এভারকেয়ার হসপিটাল ঢাকা।