কোন দল চালকের আসনে বলা কঠিন, সালাহউদ্দিন

দুই দিন ব্যাট হাতে দাপট দেখালেও গলের প্রথম টেস্টে এখনও বাংলাদেশকে ‘চালকের আসনে’ বলতে রাজি নন মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন। দলের সিনিয়র সহকারী কোচের মতে, ম্যাচ এখনো রয়েছে ভারসাম্যের মাঝামাঝি।

দ্বিতীয় দিন শেষে বাংলাদেশের স্কোর ৪৮৪/৯। একসময় স্কোর ছিল ৪৫৮/৪—দৃঢ় অবস্থান। সেখান থেকে শেষ এক ঘণ্টায় মাত্র ২৫ রানে হারিয়েছে পাঁচ উইকেট। তার আগেই সেঞ্চুরি তুলে নিয়ে গেছেন মুশফিকুর রহিম (১৬৩) ও নাজমুল হোসেন শান্ত (১৪৮)। লিটন দাস ফিরেছেন সাবলীল এক ৯০ রানে। কিন্তু দিনের শেষভাগে শ্রীলঙ্কার রিভার্স সুইংয়ে হঠাৎই পথ হারায় সফরকারীরা।

দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষের পর সংবাদ সম্মেলনে সালাহউদ্দিন বলেন, ‘কোন দল চালকের আসনে আছে, এখনই বলা কঠিন। প্রতিটি সেশন কে জিতছে, সেটা দেখেই বোঝা যাবে। প্রথম দিন প্রথম সেশন আর আজকের শেষ সেশনে আমরা ভালো করিনি। এখন চেষ্টা করব বাকি সময়টা সেশন ধরে ধরে জিতে ম্যাচ নিয়ন্ত্রণে রাখতে।’

সফরকারীদের টপ ও মিডল অর্ডার ব্যাটারদের বড় জুটিগুলোর প্রশংসা করলেও সলাহউদ্দিন মনে করেন, আরও বড় সংগ্রহ গড়ার সুযোগ ছিল বাংলাদেশের সামনে।

তিনি বলেন, ‘প্রথম দুই সেশনে আমরা সত্যিই দারুণ ব্যাট করেছি। তবে শেষ দিকে আরও ভালো করা যেত। যদিও স্কোর এখনও খারাপ নয়। এখন ভালো বল করলে ম্যাচটা আমাদের দিকেই ঘুরে যাবে।’

শেষ সেশনে মিলন রত্নায়েকে দিয়ে শুরু, এরপর আসিথা ফার্নান্ডোর ধারাবাহিক আঘাতে দিশেহারা হয়ে পড়ে বাংলাদেশের ব্যাটিং। সালাহউদ্দিন বলেন, ‘ওরা বলটা ভালোভাবে মেইনটেইন করেছিল, রিভার্স সুইং পেয়েছে। আমরাও যদি সেটা করতে পারি, তাহলে আমাদের ফাস্ট বোলাররাও কাজে লাগাতে পারবে।’

লিটনের ফর্মে ফেরা ও সমালোচনার মুখে শান্তর দৃঢ় মানসিকতাকে বিশেষভাবে প্রশংসা করেছেন এই কোচ, ‘শান্ত কঠিন মানসিকতার ছেলে। এত সমালোচনা, ট্রোলের পরও ধৈর্য্য হারায়নি। এটা অনেকের পক্ষেই সম্ভব নয়। লিটনও অনেক দিন রান পাচ্ছিল না। আজ যে ব্যাটিংটা করেছে, তা ড্রেসিংরুমের জন্য ইতিবাচক ইঙ্গিত।’

তৃতীয় দিন সকালে ব্যাট করতে নামবেন হাসান মাহমুদ ও নাহিদ রানা। এখনও হাতে একটি উইকেট। এরপর বাংলাদেশ তাকিয়ে থাকবে পেসারদের দিকে—চাপ ফেরানোর প্রত্যাশায়। কারণ গলের উইকেট এখনও ব্যাটারদের সহায়ক হলেও বল পুরোনো হলে ফাস্টাররা বাড়তি কিছু আদায় করে নিতে পারেন—শেষ বিকেলের শ্রীলঙ্কার উদাহরণই যেন সেই বার্তা দিচ্ছে।