২০২৪ সালে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রাজনৈতিক আশ্রয় চেয়ে আবেদন করেছে ১ লাখ ৮ হাজার ১৩১ জন বাংলাদেশি। জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআরের তথ্য অনুযায়ী, গত সাত বছরের মধ্যে এটি সর্বোচ্চ সংখ্যা। শুধু রাজনৈতিক আশ্রয় নয়, একই বছরে ২৮ হাজার ৪৭৩ জন বাংলাদেশি শরণার্থী হিসেবে জাতিসংঘে নিবন্ধিত হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই উচ্চসংখ্যক আবেদন অনেকাংশে এসেছে ইউরোপ ও আমেরিকার দেশগুলো থেকে, যেখানে মানবিক কারণে অথবা রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে আশ্রয় পাওয়ার সুযোগ বাড়ছে।
প্রতি বছর বাড়ছে বাংলাদেশিদের শরণার্থী আবেদন। পরিসংখ্যান বলছে, ২০১৭ সাল থেকে প্রতি বছরই বাংলাদেশিদের শরণার্থী ও রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন বাড়ছে।
ইউরোপ-আমেরিকার অভিবাসন কাঠামোই এ বিষয়ে প্রধান আকর্ষণ বলে মনে করেন অভিবাসন গবেষক আসিফ মুনীর। তিনি বলেন, অনেকেই লাখ লাখ টাকা খরচ করে অবৈধভাবে ইউরোপে যান এবং দীর্ঘদিন অবস্থানের পর নিজেদের রাজনৈতিক নিপীড়নের শিকার বলে তুলে ধরেন এবং আশ্রয়ের আবেদন করেন। তিনি বলেন, ‘সিরিয়া, আফগানিস্তান বা মিয়ানমারের মতো যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের নাগরিকরা সহজে শরণার্থী হিসেবে গৃহীত হলেও বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রে বিষয়টি জটিল। ইউরোপের অনেক দেশ বাংলাদেশিদের অবৈধ অভিবাসী হিসেবে বিবেচনা করে, তবে মানবিক কারণে ফ্রান্স, ইতালি ও জার্মানি অনেক আবেদন মঞ্জুর করে।’
রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রভাব স্পষ্ট : ২০২৪ সালে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং সংশ্লিষ্ট অনিশ্চয়তা অনেককেই রাজনৈতিক আশ্রয়ের পথ বেছে নিতে উদ্বুদ্ধ করেছে। বিশেষ করে স্ক্যান্ডিনেভীয় দেশগুলোতে যেমন সুইডেন, নরওয়ে ও ডেনমার্কে অনেক বাংলাদেশি বর্তমানে শরণার্থী পরিচয়ে বসবাস করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা না ফিরলে ভবিষ্যতেও বিদেশে শরণার্থী ও রাজনৈতিক আশ্রয়ের প্রবণতা অব্যাহত থাকবে। অভিবাসন নীতির কড়াকড়ি এবং ইউরোপীয় জনমতের বিরূপতা সত্ত্বেও মানবিক আবেদন ও আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে অনেক আবেদন এখনো গৃহীত হচ্ছে।