পুলিশের মামলার তদন্তে বিব্রত পুলিশ!

আন্দোলন দমাতে গিয়ে ছাত্র-জনতার ওপর নির্বিচারে হামলা ও গুলি চালিয়েছে আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর ঢাকাসহ সারা দেশেই সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে শুরু করে কনস্টেবলদের বিরুদ্ধে দুই হাজারের বেশি মামলা হয়েছে। এসব মামলার মধ্যে হত্যা মামলা রয়েছে ৬১২টির মতো। একেকজন পুলিশ সদস্যর বিরুদ্ধে গড়ে একশর বেশি মামলা হয়েছে থানা ও আদালতে। ওইসব মামলায় ১ হাজার ১৬৮ জন পুলিশ সদস্যকে আসামি করা হয়। মামলার মধ্যে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তদন্ত করছে আলোচিত ৬৮টি মামলা। পিবিআইর তদন্ত মামলায় ৯৯ জন পুলিশ কর্মকর্তা আসামি রয়েছেন। তাছাড়া সিআইডিসহ অন্য ইউনিটগুলোও অন্য মামলার তদন্ত চালিয়ে আসছে।

তদন্ত সূত্র জানায়, আসামির তালিকায় সাবেক আইজিপি থেকে শুরু করে কনস্টেবল পদমর্যাদার। মামলার তদন্ত করতে গিয়ে বিব্রত হচ্ছেন তদন্তকারী কর্মকর্তারাই। মামলার এজাহারের সঙ্গে অনেক কিছু মিল পাচ্ছেন না তারা। তদন্তে তথ্য এসেছে, পুলিশের কোনো কোনো কর্মকর্তা বা অন্য সদস্য ডিউটি করেছেন এক স্থানে কিন্তু মামলা হয়েছে আরেক স্থানে। আবার অনেকেই ঘটনাস্থলে ছিলেন না বলে দাবি করেছেন। এমন পরিস্থিতিতে মামলার তদন্তে ১৪ করণীয় নির্ধারণ করেছে তদন্ত তদারক সংশ্লিষ্টরা। সেখানে কারও ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা পাওয়া না গেলে তাদের ওই মামলা থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হবে বলে একটি সূত্র জানিয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা দেশ রূপান্তরকে জানায়, কোটা সংস্কার নিয়ে ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমন করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দমনপীড়ন চালায়। গুলিতে শিক্ষার্থী ও নিরীহ লোকজন, পুলিশ, আনসার সদস্যসহ হাজারের বেশি প্রাণ হারিয়েছেন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমাতে প্রথম থেকেই বিতর্কিত ভূমিকায় ছিলেন পুলিশের কিছু শীর্ষ কর্মকর্তা। আন্দোলনকারীদের হয়রানি, সমন্বয়কদের হেফাজতে নিয়ে নির্যাতনসহ নির্বিচারে গুলি করে ছাত্র-জনতা হত্যার নির্দেশদাতা বিতর্কিত ওইসব কর্মকর্তা এখন লাপাত্তা।

মামলার পরিসংখ্যান : থানা ও আদালতে যেসব মামলা হয়েছে সেখানে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এবং সাবেক পুলিশপ্রধান চৌধুরী আবদুুল্লাহ আল মামুনসহ শীর্ষ নেতা, মন্ত্রী, পুলিশ কর্মকর্তা ও আমলাদের বিরুদ্ধে হত্যাকা-ে প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগ আনা হচ্ছে। হত্যা মামলার মধ্যে ঢাকায় সর্বাধিক ৩৩৩টি মামলা হয়েছে। তাছাড়া ঢাকা রেঞ্জে ১৪৮টি, চট্টগ্রাম রেঞ্জে ২০টি, রাজশাহী রেঞ্জে ২২টি, সিলেট রেঞ্জে ১৫টি, জিএমপিতে ১৬টি, সিএমপিতে ১০টি, এসএমপিতে ৩টি, খুলনা রেঞ্জে ১০টি, রংপুর রেঞ্জে ৮টি, আরএমপিতে ৫টি এবং ময়মনসিংহ রেঞ্জে ৭টি মামলা রুজু হয়। মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার স্বার্থে প্রতিটি বিভাগীয় শহরে আইজিপি, স্বরাষ্ট্র সচিব ও অ্যাটর্নি জেনারেলের উপস্থিতিতে স্থানীয় রেঞ্জ ও মেট্রোপলিটনের তদন্ত কর্মকর্তা, পিপি, আইনজীবী ও বিচারকদের সমন্বয়ে কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছে। তদন্তকারী কর্মকর্তাদের সার্বক্ষণিক আইনগত পরামর্শ দিতে একজন অভিজ্ঞ আইন বিশারদকে অ্যাটর্নি জেনারেল পদমর্যাদার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে ‘স্পেশাল প্রসিকিউটোরিয়াল অ্যাডভাইজার’ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

