মাগুরায় গণঅধিকার পরিষদ ছাড়লেন ‘শতাধিক’ নেতাকর্মী

স্বৈরাচারী মনোভঙ্গি, একনায়কতন্ত্র, সিন্ডিকেটের মত একপাক্ষিক ক্ষমতা এবং কমিটি বাণিজ্যের অভিযোগে দল থেকে পদত্যাগ করেছেন মাগুরা জেলা গণঅধিকার, যুব অধিকার, ছাত্র অধিকার ও শ্রমিক অধিকারের ‘শতাধিক’ নেতাকর্মী।

গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের একপাক্ষিক সিদ্ধান্ত, সাংগঠনিক বিশৃঙ্খলা ও আদর্শচ্যুতির অভিযোগ তুলে দলটি থেকে পদত্যাগ করেছেন তারা। শুক্রবার বিকালে মাগুরা শহরের সাজিয়াড়া এলাকায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তারা এই পদত্যাগের ঘোষণা দেন। এতে জেলা গণঅধিকার পরিষদ, যুব অধিকার পরিষদ ও ছাত্র শ্রমিক অধিকার পরিষদের সাবেক কমিটির বিভিন্ন পর্যায়ের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন গণঅধিকার পরিষদের বর্তমান জেলা কমিটির সহসভাপতি মো. রাসেল মজুমদার। উপস্থিত ছিলেন জেলা কমিটির মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক মো. মাজেদুল হক, দপ্তর সম্পাদক বি.এম. ফররুখ আহমেদ, যুব অধিকার পরিষদের অর্থ সম্পাদক মো. ইমামুল মোল্যা, ছাত্র অধিকার পরিষদের সাবেক অর্থ সম্পাদক পল্লব বিশ্বাসসহ অন্যরা।

রাসেল মজুমদার বলেন, গণঅধিকার পরিষদের জন্মলগ্ন ও নিবন্ধন থেকে শুরু করে জীবনবাজি রেখে সাবেক ফ্যাসিস্ট আওয়ামীলীগ সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই সংগ্রাম করেও আজ আমরা পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিচ্ছি, শুধুমাত্র পরিচ্ছন্ন রাজনীতি, ন্যায়নীতি এবং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে বাধাগ্রস্ত করার জন্য। তবুও হাতে গড়া বহু ত্যাগ ও লড়াই সংগ্রামের সংগঠন থেকে গণহারে পদত্যাগ করার একটাই বার্তা দেশবাসী ও তরুণ প্রজন্মকে দিতে চাই— সেটা হলো ব্যক্তির চেযে দল বড় আর দলের চেয়ে আমাদের দেশ বড়।

নেতারা অভিযোগ করে বলেন, গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতারা একক সিদ্ধান্ত গ্রহণ, বিতর্কিত ব্যক্তিদের পদে বসানো এবং মাঠপর্যায়ের মতামতকে উপেক্ষা করে চলছেন। এছাড়া আত্মপ্রচার ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক রাজনীতি সংগঠনের মূল আদর্শকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। দলটির রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ক্রমেই রাজপথের লড়াই থেকে বিচ্যুত হয়ে ব্যক্তি বিশেষের প্রচারণায় সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। তরুণ প্রজন্মকে সম্পৃক্ত করার যে স্বপ্ন নিয়ে সংগঠনটি গড়ে উঠেছিল, তা আর বাস্তবায়নের পথে নেই।

নেতারা দাবি করেন, তারা একইসঙ্গে জেলা গণঅধিকার পরিষদের বর্তমান কমিটিতে থাকা ৮ জনসহ যুব, ছাত্র ও শ্রমিক অধিকার পরিষদের বিভিন্ন পর্যায়ের কমিটিতে শতাধিক নেতাকর্মী পদত্যাগ করলেন।

দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সম্প্রতি গঠন হওয়া জেলা যুব অধিকার পরিষদ ও ছাত্র অধিকার পরিষদের কমিটি নিয়ে দলের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।

জানতে চাইলে জেলা গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি বরকত আলী শুক্রবার সন্ধ্যায় বলেন, আমি শুনেছি কিছু নেতাকর্মী পদত্যাগ করেছেন। তবে তারা আমাদের সঙ্গে আলোচনা করেন নি। সম্প্রতি আমাদের যুব ও ছাত্র অধিকার পরিষদের জেলা কমিটি গঠিত হয়েছে। যেটা আসলে কেন্দ্র থেকে দেওয়া হয়েছে। সে বিষয়ে তাদের কোনো অসন্তোষ থাকতে পারে। তাদেরকে বলা হয়েছিল দলের সিদ্ধান্ত মেনে দলের প্রতি অনুগত থাকতে।

