সখীপুরে প্রধান শিক্ষকশূন্য ৫৩ বিদ্যালয়

টাঙ্গাইলের সখীপুরে ৫৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিয়মিত প্রধান শিক্ষক নেই। চলতি দায়িত্বে থাকা সিনিয়র সহকারী শিক্ষক ও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে চলছে এই বিদ্যালয়গুলো। এর ফলে দাপ্তরিক কার্যক্রমে সৃষ্টি হচ্ছে জটিলতা। এতে ব্যাহত হচ্ছে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, সখীপুরে মোট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ১৪৭টি। এর মধ্যে ৪২টি বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষকরা ‘ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং ১১টি বিদ্যালয়ে ‘চলতি দায়িত্বে’ প্রধান শিক্ষক হিসেবে রয়েছেন দীর্ঘদিন ধরে।

শুধু প্রধান শিক্ষকই নয়, উপজেলায় সহকারী শিক্ষকের পদও শূন্য ১৯টি। এছাড়া উপজেলা শিক্ষা অফিসেও জনবল সংকট রয়েছে। সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা, অফিস সহকারী, উচ্চমান হিসাব সহকারী ও অফিস সহায়ক এই চারটি পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য।

সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এ উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫৩টি চলছে চলতি দায়িত্ব ও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে। প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বে থাকা ওই ৫৩ শিক্ষকই প্রতিটি বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। তবে ওই ১১ জন সিনিয়র সহকারী শিক্ষক দীর্ঘদিন ধরে পদোন্নতি না পাওয়ায় প্রধান শিক্ষক হিসেবে চলতি দায়িত্ব পালন করছেন। প্রশাসনিক নানা জটিলতার কারণে দীর্ঘদিনেও তারা পদোন্নতি পাননি। পদোন্নতি দেওয়া হলেই চলতি দায়িত্বে থাকা ওই শিক্ষকরা প্রধান শিক্ষকের শূন্যপদে যোগদান করতে পারবেন। অন্য ৪২ জন সহকারী শিক্ষক সরাসরি ‘ভারপ্রাপ্ত প্রধান’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। অবসর ও বদলিজনিত কারণে গত এক-দেড় বছর আগে পর্যায়ক্রমে ওই ৫৩টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য হয়। প্রধান শিক্ষক নিয়োগ-পদোন্নতি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা অধিদপ্তরের আওতাধীন। প্রশাসনিক নানা জটিলতায় গত এক দশকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা অধিদপ্তর থেকে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ ও পদোন্নতি দেওয়া হচ্ছে না বলে তথ্যসূত্রে জানা গেছে।

পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী লিজা আক্তার বলে, ‘ক্লাস রুটিন অনুযায়ী নিয়মিত পাঠদান না হওয়ায় অন্য বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের তুলনায় আমরা পিছিয়ে পড়ছি।’

বহুরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘বদলিজনিত কারণে এক বছর ধরে প্রধান শিক্ষকের ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব পালন করে আসছি। যেদিন দাপ্তরিক কাজে উপজেলা শিক্ষা কার্যালয়ে যেতে হয়, সেদিন রুটিনে থাকা ক্লাস নেওয়া হয় না। ফলে শিক্ষার্থীদের পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। কারণ, বিদ্যালয়ে অতিরিক্ত শিক্ষক নেই। এছাড়া প্রশাসনিক কাজেও বেশি পারদর্শী নই।’

বাঘেরবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের চলতি দায়িত্বে থাকা শামসুল আলম বলেন, ‘অবসরজনিত কারণে প্রধান শিক্ষকের পদটি শূন্য হয়। এরপর থেকে সিনিয়র সহকারী শিক্ষক হিসেবে প্রধান শিক্ষকের চলতি দায়িত্বে রয়েছি। প্রধান শিক্ষক না থাকায় একদিকে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে দাপ্তরিক কাজেও ব্যাপক চাপ নিতে হচ্ছে।’

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা খোরশেদ আলম বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ ও পদোন্নতি প্রক্রিয়া বন্ধ থাকায় সংকট বেড়েছে। পদোন্নতি ও নিয়োগ প্রক্রিয়া দ্রুত চালু হলে শিক্ষার মানোন্নয়ন সম্ভব হবে। এ বিষয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা অধিদপ্তর বরাবর শূন্যপদের তালিকা পাঠানো হচ্ছে।’