নীলফামারীতে অরক্ষিত রেলক্রসিং পার হওয়ার সময় ট্রেনের নিচে পড়ে মোটরসাইকেল আরোহী দুই ভাই মারা গেছে। গতকাল বুধবার সকাল ৬টা ৩৫ মিনিটের দিকে জেলা সদর উপজেলার পলাশবাড়ি ইউনিয়নের তেঁতুলতলা বাজার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন, নীলফামারী সদর উপজেলার পাটোয়ারীপাড়ার বাসিন্দা কাল্টু রায়ের ছেলে সন্তোষ রায় (৪৮) ও সেন্টু রায়ের ছেলে ভবেশ রায় (২৮)। সম্পর্কে তারা চাচাতো ভাই। পেশায় দুজনেই রাজমিস্ত্রি ছিলেন। খবর পেয়ে নীলফামারীর ফায়ার সার্ভিস এসে খ- খ- হয়ে যাওয়া দুই ভাইয়ের মরদেহ উদ্ধার করে।
নীলফামারী রেলস্টেশনের সহকারী স্টেশন মাস্টার মিঠুন রায় বলেন, ‘ট্রেনটি চিলাহাটি থেকে সঠিক সময় ঢাকার পথে যাচ্ছিল। সকাল ৬টা ৪০ মিনিটে ট্রেনটি নীলফামারী রেলস্টেশনে এসে থামে। তখন দেখা যায়, ট্রেনের ইঞ্জিনের সঙ্গে সাইডে একটি মোটরসাইকেল আটকে রয়েছে। পরে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ওই মোটরসাইকেলের দুই আরোহী মারা গেছে। পরে ট্রেনের ইঞ্জিন থেকে আটকে থাকা মোটরসাইকেলের অংশ অপসারণ করে ট্রেনটি ৩০ মিনিট বিলম্বে নীলফামারী থেকে ঢাকা উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়।’
নিহত সন্তোষ রায়ের বড় ভাই শিবু রায় বলেন, ‘চাচাতো দুই ভাই এক সঙ্গে কাজে যাচ্ছিল। কীভাবে এমন ঘটনা ঘটল বুঝতে পারছি না। ট্রেনের ধাক্কায় তাদের শরীর ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছে।’
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, রেলক্রসিংটি অরক্ষিত এবং এর দুই পাশে দোকান ও বাজার থাকায় ট্রেন আসা-যাওয়ার সময় কিছু দেখা বা শোনা যায় না। দীর্ঘদিন ধরে এখানে কোনো গেট বা গেটম্যান নেই। অনেক সময় স্থানীয়রাই সাদা-লাল কাপড় নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন, যদি রাস্তায় যানবাহনের চাপ বেশি থাকে। কিন্তু এভাবে আর কত চলবে?
সৈয়দপুর রেলওয়ে থানা-পুলিশের ওসি মাহমুদ উন নবী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।’