রাজবাড়ী জেলার সরকারি স্বাস্থ্যসেবা খাতে চলছে তীব্র চিকিৎসক সংকট। জেলার পাঁচটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও সদর হাসপাতাল মিলিয়ে ১৫৯টি চিকিৎসকের পদের মধ্যে ৭৩টি শূন্য এবং আরও ১৭ জন চিকিৎসক ঢাকাসহ অন্যান্য স্থানে সংযুক্তিতে থাকায়, মোট ৫৭ শতাংশ পদে চিকিৎসক অনুপস্থিত।
এই সংকটের কারণে পাংশা ও বালিয়াকান্দি উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে অপারেশন থিয়েটার। অস্ত্রোপচার করার যন্ত্রপাতি ও অবকাঠামো থাকলেও নেই প্রয়োজনীয় জনবল, বিশেষ করে অ্যানেসথেসিয়া চিকিৎসক। ফলে জরুরি সেবা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ।
রাজবাড়ী সদর হাসপাতালসহ উপজেলার চিকিৎসা কেন্দ্রগুলোতে চিকিৎসক সংকটের কারণে রোগীদের ঢাকায় অথবা ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠাতে হয়, যেখানে সময়ক্ষেপণের কারণে অনেক রোগীর মৃত্যু হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
রাজবাড়ীর সিভিল সার্জন এস.এম. মাসুদ জানান, চিকিৎসক সংকট এবং সংযুক্তিতে অন্যত্র থাকা চিকিৎসকদের কারণে সেবা কার্যক্রমে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে। বিশেষ করে পূজা কিংবা ঈদের মতো ছুটির মৌসুমে চিকিৎসা প্রদান কার্যক্রমে ধাক্কা লাগে।
পাংশা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. এবাদত হোসেন বলেন, ৩১ পদের বিপরীতে কর্মরত মাত্র ৯ জন চিকিৎসক দিয়ে প্রতিমাসে ১২-১৪ হাজার রোগীকে সেবা দিতে হয়। এ অবস্থায় কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
বালিয়াকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. ফারুক হোসেনও জানান, তাদের এখানে ২৮টি পদের মধ্যে চিকিৎসক রয়েছেন মাত্র ৯ জন। অস্ত্রোপচারের সব সরঞ্জাম থাকলেও অ্যানেসথেসিয়া চিকিৎসক না থাকায় অপারেশন কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।
এদিকে স্বাস্থ্যসেবায় লবিংয়ের মাধ্যমে সংযুক্তির অভিযোগ উঠেছে বেশ কয়েকজন চিকিৎসকের বিরুদ্ধে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্বাস্থ্য কর্মকর্তা জানান, অনেক চিকিৎসক প্রভাবশালী মহলের সুপারিশে জেলা বা উপজেলা ছাড়াই ঢাকায় সংযুক্তি নিয়ে চলে যান। ফলে স্থানীয় পর্যায়ে চিকিৎসা ব্যবস্থায় ধস নামে।
এ বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) এ বি এম আবু হানিফ জানিয়েছেন, রাজবাড়ীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সংযুক্ত চিকিৎসকদের তালিকা ও কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করা হবে। অপ্রয়োজনীয় সংযুক্তি পাওয়া গেলে তা বাতিল করে চিকিৎসক সংকট নিরসনে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
সচেতন নাগরিকরা বলছেন, সংযুক্তি প্রথার অপব্যবহার বন্ধ না হলে এবং দ্রুত শূন্যপদ পূরণ না হলে রাজবাড়ীতে সরকারি স্বাস্থ্যসেবা কার্যত ভেঙে পড়বে।