প্লাস্টিক পণ্যের উৎপাদন পর্যায়ে মূসক কমানোর দাবি

প্রস্তাবিত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটে প্লাস্টিকের তৈরি সব ধরনের টেবিলওয়্যার, কিচেনওয়্যার, গৃহস্থালী সামগ্রী উৎপাদন পর্যায়ে মূসকের হার কমানোর দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ প্লাস্টিক দ্রব্য প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক অ্যাসোসিয়েশন (বিপিজিএমইএ)। ব্যবসায়ীদের এ সংগঠনটির দাবি, স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত এসব পণ্যের মূসক ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করা উচিত, তা না হলেও দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির প্লাস্টিক পণ্য ব্যবহারকারীরা মূল্যবৃদ্ধির চাপে পড়বে।

গতকাল বুধবার রাজধানীর বিপিজিএমইএ কার্যালয়ে প্রস্তাবিত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটের ওপর আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি করেন বিপিজিএমইএ সভাপতি শামীম আহমেদ। এ সময় বিপিজিএমইএর সাবেক সভাপতি ও বর্তমান পরিচালনা পর্ষদের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

বিপিজিএমইএর সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, প্লাস্টিক পণ্যের উৎপাদন পর্যায়ে যে ১৫ শতাংশ মূসকের প্রস্তাব করা হয়েছে তা আমাদের তরফ থেকে ৫ শতাংশ আরোপের দাবি তোলা হয়। সংগঠনটি বলছে, মূসক ১৫ শতাংশ করা হলে তৃণমূল পর্যায়ের দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষ দুর্ভোগ পোহাবে।

লিখিত বক্তব্যে শামীম আহমেদ বলেন, প্লাস্টিকের তৈরি পণ্য আমদানিতে বেশ কিছু পণ্যে সম্পূরক শুল্কের (এসডি) হার ১০ শতাংশ ও ৫ শতাংশ হ্রাস করা হয়েছে। আমদানি বিকল্প দেশীয় উন্নত মানের প্লাস্টিকের তৈরি পণ্য স্থানীয় বাজারে সরবরাহ করে দেশের চাহিদা মিটিয়েও বিশে^র প্রায় ৫০টি দেশে রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা আহরণ করছে। এমতাবস্থায় প্রস্তাবিত ২০২৫-২০২৬ বাজেটে তৈরি প্লাস্টিক পণ্য আমদানিতে সম্পূরক শুল্ক হ্রাস করার প্রস্তাবটি প্রত্যাহারের প্রস্তাব করছি।

তিনি বলেন, স্থানীয় শিল্প প্রতিরক্ষণের স্বার্থে সম্পূরক শুল্ক উচ্চতর হারে বৃদ্ধি এবং সর্বোচ্চ হারে রেগুলার ডিউটি আরোপের প্রস্তাব করছি। বর্তমানে দেশে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন প্লাস্টিক পণ্য তৈরি হচ্ছে। অথচ পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত, চীনসহ অন্যান্য দেশ  থেকে নিম্নমানের কমদামি প্লাস্টিক পণ্যসমূহ আন্ডার ইনভয়েসের মাধ্যমে দেশে ঢুকছে। প্লাস্টিক পণ্যসমূহ যথা প্লাস্টিকের তৈরি হ্যাঙ্গার, ফার্নিচার, দরজা-জানালা,  ক্রেট, প্লাস্টিক প্যালেটস প্রভৃতি এসে স্থানীয় বাজার দখল করে দেশের প্লাস্টিক শিল্পকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

মূলধনী যন্ত্রপাতি ও যন্ত্রাংশ চিলার, প্লাস্টিক শিল্পে অপরিহার্য ও ব্যবহার্য যন্ত্রাংশ। সরকারের নীতি সহায়তায় এ সমস্ত মূলধনী উপকরণে আমদানি শুল্ক রেয়াতি সুবিধার আওতায় আমদানি হচ্ছে। ফলে দেশে দ্রুত শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে বলে জানায় বিপিজিএমইএ।