যুদ্ধের বিরুদ্ধে যোদ্ধা স্যান্ডার্স

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হামলার ইঙ্গিতে যুক্তরাষ্ট্রে অভ্যন্তরীণ বিভাজন স্পষ্ট হয়ে ওঠেছে। ডেমোক্র্যাট নেতাদের পাশাপাশি ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থকদের মধ্যে বিভাজন দেখা দিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে যুদ্ধে জড়ানোর শঙ্কায় ট্রাম্পের ‘মেক আমেরিকা গ্রেট অ্যাগেইন’ (মাগা) শিবিরের অনেকেই বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছেন। ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ ও প্রভাবশালী কিছু রিপাবলিকান নেতাও তার এমন সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করছেন। তবে এ সংঘাত থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে বিরত রাখতে সবচেয়ে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছেন যুক্তরাষ্ট্রের বর্ষীয়ান রাজনীতিক ও ডেমোক্র্যাট সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স। বার্নি জানিয়েছেন, তিনি এমন একটি বিল উপস্থাপন করেছেন, যাতে কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক শক্তি ব্যবহারে ফেডারেল তহবিল ব্যবহার করা যাবে না। তবে আত্মরক্ষার ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম থাকবে।

সম্প্রতি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর অবস্থান নিয়ে কড়া সমালোচনা করে এক বিবৃতিতে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, নেতানিয়াহু ২০০২ সালে যেমন ভুল ছিলেন, এখনো তিনি তেমনই ভুল করছেন। বিবৃতিতে বার্নি স্যান্ডার্স উল্লেখ করে বলেন, ২০০২ সালে কংগ্রেসে যুক্তরাষ্ট্রকে ইরাকে যুদ্ধের জন্য উৎসাহিত করে নেতানিয়াহু বলেছিলেন, সাদ্দাম পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করছেন, এতে কোনো সন্দেহ নেই। যদি আপনি সাদ্দামের শাসন উৎখাত করেন, আমি গ্যারান্টি দিচ্ছি, এর বিশাল ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। এ বক্তব্যকে ভিত্তি করে ইরাক যুদ্ধ শুরু হয়, যার ফলে ভয়াবহ মানবিক ও অর্থনৈতিক বিপর্যয় ঘটে। স্যান্ডার্স আরও বলেন, নেতানিয়াহু তখন ভুল ছিলেন, মারাত্মক ভুল। ওই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ৪ হাজার ৪৯২ জন সেনা প্রাণ হারান, আহত হন ৩২ হাজারেরও বেশি। তাছাড়া প্রায় ৩ ট্রিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছিল সেই যুদ্ধে। সবচেয়ে মর্মান্তিক বিষয় হলো, লাখ লাখ নিরীহ ইরাকি নাগরিকের মৃত্যু হয়েছিল। তিনি বলেন, নেতানিয়াহু অতীত থেকে কোনো শিক্ষা নেননি। তিনি আপাদমস্তক এক যুদ্ধবাজ নেতা, যার নতুন লক্ষ্য ইরান। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের উচিত নয় সেই ভুল পথ আবার অনুসরণ করা। আমরা ইরানের বিরুদ্ধে নেতানিয়াহুর যুদ্ধে জড়াব না।

বার্নি স্যান্ডার্সের মত, ট্রাম্পের যুদ্ধ ক্ষমতায় লাগাম টানার বিষয়ে সোচ্চার হয়েছেন আরেক ডেমোক্র্যাট নেতা টিম কেইন। সিনেটের বৈদেশিক সম্পর্ক ও সশস্ত্র পরিষেবা কমিটির সদস্য ভার্জিনিয়ার এই নেতা বলেন, ইসরায়েল চাইলে নিজেদের রক্ষা করুক, কিন্তু তারা যেন যুক্তরাষ্ট্রকে এই যুদ্ধের ভেতরে টেনে আনার চেষ্টা না করে। কেইন আরও বলেন, এটি হবে কোটি কোটি নাগরিকের জীবন হুমকির মুখে ফেলার শামিল।