তুমি আছ বলেই স্বপ্ন দেখি বিশ্বজয়ের

একটি গ্রামে দুটি আলাদা পরিচয়ে বড় হয়ে ওঠা একজন মানুষ শিক্ষক ও চিকিৎসক, তিনিই আমার বাবা। যদিও গ্রামে তিনি ডাক্তার নামেই বেশি পরিচিত। ডা. আলমগীর হোসেন আলম। যিনি দিনের শুরুটা করেন শিক্ষার্থীদের পড়িয়ে আর শেষ করেন কোনো অসুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে। তার জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত যেন কারও না কারও ভবিষ্যৎ গড়ার গল্প। আব্বুর কাছে কখনো বিলাসিতা ছিল না, কিন্তু ছিল দায়িত্ববোধ আর কড়া শাসনের ভালোবাসা।

স্কুলে তুমি ছাত্রছাত্রীদের হাতে তুলে দিয়েছ শিক্ষা আর গ্রামের মানুষের কাঁধে দিয়েছ সান্ত¡নার হাত। আমার চোখে তুমি শুধু একজন শিক্ষক বা ডাক্তার না, তুমি একজন স্বপ্নদ্রষ্টা।

ছোটবেলায় যখন হোঁচট খেয়েছি, তুমি কখনো করুণা করনি। বরং বলেছ, পড়ে গেলে উঠতে শিখতে হয়। তোমার এই কথাগুলোই আজ আমাকে ভেতর থেকে শক্ত করে গড়েছে। তোমার চোখে প্রতিদিন দেখেছি আমার জন্য এক গভীর প্রত্যাশা। সেটাই আমার সাহস, আমার পাথেয়। আমার ভেতরে আজ যে সাহস, যে আগ্রহ তা জন্মেছে তোমার অনুপ্রেরণায়। তোমার হয়তো এখনো দেশের গন্ডি পার হওয়ার সুযোগ হয়নি, কিন্তু আমাকে তুমি বিশ্ব দরজায় কড়া নাড়তে শিখিয়েছ। বলেছ, আমার জীবন গ্রামে কেটেছে, তুই যেন দেশের গ-ি পেরিয়ে বিশ্বের মানুষের জন্য কিছু করতে পারিস।

তোমার চোখে আমি এক অদ্ভুত প্রত্যাশা দেখি, যেটা আমাকে বারবার সাহস দেয়। সেই সাহসে ভর করেই আজ আমি স্বপ্ন দেখি কানাডা, অস্ট্রেলিয়ার মতো বিশ্বসেরা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার, ভেটেরিনারি সায়েন্স নিয়ে উচ্চশিক্ষা অর্জনের। এই স্বপ্নটা শুধু আমার নয়, এটা তোমারও। কারণ তুমি আছ বলেই আমি নিজের সীমানা ছাড়িয়ে নতুন কিছু দেখতে শিখেছি।

তোমার প্রতিদিনের পরিশ্রম, বিনা স্বার্থে সেবা করা আর নীরবভাবে দায়িত্ব পালন এসবই আমাকে তৈরি করেছে। আজ আমি জানি, আমি যদি কখনো বিশ্বজয় করতে পারি, তবে তার পেছনে থাকবে তোমার ছায়া। আব্বু তুমি আছ বলেই আমি হেরে যাই না। তুমি আছ বলেই আমি আকাশ ছুঁতে চাই।

লেখক : শিক্ষার্থী, ইনস্টিটিউট অব লাইভস্টক সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি