চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে নবজাতকের মৃত্যুর পর বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (শেবাচিম) এক নাটকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। অভিযোগ, বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তোলায় মৃত শিশুর স্বজনদের মারধর করে আটকে রাখা হয়। পরে দীর্ঘ সময় পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে মরদেহ ও আটক দুই স্বজনকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
মঙ্গলবার (১৯ মে) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে রাত দেড়টা পর্যন্ত হাসপাতাল চত্বরজুড়ে চলে এ উত্তেজনা।
নিহত নবজাতকের মা পূজা রাণীর অভিযোগ, ১৫ মে তার প্রথম সন্তান জন্ম নেয়। অসুস্থ অবস্থায় শিশুটিকে এনআইসিইউতে ভর্তি করা হয়। তিনি বলেন, ‘গতকালই আমার সন্তান আমার বুকের দুধ খেয়েছে, আমার হাত ধরে হেসেছে। সন্ধ্যায় নার্স এসে জানায়, আমার সন্তান মারা গেছে। শুরু থেকেই চিকিৎসায় অবহেলা ছিল। মৃত্যুর পর আমার ভাই চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করলে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে ও তার সঙ্গে থাকা আরেকজনকে মারধর করে নিচতলায় নিয়ে আটকে রাখে।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে আমার দুই স্বজন ও আমার সন্তানের মরদেহ আটকে রাখা হয়।’
মৃত শিশুর বাবা উজ্জ্বল দাস জানান, সন্তানের শ্বাসকষ্ট বাড়লে তারা চিকিৎসকের কাছে যান। পরে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন। এরপর বিষয়টি নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে দুই স্বজনকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে হাসপাতালের পরিচালক, মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ এবং কোতোয়ালি থানা পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে যান। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা জানান, ঘটনার সময় নবজাতক ওয়ার্ডের পাশে ক্লাস চলছিল। হট্টগোল শুনে তারা বেরিয়ে আসেন। তাদের অভিযোগ, এক ব্যক্তি ওই সময় শিক্ষার্থীদের হাত, কারও ওড়না ও ব্যাগ টেনে ধরেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে তারা নিরাপদে সরে গিয়ে সেবিকাদের সহায়তায় একটি কক্ষে আশ্রয় নেন। পরে কিছু সহপাঠী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলে তাদের সঙ্গেও ধাক্কাধাক্কি ও মোবাইল ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে বলে দাবি করেন তারা।
মেডিকেল শিক্ষার্থী মুনয়াত মুন বলেন, ‘ক্লাসরুম থেকে বের হওয়ার সময় হট্টগোল শুনে এগিয়ে গেলে এক ব্যক্তি আমাদের সঙ্গে অশোভন আচরণ করেন। এরপর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।’
তবে রোগীর এক স্বজন আমির হোসেন বলেন, ‘শিশুর মৃত্যুর পর চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ করতেই ইন্টার্ন চিকিৎসকরা দুইজনকে মারধর করেন।’
আরেক প্রত্যক্ষদর্শী সোহেল রানা বলেন, ‘প্রচণ্ড মারধর হচ্ছিল। আমরা ভেবেছিলাম চোর ধরা হয়েছে। পরে জানতে পারি, এক শিশুর মৃত্যুকে কেন্দ্র করেই এই ঘটনা।’
বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার অলক কান্তি শর্মা বলেন, ‘নবজাতকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ঘটনাটি ঘটে। কথা কাটাকাটির জেরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ. কে. এম. মশিউল মুনীর বলেন, ‘উভয় পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টি সমাধান করা হয়েছে।’
কুমিল্লায় ডিবি পরিচয়ে গরু ডাকাতির পরিকল্পনা, গ্রেপ্তার ৮