তদন্তে পুলিশের ১৪ করণীয় : পুলিশের বিরুদ্ধে হওয়া মামলাগুলো সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করতে পুলিশ বেশ কিছু উদ্যোগ নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছেÑ ঘটনাস্থল এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত সমন্বয়কদের সঙ্গে আলোচনা করে ঘটনাস্থল পরিদর্শন, স্থানীয় সব আসামির ঠিকানায় অভিযান চালানো, আসামিদের গ্রেপ্তার, পরবর্তীকালে রিমান্ড, ঘটনাস্থলের সাক্ষী খুঁজে বের করা, অন্য মামলায় ধৃতদের শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো, অজ্ঞাতনামা আসামিদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার করা, ভিকটিমের জানাজার ইমাম এবং গোসল প্রদানকারীদের এবং স্থানীয় গণ্যমান্যদের সাক্ষ্যগ্রহণ, কাউন্সিলর অথবা চেয়ারম্যানদের কাছ থেকে ভিকটিমের মৃত্যু সনদ সংগ্রহ, সহযোদ্ধা ও হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া লোকদের সাক্ষ্যগ্রহণ, বিভিন্ন দপ্তরে আবেদনকৃত সব রিপোর্ট দ্রুত সংগ্রহ করা, বাদীর তথ্যদাতাদের সাক্ষ্যগ্রহণ, মামলার কার্যক্রমে যারা সহযোগিতা করেছেন ওইসব আসামি গ্রেপ্তার, গ্রেপ্তার ও তদন্তে তাদের সহযোগিতা নেওয়া, ভিকটিমের বাড়িতে গিয়ে বাদী ও ভিকটিমের পরিবারের লোকজনের সঙ্গে আলোচনা করা, যারা আসামি হয়েছেন তারা ঘটনার সময় কোথায় ছিলেন তা উদঘাটন করা।

এ ছাড়া মৌখিকভাবে আরও কিছু দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাদের। সেগুলো হচ্ছে মামলায় সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের কললিস্ট সংগ্রহ করা, কোন এলাকায় ওই পুলিশ কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করছিলেন তার সিসি (কমান্ড সার্টিফিকেট) সংগ্রহ করা, স্থানীয় সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ, বিভিন্ন টেলিভিশনে প্রচারিত ওইদিনের ফুটেজ সংগ্রহ করে বিশ্লেষণ করা ও বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত ছবি সংগ্রহ করা অন্যতম।

অভিযুক্ত ও ইন্ধনদাতারা বহাল তবিয়তে : আওয়ামী সরকারের পতন হলেও হত্যায় অভিযুক্ত ও ইন্ধনদাতা পুলিশ কর্মকর্তারা এখনো বহাল তবিয়তে। খুনের মামলায় অভিযুক্ত অনেক পুলিশ কর্মকর্তা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও তাদের ধরার কোনো উদ্যোগ নেই। অথচ পুলিশের অতিরিক্ত আইজি, ডিআইজি, অতিরিক্ত ডিআইজি ও এসপি, এএসপি, ইন্সপেক্টর, এসআই, এএসআই ও কনস্টেবলসহ বিভিন্ন পদমর্যাদার কর্মকর্তার বিরুদ্ধে জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের সময় ছাত্র-জনতাকে হত্যার অভিযোগে মামলা হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, অভ্যুত্থানের সময় যেসব পুলিশ কর্মকর্তা সদর দপ্তরের বিশেষ মনিটরিং সেল থেকে সারা দেশে ছাত্র-জনতার ওপর গুলি ও নিপীড়নের আদেশ দেওয়াসহ সমন্বয়ের কাজ করেছেন, ফ্যাসিবাদের সেসব দোসর পদায়ন পেয়ে নৌ-পুলিশ, এসবি, সিআইডি, পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের বিভিন্ন শাখায় কর্মরত রয়েছেন।