পদত্যাগকারীরা হলেন- সহসভাপতি রাসেল মজুমদার, সহসভাপতি মো. তোকান মোল্যা, সহসাধারণ সম্পাদক মো. জাহিদুল ইসলাম কুদ্দুস, সহসাধারণ সম্পাদক মো. হাবিবুর রহমান, দপ্তর সম্পাদক বি.এম. ফররুখ আহমেদ, মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক মো, মাজেদুল হক, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক মো. এনামুল মোল্যা, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক মো. ফয়সাল আহমেদ, দূর্যোগ ও ত্রাণ বিষয়ক সম্পাদক ইদ্রিস আলী ডাক্তার, সহআইন বিষয়ক সম্পাদক ইয়াসিন আরাফাত, সহসাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাইম জামান সজল, সিনিয়র সদস্য  রিয়াজ পাটোয়ারী, সাবেক আহ্বায়ক মোহাম্মদপুর উপজেলা গণ অধিকার পরিষদ মো. ওহিদুজ্জামান রাব্বানী, সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি যুব অধিকার পরিষদ আনোয়ার জাহিদ সুজন, জেলা যুব অধিকার পরিষদ আলী কদর, সিনিয়র সহ সাংগঠনিক সম্পাদক, যুব অধিকার পরিষদ মো. খায়রুল শেখ, সহ সাধারণ সম্পাদক যুব অধিকার পরিষদ মো. হাসান ইমাম পলক, সাবেক সিনিয়র সহ সাংগঠনিক সম্পাদক, যুব অধিকার পরিষদ মো. জলিল জুয়েল, সাবেক অর্থ সম্পাদক, সদর উপজেলা ছাত্র অধিকার পরিষদ পল্লব বিশ্বাস, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক শ্রমিক অধিকার পরিষদ মোহাম্মদ সাবু, সিনিয়র সহ-সভাপতি গণ অধিকার পরিষদ মোহাম্মদপুর উপজেলা মাইনুল ইসলাম, সাবেক যুব অধিকার পরিষদ মো. ইয়াসিন আরাফাত, সহসাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদপুর উপজেলা গণ অধিকার পরিষদ মো. তারিখ বিশ্বাস, জেলা শ্রমিক অধিকার পরিষদ আল মামুন, সহ প্রবাসী কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক মোহাম্মদপুর উপজেলা গণ অধিকার পরিষদ মো. ইসরাফিল মৃধা, সাবেক সহ সাংগঠনিক সম্পাদক, যুব অধিকার পরিষদ মো. ইমদাদুল হক মিলন, সাবেক সহ সাধারণ সম্পাদক যুব অধিকার পরিষদ মো. শিপন, দূর্নীতি ও মাদক নিয়ন্ত্রণ সম্পাদক, শ্রমিক অধিকার পরিষদ জুয়েল হোসেন, সাবেক জেলা যুব অধিকার পরিষদ মো. শিহাব উদ্দিন, সাবেক জেলা যুব অধিকার পরিষদ ইমরান হোসেন, জেলা যুব অধিকার পরিষদ সবুর সর্দার, মাদক নিয়ন্ত্রণ সম্পাদক, শ্রমিক অধিকার পরিষদ রাকিবুল ইসলাম, সাহিত্য বিষয়ক সম্পাদক, সদর উপজেলা পরিষদ ইকরাম শেখ, সাবেক যুগ্ম সদস্য সচিব, সদর উপজেলা নিরব জাকারিয়া, সাবেক সহ সভাপতি মোহাম্মদপুর উপজেলা যুব অধিকার পরিষদ ইমরান হোসেন, সাবেক যুব অধিকার পরিষদ বাহারুল ইসলাম, সাবেক যুব অধিকার পরিষদ ইমরান শিকদার, যুব অধিকার পরিষদ পলাশ আহমেদ, শ্রমিক অধিকার পরিষদ রজব আলী, সাবেক সহ সভাপতি গণঅধিকার পরিষদ, মহাম্মদপুর উপজেলা মিজানুর রহমান।

পদত্যাগকারীরা আরও জানান, জনগণের অধিকার, পরিচ্ছন্ন রাজনীতি এবং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা সচল রাখতে আমরা জনগণের জন্য রাজনীতির মাঠে থাকবো। তবে এই মুহূর্তে আমরা নতুন কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার চিন্তাভাবনা করিনি।