নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলায় প্রভাব বিস্তার নিয়ে চলমান বিরোধ রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নিয়েছে। গতকাল শনিবার রাতে দুই পক্ষের ছুরিকাঘাতে প্রাণ গেছে কুদ্দুস মিয়া ও মেহেদী নামে দু’জনের। ঘটনায় আহত হয়েছেন উভয়পক্ষের আরও অন্তত সাতজন। এলাকায় পুলিশ, গোয়েন্দা ও সেনাবাহিনী মোতায়েন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে।
শনিবার রাত ৯টার দিকে বন্দরের শাহী মসজিদ এলাকায় সংঘর্ষের সূচনা হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বন্দর রেললাইন সংলগ্ন অটোস্ট্যান্ড নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দ্বন্দ্ব চলছিল সাবেক কাউন্সিলর ও বহিষ্কৃত বিএনপি নেতা হান্নান সরকারের অনুসারী বাবু-মেহেদী গোষ্ঠী এবং মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাবেক কাউন্সিলর আবুল কাউসার আশার সমর্থক রনি-জাফর গ্রুপের মধ্যে। কয়েকদিন ধরে পাল্টাপাল্টি হামলা, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা চলছিল।
রাতে মেহেদীর নেতৃত্বে সশস্ত্র একটি দল জাফরের সমর্থকদের ওপর হঠাৎ হামলা চালায়। ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার একপর্যায়ে কুদ্দুস মিয়াকে ছুরিকাঘাত করলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। কুদ্দুস হাফেজীবাগ এলাকার বাসিন্দা।
ঘটনার প্রায় আড়াই ঘণ্টা পর রাত সাড়ে ১১টায় বন্দর সিরাজউদ্দৌলা ক্লাব মাঠের কাছে প্রতিপক্ষের চোখে পড়ে যান মেহেদী ও তার লোকজন। রনি-জাফর গ্রুপের অনুসারীরা তাঁদের ধাওয়া করে ধরে মেহেদীকে গণপিটুনি দিয়ে ছুরিকাঘাত করে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে শহরের খানপুরের ৩০০ শয্যার হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
বন্দর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘প্রভাব বিস্তার নিয়ে দু’পক্ষের সংঘর্ষে কুদ্দুস ও মেহেদী নিহত হয়েছেন। তাঁদের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে এলাকায় উত্তেজনা নেই, পুলিশ, ডিবি ও সেনাবাহিনী মোতায়েন রয়েছে।’
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, দুই রাজনৈতিক নেতার অনুসারীদের ক্ষমতা ও অর্থ নিয়ে দ্বন্দ্বে এই রক্তাক্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ঘটনাস্থলে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।