৩০ জুন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের টেকনিক্যাল ডিরেক্টর হিসেবে তিন মাসের বর্ধিত মেয়াদ শেষ হবে সাইফুল বারী টিটুর। শোনা যাচ্ছে শিগগিরই নতুন টেকনিক্যাল ডিরেক্টরসহ এলিট একাডেমির কোচ, ইয়ুথ ডেভেলপমেন্ট কোচের মতো বেশকটি পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেবে বাফুফে। তবে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আগেই ফুটবলপাড়ায় পুরনো দুই বিদেশি কোচের ফেরার গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে জোরেশোরে। জাতীয় দলের সাবেক হেড কোচ লডউইক ডি ক্রুইফ ও তার সহকারী রেনে কোস্টারের নাম শোনা যাচ্ছে। গুঞ্জন আছে, টিটুর জায়গায় টেকনিক্যাল ডিরেক্টর হতে পারেন ক্রুইফ। আর রেনে কোস্টারকে দেখা যেতে পারে বাফুফের এলিট একাডেমির হেড কোচের দায়িত্বে। বাংলাদেশ অধ্যায় শেষ হওয়ার পর দীর্ঘ এক দশক কোনো দেশ অথবা পেশাদার কোনো দলে কাজ করা হয়নি ক্রুইফের। হামজা চৌধুরীর ছোঁয়ায় দেশের ফুটবল নিয়ে মানুষের আগ্রহ এখন তুঙ্গে। এ অবস্থায় টেকনিক্যাল ডিরেক্টর হিসেবে ক্রুইফের নামটা বিস্ময়ের জন্ম দিয়েছে।
কাজী সালাউদ্দিনের আমলে কোচ হিসেবে মোট তিন প্রস্থে জাতীয় দলের দায়িত্বে ছিলেন ডি ক্রুইফ। তার অধীনে বাংলাদেশের পারফরম্যান্স মোটেই আশাব্যাঞ্জক ছিল না। বারবার ব্যর্থ হওয়া সত্ত্বেও কোনো এক রহস্যময় কারণে সালাউদ্দিন তাকে জাতীয় দলের ডাগআউটে দাঁড় করিয়েছেন। তবে ক্রুইফ যথারীতি ব্যর্থতাই উপহার দিয়েছেন। সবশেষ ২০১৬ সালে বিশ্বকাপ বাছাইয়ে ভরাডুবির পর তাকে পাকাপাকি বিদায় নিতে হয়েছিল।
২০১৩ সালের ২ মার্চ প্রথম বাংলাদেশের ডাগআউটে দাঁড়িয়েছিলেন ক্রুইফ। কোনো জাতীয় দলে সেটাই ছিল তার প্রথম দায়িত্ব। কাঠমান্ডুতে এএফসি চ্যালেঞ্জ কাপে ফিলিস্তিনের কাছে ১-০-তে হারে তার যাত্রা শুরু। তার অধীনে তিন বছরে তিন প্রস্থে ১৬ ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ। এতে জয় মাত্র তিন ম্যাচে। এএফসি চ্যালেঞ্জ কাপে নেপাল, নর্দান ম্যারিয়ানা আইল্যান্ডকে হারানোর পর বঙ্গবন্ধু কাপে শ্রীলঙ্কাকে হারায় তার দল। তার অধীনে বাংলাদেশ হেরেছে ৮ ম্যাচে। পাঁচ ম্যাচ ড্র। ২০১৩ সাফের তিন ম্যাচের দুটিতে হার ও একটি ড্রয়ে গ্রুপপর্ব থেকে বিদায় নিতে হয়েছিল। ব্যর্থতা দূরে থাক, তার অধীনে বেশ কজন ফুটবলারের বিরুদ্ধে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। বঙ্গবন্ধু কাপের সময় হোটেলে ফুটবলারদের মদ কেলেঙ্কারি বিষয়টি প্রকাশ পেলে সমালোচিত হতে হয়েছিল কোচকে। বিভিন্ন সময় বেতন-ভাতা বাড়ানোর দাবিতে ট্রেনিং বন্ধ রাখার অভিযোগও আছে ক্রুইফের বিরুদ্ধে। ২০১৩ সাফের আগে পাকা ফ্লোরে ফিটনেস ট্রেনিং করিয়ে ব্যাপকভাবে সমালোচিত হয়েছিলেন। এ ছাড়া দল গঠনে তার নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে বারবার।
