মাদারীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতাধীন পুরো জেলায় গত দেড় মাস ধরে নতুন বিদ্যুৎ মিটারের স্থাপন বন্ধ রয়েছে। ফলে আবেদন জমা দিয়ে মাসের পর মাস হয়রানির শিকার হচ্ছেন সাধারণ গ্রাহক। বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য মিটারের আবেদন করে জামানতের টাকা জমা দিয়েও মিটার পাচ্ছেন না গ্রাহকেরা। বিদ্যুতের মিটার চরম সংকটে এ অবস্থা তৈরি হয়েছে। এদিকে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ বলছে, চাহিদা অনুযায়ী মিটারের সরবরাহ না থাকায় নতুন সংযোগ দিতে সমস্যা হচ্ছে।
মাদারীপুর পল্লী বিদ্যুৎ অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে জেলার জন্য বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (বিআরইবি) কাছে ৫০ হাজার নতুন মিটারের চাহিদা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সেই তুলানায় মিটার পাওয়া যাচ্ছে না। গত দেড় মাসে সেবাপ্রত্যাশী প্রায় ২ হাজার গ্রাহক আবেদন করেছে। এর মধ্যে এক হাজার গ্রাহকের জামানতের টাকা জমা দেওয়া আছে। কিন্তু দেড় মাসেরও বেশি সময় ধরে বন্ধ রয়েছে বৈদ্যুতিক মিটারের সরবরাহ। এ কারণে নতুন এসব আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিদ্যুৎ সংযোগ মিলছে না।
মাদারীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কার্যালয়ে গিয়ে দেখা দেখা যায়, বেশ কয়েকজন আবেদনকারীর জটলা। এ সময় কথা হয় কয়েকজনের সঙ্গে। তাদের সবার মুখেই শোনা যায় ভোগান্তি ও হতাশার কথা। প্রতিনিয়ত তারা অফিসে আসছেন। নিজ দায়িত্বে অনলাইনে আবেদন করে মাসের পর মাস সংযোগ না পাওয়ায় অনেকেই দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন বলে জানান।
মিটারের জন্য আবেদনকারী কয়েকজন বলেন, নতুন সংযোগের জন্য দেড় মাস আগে এই অফিসের অনলাইনে আবেদন করা হয়েছে। এমনকি মিটারের জন্য টাকাও জমা দেওয়া হয়েছে। তখন থেকে প্রতি সপ্তাহে একবার করে অফিসে আসতে হচ্ছে। কিন্তু নতুন সংযোগ পাওয়া যাচ্ছে না।
তাসলিমা বেগম নামে একজন নতুন গ্রাহক বলেন, ‘আমি নতুন আবেদন করেছি। একবার মিথ্যা কারণ দেখিয়ে আবেদন বাতিল করা হয়েছে। এরপর আবার আবেদন করায় টাকা জমা দিতে বলেছে। এখন অফিসে এসে জানলাম, মিটার নেই।’
মাদারীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির শিবচর ডেপুটি জেনারেল ম্যানজার অভিলাষ চন্দ্র পাল, ‘আমার অফিসে মিটার সংকট রয়েছে। আমার চাহিদা রয়েছে তিন হাজার। কিন্তু মিটার পেয়েছি মাত্র ৩০০টি। এখনও জামানত জমা দেওয়া আছে ৫০০ গ্রাহকের।’
মাদারীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির টেকেরহাট ডেপুটি জেনারেল ম্যানজার আনসার উদ্দিন বলেন, ‘আমার মিটার চাহিদা রয়েছে এক হাজার ৫০০টি। এর মধ্যে নতুন সংযোগ রয়েছে ২৬৭টি। তাছাড়া মিটার পরিবর্তন করতে হবে এক হাজার ২০০টির। এদিকে মিটার পেয়েছি মাত্র ৩০০টি। তাই আপাতত নতুন সংযোগ দিতে পারছি না।’
মাদারীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডেপুটি জেনারেল ম্যানজার (কারিগরী) অসিত কুমার সাহা বলেন, ‘আমাদের পল্লী বিদ্যুতের মিটার সরবরাহ করে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (বিআরইবি)। পুরো জেলায় এই অর্থবছরে চাহিদা দেওয়া হয়েছে ৫০ হাজার মিটার। কিন্তু সেই অনুযায়ী মিটার সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে না। তবে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে এ ব্যাপারে আলোচনা চলছে। আশা করি, খুব শিগগিরই আমাদের চাহিদা অনুযায়ী মিটার পাবো এবং গ্রাহকদের আমরা নতুন সংযোগ দিতে পারবো।’