কললিস্ট সংগ্রহ করছেন তদন্তকারী কর্মকর্তারা : পিবিআইয়ের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে দেশ রূপান্তরকে বলেন, কললিস্ট সংগ্রহ করার উদ্দেশ্য হচ্ছে ঘটনার সময় তার সেখানে উপস্থিতি ছিল কি না, তা নিশ্চিত হওয়া, দায়িত্ব পালনের সিসি সংগ্রহ করা (কমান্ড সার্টিফিকেট) হচ্ছে ওইদিন তার কোন এলাকায় দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল তা নিশ্চিত হওয়া। কোনো কারণে ওই পুলিশ কর্মকর্তা তার মোবাইল ফোন বাসায় রেখে বা তার সিসি গোপন করে অন্য এলাকায় গিয়েছিলেন কি না, তা নিশ্চিত হওয়ার জন্য ওইসব এলাকার সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হচ্ছে। সেখানেও তার উপস্থিতি পাওয়া না গেলে বিভিন্ন টেলিভিশনে প্রচারিত ওইদিনের ফুটেজ সংগ্রহ করে বিশ্লেষণ ও বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত ছবি সংগ্রহ করা হচ্ছে। এরই মধ্যে কয়েকটি টেলিভিশনে ফুটেজ চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে বলেও ওই কর্মকর্তা জানান। তিনি জানান, সেখান থেকে কিছু ফুটেজও পাওয়া গেছে। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে বাদীর এজাহারে আসামির অবস্থান এক জায়গায় দেখানো হলেও বাস্তবে তার প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে না। এ নিয়ে বিপাকেও আছেন তদন্ত তদারক কর্মকর্তারা।

এজাহারে এক, তদন্তে আরেক রকমের তথ্য : পুলিশ সদর দপ্তরের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে মামলার তদন্ত হচ্ছে। কোনো আসামি ও বাদী ন্যায়বিচার থেকে যেন বঞ্চিত না হয়, সেদিকে বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে। তবে পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে হওয়া মামলাগুলো নিয়ে আমরা বেশি বিব্রত। কারণ এজাহারে বলা হয়েছে একরকম কিন্তু তদন্ত করে পেয়েছি আরেক রকম। যেমন গ-গোলের সময় ডিউটিতে ছিলেন এক জায়গায় কিন্তু মামলায় তথ্য দিয়েছে আরেক জায়গায়। এ ধরনের মামলার ঘটনাই বেশি।

তিনি আরও বলেন, শুধু পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে না অন্য মামলাতেও একই রকমের তথ্য আসছে। এ ক্ষেত্রে এসব মামলা আদালতে টেকানো কষ্টসাধ্য হয়ে পড়বে। তারপরও আমরা চেষ্টা করছি সুষ্ঠু তদন্ত করে চার্জশিট দিতে। যাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে না, তাদের বিষয়ে ফাইনাল রিপোর্ট দেওয়া হবে। নিরপরাধ কাউকে হয়রানি করা হবে না।

তিনি বলেন, পিবিআইতে জুলাই গণহত্যার গুরুত্বপূর্ণ মামলাগুলো পিবিআই, সিআইডি ও ডিবি তদন্ত করছে। ওইসব পুলিশ সদস্যের বিষয়ে গভীরভাবে তদন্ত করা হচ্ছে। যেন তারা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত না হয়। এ কারণে অনেক করণীয় নির্ধারণ করা হয়েছে। সেখানে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যের উপস্থিতি ও কর্মকা-ের যোগসূত্র পাওয়া না গেলে আদালতে তাকে মামলা থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হবে। পরে সিদ্ধান্ত নেবে আদালত। এ ক্ষেত্রে পিবিআই তার সপক্ষে সব ধরনের প্রমাণ আদালতে হাজির করবে। অন্য মামলাগুলোর ক্ষেত্রেও একই অবস্থা।

গুরুত্বপূর্ণ ৬৮ মামলা পিবিআইতে : পুলিশের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগের ৬৮টি মামলা চিহ্নিত করে পুলিশ সদর দপ্তর। পরে ওই মামলাগুলো পিবিআইকে তদন্ত করার নির্দেশ দেয়। তদন্ত শুরু একপর্যায়ে দেখা যায় বেশিরভাগ পুলিশ কর্মকর্তার দায়িত্ব এক জায়গায় থাকলেও তাকে অন্য একটি স্থানের ঘটনায় আসামি করা হয়েছে। এসব নিয়ে বিপাকে পড়ে পিবিআই। পরে তারা বিষয়টি নিয়ে বৈঠকে বসে। সেখানে ১৪ করণীয় নির্ধারণ করে তদন্ত এগিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। পিবিআই দেখতে পায় তাদের কাছে মামলায় ৯৯ জন পুলিশ সদস্যকে আসামির তালিকায় রাখা হয়েছে। তারা হচ্ছেন সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন, পিবিআইর সাবেক প্রধান বনজ কুমার মজুমদার, এসবির সাবেক প্রধান মো. মনিরুল ইসলাম, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ, সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি কৃষ্ণপদ রায়, সিআইডির সাবেক প্রধান মো. আলী মিয়া, সাবেক ডিআইজি রিপন সরদার, র‌্যাবের সাবেক প্রধান ড. মো. হারুন অর রশিদ, সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান, সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি ড. খ. মহিউদ্দিন, সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি আব্দুল বাতেন প্রমুখ।

কোন পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কয়টি করে মামলা : স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, জুলাই-আগস্ট আওয়ামী সরকার পতনের আন্দোলনে যেসব মামলা করা হয়েছে এর মধ্যে সাবেক আইজিপি হাসান মাহমুদ খন্দকারের বিরুদ্ধে সাতটি হত্যা মামলা, সাবেক আইজিপি এম সানাউল হকের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা, সাবেক আইজিপি জাবেদ পাটোয়ারীর বিরুদ্ধে দুটি হত্যা মামলা, সাবেক আইজিপি শহীদুল হকের বিরুদ্ধে ১৫টি হত্যাসহ ২১টি মামলা, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে ১১টি মামলা, সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের বিরুদ্ধে ১৫২ অধিক হত্যা মামলা, সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি নব বিক্রম ত্রিপুরার বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা, সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি হেমায়েত উদ্দিনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা, সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি মোখলেসুর রহমানের বিরুদ্ধে চারটি হত্যা মামলা, সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি আবদুস সালামের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা, সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি বিনয় কৃষ্ণ বালার বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা, সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি নওশের আলীর বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা, ডিএমপির সাবেক পুলিশ কমিশনার খন্দকার গোলাম ফারুকের বিরুদ্ধে দুটি মামলা, ডিএমপির সাবেক পুলিশ কমিশনার আসাদুজ্জামানের বিরুদ্ধে ছয়টি হত্যা মামলা, সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি মাহবুব হোসেনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা, সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি হুমায়ুন কবিরের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা, সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি আতিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে পাঁচটি হত্যা মামলা, সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি র‌্যাবের সাবেক ডিজি এম খুরশিদ হোসেনের বিরুদ্ধে ছয়টি হত্যা মামলা, সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি বনজ কুমার মজুমদারের বিরুদ্ধে ছয়টি হত্যা মামলা, এসবির সাবেক প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মনিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে ৩৫টি হত্যাসহ ৪৫টি মামলা, র‌্যাবের সাবেক ডিজি ব্যারিস্টার হারুন অর রশীদের বিরুদ্ধে ২০টি মামলা, সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি মীর রেজাউল আলমের বিরুদ্ধে তিনটি হত্যা মামলা, সিআইডির সাবেক প্রধান মো. আলী মিয়ার বিরুদ্ধে আটটি হত্যা মামলা, সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমানের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা, সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি দিদার আহম্মেদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা, সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি খন্দকার লুৎফুল কবিরের বিরুদ্ধে তিনটি হত্যা মামলা, পুলিশ সদর দপ্তরের সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি কৃষ্ণপদ রায়ের বিরুদ্ধে সাতটি হত্যাসহ নয়টি মামলা, সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি বশির আহমেদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা, ডিএমপির সাবেক পুলিশ কমিশনার হাবিবুর রহমানের বিরুদ্ধে ৯০টি হত্যাসহ ১১৭টি মামলা, এপিবিএনের সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি বর্তমানে পুলিশ সদর দপ্তরে কর্মরত সেলিম মোহাম্মদ জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা, ডিএমপির সাবেক অতিরিক্ত কমিশনার হাফিজ আক্তারের বিরুদ্ধে ১৪টি মামলা, ডিএমপির সাবেক অতিরিক্ত কমিশনার ড. খ. ম. মহিদ উদ্দিনের বিরুদ্ধে পাঁচটি মামলা, ডিএমপির সাবেক অতিরিক্ত কমিশনার আবদুল বাতেনের বিরুদ্ধে ছয়টি মামলা, সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি কামরুল আহসানের বিরুদ্ধে দুটি হত্যা মামলা, সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি ওয়াই এম বেলালুর রহমানের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা, সাবেক ডিআইজি মাহফুজুর রহমান নুরুজ্জামানের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা, সাবেক ডিআইজি আব্দুল জলিল ম-লের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা, সাবেক ডিআইজি মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা প্রমুখ।