'বল খরগোশের মতো লাফাচ্ছিল' বলে মাঠ নিয়ে ক্ষুব্ধ এনরিকে

ক্লাব বিশ্বকাপের মাঠের মান নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন প্যারিস সেইন্ট জার্মেই কোচ লুইস এনরিকে। সিয়াটল সাউন্ডার্সের বিপক্ষে ২-০ ব্যবধানে জয়ের পর মাঠ নিয়ে তার মন্তব্য, ‘বলটা যেন খরগোশের মতো লাফাচ্ছিল।’

ম্যাচটি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটলে, এনএফএল ও এমএলএসের যৌথ স্টেডিয়াম লুমেন ফিল্ডে। টুর্নামেন্টের জন্য কৃত্রিম টার্ফের উপর বসানো হয়েছিল অস্থায়ী হাইব্রিড ঘাস। তবে সেটি মোটেও সন্তুষ্ট করতে পারেনি এনরিকেকে।

তিনি বলেন, ‘একটা এনবিএ কোর্ট যদি গর্তে ভরা থাকে, সেটা কল্পনাই করা যায় না। খেলার মাঠের অবস্থাই আমার মূল চিন্তার জায়গা—আর এটা আমি বলছি এমন দিনে, যেদিন আমরা জিতেছি। বল যেন খরগোশ হয়ে চারপাশে লাফাচ্ছিল।’

মে মাসে ইন্টার মিলানকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ের মাধ্যমে ইউরোপীয় এবং ঘরোয়া ট্রেবল জিতেছে পিএসজি। তবে যুক্তরাষ্ট্রে এসে পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে গিয়ে খেলায় কিছুটা পরিবর্তন আনতে বাধ্য হয়েছে দলটি।

৫৫ বছর বয়সী এই স্প্যানিশ কোচ বলেন, ‘লুমেন ফিল্ডে আগে কৃত্রিম ঘাস ছিল। এখন রয়েছে প্রাকৃতিক ঘাস, যেটা হাত দিয়ে পানি দিতে হয়। বিরতিতে পানি দেওয়া হয়েছিল ঠিকই, কিন্তু ১০ মিনিটেই সেটা শুকিয়ে যায়। ইউরোপের মাঠের তুলনায় এখানে পরিস্থিতি একেবারেই আলাদা। ঘাসের ধরনও ভিন্ন, যে কারণে আমাদের স্বাভাবিক খেলার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা কঠিন। তারপরও আমরা মানিয়ে নিয়েছি এবং জয় পেয়েছি—এটাই বড় কথা।’

ক্লাব বিশ্বকাপে মাঠের মান নিয়ে অভিযোগ উঠলেও সবচেয়ে বড় শঙ্কা ২০২৬ বিশ্বকাপ ঘিরে, যেটি আয়োজিত হবে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে। এখনকার ক্লাব বিশ্বকাপের পাঁচটি ভেন্যু—মার্সিডিজ বেঞ্জ স্টেডিয়াম, হার্ড রক স্টেডিয়াম, মেটলাইফ স্টেডিয়াম, লিংকন ফাইন্যান্সিয়াল ফিল্ড ও লুমেন ফিল্ড—সবই থাকবে বিশ্বকাপের সূচিতে।

এই পাঁচটি স্টেডিয়ামই মূলত এনএফএল ম্যাচের জন্য ব্যবহৃত হয়, যেখানে সাধারণত কৃত্রিম ঘাস থাকে। তবে ফিফার নিয়ম অনুযায়ী বিশ্বকাপের জন্য সেখানে প্রাকৃতিক ঘাস বসানো হবে।

এনরিকে একা নন। রিয়াল মাদ্রিদের ইংলিশ মিডফিল্ডার জুড বেলিংহ্যামও সমালোচনা করেছেন মাঠের মান নিয়ে।

বেলিংহ্যাম বলেন, ‘মাঠ ভালো না একদমই। বল আটকে যায়, বাউন্স হয় না। হাঁটুর ওপর বেশ চাপ পড়ে। বিশ্বকাপের আগে কেউ যেন এসব নিয়ে ভাবে, সেই আশা করি।’

গত কোপা আমেরিকায়ও একই অভিযোগ করেছিলেন খেলোয়াড়েরা। আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজ বলেছিলেন, মার্সিডিজ বেঞ্জ স্টেডিয়ামের মাঠ ছিল ‘দুর্যোগপূর্ণ’। যদিও টুর্নামেন্ট আয়োজক কনমেবলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, ‘অ্যাটলান্টার ঘাসে কোনো ঝুঁকি ছিল না।’

উল্লেখ্য, এই স্টেডিয়ামেই ২০২৬ বিশ্বকাপে অনুষ্ঠিত হবে আটটি ম্যাচ, যার একটি হবে সেমিফাইনাল।

শুধু মাঠই নয়, যুক্তরাষ্ট্রের তীব্র গরমও খেলোয়াড়দের জন্য হয়ে উঠছে বড় বাধা। ডর্টমুন্ডের খেলোয়াড়েরা ম্যাচের প্রথমার্ধ ড্রেসিংরুমে বসেই দেখেছেন, কারণ গরম ছিল বলে জানিয়েছেন কোচ নিকো কোভাচ।

চেলসি কোচ এনজো মারেসকা বলেছেন, ফিলাডেলফিয়ায় ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় তার দল ঠিকমতো অনুশীলনই করতে পারেনি।

এতসব অভিযোগের ভিড়ে ফিফা এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি। তবে বিশ্বকাপের মতো বিশাল আয়োজনে এসব ‘বুনিয়াদি সমস্যা’ ঠিকঠাক না হলে, খেলার মান নিয়েই উঠতে পারে বড় প্রশ্ন।