বাংলাদেশ থেকে পাকাপাকি চাকরি হারানোর পর কেটে যাওয়া ১০ বছরে ক্রুইফ কোনো পেশাদার ক্লাবে কিংবা কোনো দেশের জাতীয় দলে কাজ করার সুযোগ পাননি। নেদারল্যান্ডসের যে তিনটি ক্লাবে কিছু সময় কাজ করেছেন, প্রতিটিই অ্যামেচার ক্লাব। এসবি এডব্লিউসি, অ্যামেচার লিগের দ্বিতীয় স্তরের ক্লাব। সেখানে ২০২৩ সাল থেকে এক বছর কাজ করেছেন। ট্রান্সফার মার্কেটে বর্তমানে এই উয়েফা ‘এ’ লাইসেন্সধারী কোচকে দেখা যাচ্ছে ভিভি লুনটেরানের কোচ হিসেবে। গত বছরের ১ জুলাই থেকে এই অ্যামেচার ক্লাবের দায়িত্বে তিনি। তবে কোন লিগে কত ম্যাচ দায়িত্বে আছেন তার কোনো পরিসংখ্যান নেই ট্রান্সফার মার্কেটে। মূলত শনি ও রবিবার এই লিগের খেলা হয়। এ সময়টায় কী করেছেন, এমন প্রশ্ন এড়িয়ে গেছেন ক্রুইফ। দেশ রূপান্তরকে বলেছেন, ‘আমি একটা ট্রেনিং নিয়ে ব্যস্ত আছি। পরে কথা বলব।’ আর বাংলাদেশে নতুন পরিচয়ে কাজের বিষয়ে জানতে চাইলে ক্রুইফ সোজাসাপ্টা কোনো জবাব দেননি, ‘আমি বিনয়ী থাকতে চাইছি। নিশ্চয় আপনি বুঝতে পারছেন, ধন্যবাদ।’
বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, কোচিংয়ের চেয়ে গত এক দশকে ক্রুইফের বেশি সময় কেটেছে পারিবারিক হোটেল ব্যবসায়। এ ছাড়া সহকারী রেনে কোস্টারের সঙ্গে একটি প্লেয়ার এজেন্সি চালান তিনি। বস ক্রুইফ সেভাবে কাজ না পেলেও রেনে কোস্টার অবশ্য বসে থাকেননি। ১০ বছরে বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন ক্লাবে ইয়ুথ ফুটবল নিয়ে কাজ করেছেন তিনি। ক্রুইফের আগেই বাংলাদেশ পাট চুকে গিয়েছিল কোস্টারের। বেতন বকেয়া থাকায় ফিফায় নালিশ পর্যন্ত করেছিলেন এই কোচ। পরে বড় অঙ্কের জরিমানা দিয়ে তাকে বকেয়া পরিশোধ করতে হয়েছিল বাফুফেকে। এই কোচ আফ্রিকা ও নেদারল্যান্ডসের বেশ কয়েকটি পেশাদার ক্লাবের বয়সভিত্তিক দলগুলো নিয়ে কাজ করেছেন।
ক্রুইফ-রেনে কোস্টারের নিয়োগ নিয়ে এখনই মুখ খুলছেন না বাফুফের কর্তারা। সভাপতি তাবিথ আউয়ালকে একাধিকবার প্রশ্ন করা হলেও তিনি জবাব দেননি। বাফুফের টেকনিক্যাল কমিটির চেয়ারম্যান কামরুল হাসান হিলটন জানিয়েছেন, এ বিষয়ে কোনো কিছুই চূড়ান্ত হয়নি। টেকনিক্যাল কমিটি বেশ কজন কোচ নিয়োগ দেবে বলেই অনেকেই নানাভাবে বাফুফের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। তাই অনেকের নাম উঠছে। অনেকের মতো ক্রুইফ, রেনে কোস্টারদের নামও আসতে পারে বলে জানিয়েছেন তিনি।