বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকার কাজ শুরু করেছে, নিঃসন্দেহে তারা ইতিমধ্যে অনেক ভালো কাজ করেছে। আমাদের পথ দেখাচ্ছে।’
গতকাল শনিবার দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির ২১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে মির্জা ফখরুল এ কথা বলেন।
লন্ডন বৈঠকের আগে ও পরের ঘটনার কথা উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘গত ১০ মাসে বাংলাদেশে যে ঘটনাগুলো ঘটেছে, তাতে আমরা একটু সন্দিহান হয়ে পড়েছিলাম যে, শেষ পর্যন্ত কী দাঁড়াবে। যখন আমরা দেখলাম এ আন্দোলনের প্রধান দল বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে অন্তর্বর্র্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসের একটা সভা হলো, তখন আমরা অত্যন্ত অনুপ্রাণিত হয়েছি। আমরা আশ্বস্ত হচ্ছি যে, আগামী ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন হবে। আশা করব, আমরা সব রাজনৈতিক দল, ফ্যাসিবাদবিরোধী সবাই একজোট হয়ে একসঙ্গে তাদের সহযোগিতা করব। আমাদের লক্ষ্য, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় পৌঁছাতে পারব।’
তিনি বলেন, ‘দেশে বেশ কয়েকটি নতুন রাজনৈতিক দল তৈরি হচ্ছে, একটা গুরুত্বপূর্ণ দল (এনসিপি) সম্ভবত কাল (রবিবার) নিবন্ধনের জন্য নির্বাচন কমিশনে যাবে। আমরা তাদের স্বাগত জানিয়েছি। তাদের প্রতি আমাদের প্রত্যাশা অনেক বেশি। আমরা প্রত্যাশা করি, এই তরুণরা, এই নবীনরা যারা বিগত আন্দোলনে সক্রিয় অংশ নিয়েছেন, নেতৃত্ব দিয়েছেন সেই নেতৃত্ব নিঃসন্দেহে কাক্সিক্ষত সেই লক্ষ্য অর্জনে সাহায্য করবে।’
সংস্কার বিষয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘কতগুলো বিষয়ে আামরা একমত, কতগুলো বিষয়ে একমত হচ্ছি না। যতগুলো বিষয়ে একমত হওয়া যাবে, সেগুলো আমরা বাস্তবায়ন করব। যেগুলোতে একমত প্রতিষ্ঠিত হবে না, নির্বাচনের পরে সেগুলো নিয়ে সংসদে আলোচনা করব, ওই বিষয়গুলোতে আমরা একমতহতে অগ্রসর হবো।’
গণঅভ্যুত্থান ও আওয়ামী লীগের ফ্যাসিবাদী শাসনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘জনগণের এই সংগ্রাম প্রাথমিকভাবে সফল হয়েছে। নতুন করে আমরা জনগণকে একটা স্বপ্ন দেখাতে সক্ষম হয়েছি যে, বাংলাদেশে আমরা একটা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করব। একটা গণতান্ত্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করব। এটা ছিল জনগণের কাছে আমাদের প্রতিশ্রুতি।’
বিএনপি নেতা বলেন, ‘এই বছরের মধ্যে সুইস ব্যাংকে অনেক টাকা জমা হয়েছে।
আমি জানি না, এই টাকাগুলো কাদের, কবে কীভাবে জমা হয়েছে। এই সংবাদটা দেখলেই প্রতিটি দেশপ্রেমিক মানুষের মনে হবে, তাহলে কি কোনো পরিবর্তন হয়নি? এটা ফ্যাসিস্ট আমলে হয়েছে। আরেকটা প্রমাণ হয়েছে, তারা কি পরিমাণ লুটপাট করেছে।’
বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিএনপির যুগ্মমহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান, জেএসডির সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দিন মাহমুদ, ভাসানী অনুসারী পরিষদের সভাপতি রফিকুল ইসলাম প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
এদিকে শনিবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের আব্দুস সালাম হলে ন্যাশনালিস্ট রিসার্চ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, ‘যেভাবে আওয়ামী লীগ মুক্তিযোদ্ধাদের দলীয়করণ করেছিল, তেমনি জুলাই-আগস্ট গণআন্দোলনের শহীদদের দলীয়করণ করাও জাতির সঙ্গে অবিচার হবে। শহীদরা কোনো দলের নয়, তারা জাতির, গণতন্ত্রের জন্য আত্মদান করেছিলেন।’
সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘৫ আগস্ট দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রায় ১০ মাস পেরিয়ে গেছে। জনগণ আপনাদের দায়িত্ব দিয়েছে একটি নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য। নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর, বিচারব্যবস্থা, প্রশাসন, নির্বাচন কমিশন, সংস্কার করে দ্রুত নির্বাচন দিন। জনগণের মালিকানা ফিরিয়ে দিন।’
তিনি বলেন, ‘শহীদদের নামের মধ্যে দলীয় রঙ লাগালে তা হবে তাদের অবমূল্যায়ন। ইলিয়াস আলী, চৌধুরী আলমসহ গত ১৭ বছরের ইতিহাস ভুলে গেলে গণআন্দোলনের ধারাবাহিকতায় পৌঁছানো সম্ভব হবে না। ইতিহাসকে সম্মান না দিলে ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত। তারেক রহমান শুধু একজন রাজনৈতিক ব্যক্তি নন, তিনি এ দেশের বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর আশা-আকাক্সক্ষার প্রতীক। তার নেতৃত্বে জাতীয়তাবাদী শক্তি একত্র হয়েছে। তারেক-ইউনূস বৈঠকের পর রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে স্থিতি ফিরেছে, মানুষের মনে আশা জেগেছে।’
বিএনপি নেতা ডা. জাহিদ বলেন, ‘তারেক রহমানের সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা কথা বলবেন কি বলবেন না সেটা নিয়ে একটি রাজনৈতিক দল (জামায়াত) নিজেরা বিব্রত হয়ে বলছে জাতি বিব্রত। আমার প্রশ্ন জাতির দায়িত্ব কী আপনারা নিয়েছেন? জাতির ১৮ কোটি মানুষের দায়িত্ব কী আপনারা নিয়েছেন? বলেন, আপনাদের দল বিব্রত হয়েছে। সবসময় জাতিকে নিয়ে টান দেবেন না। তাহলে হিসাব নিকাশ অন্য হতে পারে। তারেক-ইউনূস বৈঠকের পর এ দেশে অনেক ধরনের বিশৃঙ্খলা কমে গেছে। শান্তিশৃঙ্খলা ফিরে আসছে। মানুষের মনে একটা আশা জেগেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘জনগণের অধিকার দ্রুত ফেরত দিতে হবে। এটি যদি বিলম্বিত করা হয়, বা বিএনপিকে ঘিরে বিভ্রান্তিকর বক্তব্য চালানো হয়, তাহলে তা মেনে নেওয়া হবে না।’
ন্যাশনালিস্ট রিসার্চ ফাউন্ডেশনের আহ্বায়ক সাংবাদিক সৈয়দ আবদাল আহমদের সভাপতিত্বে বিএনপির আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার নাসির উদ্দিন আহমেদ অসীমসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী সভায় বক্তব্য রাখেন।