সদ্যই ইউরোপের সেরা ক্লাব হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছে প্যারিস সেন্ট জার্মেই (পিএসজি)। ২০২৪-২৫ মৌসুমে উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে প্যারিসের ক্লাবটি ৫-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছিল ইন্তার মিলানকে। এরপর ক্লাব বিশ্বকাপেও শুরুটা দারুণ করেছিল লুইস এনরিকের দল। আতলেতিকো মাদ্রিদকে হারায় ৪-০ গোলের বড় ব্যবধানে। এবার সেই পিএসজিকে হারিয়ে চমক দেখাল ব্রাজিলের ক্লাব বোটাফোগো। ক্লাব বিশ্বকাপে ‘বি’ গ্রুপে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে বোটাফোগো ১-০ ব্যবধানে হারিয়েছে ইউরোপের বর্তমান সেরা ক্লাবটিকে।
তুলনা করলে শক্তি-সামর্থ্যে এগিয়ে থাকবে পিএসজি। মৌসুমে চার শিরোপা জেতা ক্লাবটিকে এবার ক্লাব বিশ্বকাপেও ফেভারিটদের তালিকায় রেখেছেন ফুটবল বিশেষজ্ঞরা। অথচ সেই দলকে হারিয়ে দিল এবার ব্রাজিলিয়ান লিগে ধুঁকতে থাকা দলটি। ব্রাজিলিয়ান লিগে পয়েন্ট তালিকায় বোটাফোগো আছে আট নম্বরে।
ক্যালিফোর্নিয়ার রোজ বোল-এ বল নিয়ন্ত্রণে রাখার লড়াইয়ে প্রত্যাশিতভাবেই একচেটিয়া দাপট ছিল পিএসজির। ম্যাচের ৭৫ শতাংশ সময় বল ছিল তাদের কাছেই। তবে গোলে ১৬ শট নিয়ে দুটি লক্ষ্যে রাখতে পারে পিএসজি। দুটিই ঠেকিয়ে দেন বোটাফোগোর গোলকিপার জন। তাতে গেল মার্চের পর প্রথমবার গোল করতে ব্যর্থ হলো পিএসজি। ম্যাচে বোটাফোগো গোলে শট নেয় চারটি। প্রতিটিই ছিল লক্ষ্যে। পিএসজির গোলকিপার দোন্নারুমা ঠেকিয়ে দেন তিনটি। বাকি একটিতেই কাজের কাজ হয়ে যায়। ম্যাচের একমাত্র গোলটি হয় ৩৬ মিনিটে। মাঝমাঠ থেকে দারুণ পাস বাড়ান জেফারসন সাভারিনো। পিএসজির দুই ডিফেন্ডারের মাঝে বল ধরে দারুণ গতিতে এগিয়ে দুজনকে ফাঁকি দিয়ে বক্সের একটু বাইরে থেকে কোনাকুনি শটে বল জালে পাঠান ব্রাজিলিয়ান স্ট্রাইকার ইগর জেসুস।
ম্যাচের পর বোটাফোগো কোচ রেনাতো পাইভা বলেন, ‘তারা (পিএসজি) দুর্দান্ত দল। আমি আগেই বলেছি, আধুনিক ফুটবলে পিএসজি সবার জন্য একটি উদাহরণ। আমি ছেলেদের বলেছিলাম, দল হয়ে খেলো, একসঙ্গে আক্রমণ করো, একসঙ্গে রক্ষণ করো এবং উপভোগ করো। ওরা সেটাই করেছে।’ প্রথম ম্যাচে সিয়েটল সাউন্ডার্সকে ২-১ গোলে হারিয়েছিল বোটাফোগো। টানা দুই জয়ে এখন ‘বি’ গ্রুপের শীর্ষে তারা। গ্রুপের আরেক ম্যাচে আতলেতিকো মাদ্রিদ ৩-১ গোলে হারিয়েছে সিয়েটলকে।