আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার থেমেছে ৩৩ টেস্ট আর ১৫ ওয়ানডেতেই। সেই সময় ভারতের ক্রিকেট যেভাবে চলছিল, তার সাথে একমত ছিলেন না দিলীপ দোশী। তাই নিরবে বিদায় নিয়েছিলেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে। এবার নিরবেই পাড়ি জমালেন না ফেরার দেশে।
গতকাল সোমবার লন্ডনে হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেছেন ভারতের এই সাবেক স্পিনার। বয়স হয়েছিল ৭৭ বছর। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী ও দুই ছেলে-মেয়েকে রেখে গেছেন। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে তিনি বাংলা এবং সৌরাষ্ট্রের হয়ে খেলেছেন। ইংল্যান্ডে কাউন্টি ক্রিকেট খেলেছেন নটিংহ্যামশায়ার ও ওয়ারউইকশায়ারের হয়ে। সব মিলিয়ে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে তাঁর ৮৯৮টি উইকেট আছে।
ভারতের বিখ্যাত স্পিন চতুষ্টয় এরাপল্লি প্রসন্ন, ভাগবত চন্দ্রশেখর, শ্রীনিবাসরাঘবন বেঙ্কটরাঘবন এবং বিষান সিং বেদির পর দলের স্পিন আক্রমণের দায়িত্ব দোশীর কাঁধেই ছিল। ১৯৮১ সালের ঐতিহাসিক মেলবোর্ন টেস্টে ভাঙা আঙুলে বোলিং করে ৫ উইকেট নিয়ে ভারতকে জিতিয়েছিলেন দোশী। ১৯৭৯ সালে অভিষেকের পর টেস্টে ১১৪টি এবং ওয়ানডে ক্রিকেটে ২২টি উইকেট শিকার করেছেন।
১৯৪৭ সালের ২২ ডিসেম্বর রাজকোটে জন্ম দোশীর। একটু দেরিতে ৩২ বছর বয়সে চেন্নাইয়ে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্টে তার আন্তর্জাতিক অভিষেক হয়। সেই টেস্টে প্রথম ইনিংসেই ১০৩ রানে ৬ উইকেট নেন। অভিষেক টেস্টেই ইনিংসে ৫ বা তার বেশি উইকেটে নেওয়ার কৃতিত্ত্ব মাত্র ৯ জন ভারতীয়ের আছে। ১৯৮৩ সালে খেলেছেন শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ। এরপর থেকেই তিনি যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছিলেন।
গত মাসে লন্ডনে অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালও দেখেছেন দোশী। তাঁর ছেলে নয়নও রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু এবং রাজস্থান রয়্যালসের হয়ে আইপিএল খেলেছেন। দোশীর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে কিংবদন্তি স্পিনার অনিল কুম্বলে এক্স-এ লিখেছেন, ‘দীলিপ ভাইয়ের মৃত্যু সংবাদ হৃদয়বিদারক। ঈশ্বর তাঁর পরবিবার ও পরিজনদের এই শোক সইবার শক্তি দিক।’