ঢাবির বাজেটে উপেক্ষিত গবেষণা খাত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য ১ হাজার ৩৫ কোটি ৫৪ লাখ টাকার প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপন করা হয়েছে। এতে গবেষণা খাতে বরাদ্দ মাত্র ২১ কোটি ৫৭ লাখ টাকা, যা মোট বাজেটের ২ দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ। এই নগণ্য বরাদ্দ দেশের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা ও উদ্ভাবনের প্রয়োজনের সঙ্গে সামঞ্জস্যহীন। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের আব্দুল মতিন ভার্চুয়াল ক্লাসরুমে কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বাজেট উপস্থাপন করেন।

প্রস্তাবিত বাজেটে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) থেকে পাওয়া যাবে ৮৮৩ কোটি ৪ লাখ টাকা, আর বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব আয় থেকে আসবে ৯০ কোটি টাকা। এতে ঘাটতি থাকবে ৬২ কোটি ৪১ লাখ টাকা, যা মোট বাজেটের ৬ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ। গত ১৬ জুন সিন্ডিকেটের বৈঠকে এই বাজেট অনুমোদিত হয়। গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাজেট ছিল ৯৪৫ কোটি ১৫ লাখ টাকা, যেখানে গবেষণায় বরাদ্দ ছিল ২০ কোটি ৭ লাখ টাকা (২ দশমিক ১২ শতাংশ)। এ বছর বাজেটের আকার বাড়লেও গবেষণা খাতে বরাদ্দ তুলনামূলকভাবে অপ্রতুল রয়েছে।

কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের জ্ঞান সৃষ্টির কেন্দ্র। কিন্তু শিক্ষকদের গবেষণার জন্য পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ করতে পারছি না। বর্তমান যুগে টিকে থাকতে উদ্ভাবন অপরিহার্য, যা প্রচুর বিনিয়োগ ছাড়া সম্ভব নয়। ২১ কোটি ৫৭ লাখ টাকা গবেষণার জন্য অপ্রতুল।’

তিনি জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ে ২ হাজারের বেশি শিক্ষক রয়েছেন। এই সীমিত বরাদ্দে মৌলিক গবেষণা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, ‘বিশ্ব র‌্যাঙ্কিং উন্নয়নে গবেষণা ও উদ্ভাবনের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো জরুরি। এই খাতে বরাদ্দ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ালে কাক্সিক্ষত ফল পাওয়া যাবে।’