দেশজুড়ে সংক্রমণ বাড়লেও রাজশাহী বিভাগের আট জেলার মধ্যে সাতটিতেই করোনা পরীক্ষার ব্যবস্থা নেই। শুধু রাজশাহী মেডিকেল কলেজে চালু রয়েছে করোনা পরীক্ষার ল্যাব। এক মাস ধরে রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চালু করা হয়েছে করোনা ইউনিট। এরই মধ্যে করোনা ওয়ার্ডে সাতজন রোগী চিকিৎসা নিয়েছে। চলতি বছরের ২৭ মার্চ প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয়। এরপর থেকে প্রতিদিনই করোনা রোগী শনাক্ত হচ্ছে।
করোনা ইউনিটের মুখপাত্র ডা. আমিনুল ইসলাম কটন জানান, করোনা চিকিৎসার জন্য যেসব সুযোগ-সুবিধা দরকার, তার সবগুলো রেখেই করোনা ইউনিট চালু করা হয়েছে। এই ওয়ার্ডে পাইপলাইনে অক্সিজেনের সরবরাহ রয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জেলাপর্যায়ে করোনা পরীক্ষার ব্যবস্থা না থাকায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা হয়তো কম জানা যাচ্ছে। বিশেষ করে বিভিন্ন জেলার অনেকেরই করোনার লক্ষণ দেখা দিলেও তারা পরীক্ষা করার সুযোগ পাচ্ছে না। বিভাগের অন্যান্য জেলা থেকে রাজশাহীতে করোনা পরীক্ষা করাতে আসার আগ্রহ দেখাচ্ছে না অনেকেই। ২০১৯ সালের পর করোনার যখন জটিল পরিস্থিতি চলছিল ওই সময় রাজশাহী বিভাগের পাঁচটি জেলায় ল্যাব চালু করা হয়। কিন্তু এখন শুধু রাজশাহী মেডিকেল কলেজেই চালু রয়েছে ল্যাব। নওগাঁ, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও পাবনায় করোনা পরীক্ষার ল্যাব থাকলেও কিট সংকট, যন্ত্রপাতি নষ্ট হওয়া কিংবা লোকবলের অভাবে বন্ধ রয়েছে পরীক্ষা কার্যক্রম। এ ছাড়া চাঁপাইনবাবগঞ্জ, জয়পুরহাট ও নাটোরে করোনা পরীক্ষার ব্যবস্থা নেই আগে থেকেই।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের প্রধান ডা. মিজানুর রহমান জানান, ২৭ মে থেকে ২২ জুন পর্যন্ত রামেক ল্যাবে ৩৬৫ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ৭১ জনের করোনা ধরা পড়েছে। তিনি জানান, রাজশাহীতে প্রতিদিন যে পরিমাণ নমুনা পরীক্ষা করা সম্ভব, এখনো তার অনেক কমসংখ্যক নমুনা আসছে। তবে এখন প্রতিদিনই আসছে। যারা আসছে মূলত রাজশাহী বা আশপাশের।
রাজশাহী বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. মো. হাবিবুর রহমান বলেন, ‘করোনা কমে যাওয়ার কারণে ল্যাবগুলো বন্ধ ছিল। সেগুলো সচলের জন্য আমরা উদ্যোগ নিচ্ছি। কিট এলে আমরা ল্যাবগুলো আবার চালু করব।’