এবার সাবেক সিইসি হাবিবুল আউয়াল গ্রেপ্তার

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নেতৃত্ব দেওয়া সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়ালকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। গতকাল বুধবার দুপুরে রাজধানীর মগবাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) যুগ্ম কমিশনার (অ্যাডমিন ও গোয়েন্দা-দক্ষিণ) মোহাম্মদ নাসিরুল ইসলাম জানান, গ্রেপ্তার এড়াতে কাজী হাবিবুল আউয়াল নিজের বাসা ছেড়ে মগবাজারের একটি বাসায় আত্মগোপনে ছিলেন। যেখান থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়, সেটি তার নিজের বাসা নয়। বিএনপির দায়ের করা শেরেবাংলা নগর থানার একটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

এর আগে, গত ২২ জুন শেরেবাংলা নগর থানায় বিএনপির দায়ের করা মামলার রাতেই সাবেক সিইসি কে এম নুরুল হুদাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি বর্তমানে চার দিনের রিমান্ডে রয়েছেন। নুরুল হুদার গ্রেপ্তারের পর কাজী হাবিবুল আউয়াল সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ করে আত্মগোপনে চলে যান। ওই রাতে তার গ্রেপ্তারের গুজব ছড়িয়ে পড়লে কিছু সংবাদমাধ্যম তা প্রকাশও করে। তবে পরদিন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা নিশ্চিত করেন হাবিবুল আউয়ালকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।

যুগ্ম কমিশনার নাসিরুল ইসলাম বলেন, ‘২০২৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কাজী হাবিবুল আউয়াল প্রধান নির্বাচন কমিশনার ছিলেন। তার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় অভিযোগ রয়েছে যে, বিএনপিসহ অধিকাংশ রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশ না নিলেও তিনি নির্বাচনের আয়োজন করেন। নির্বাচনটি সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করতে ব্যর্থ হন এবং শুধু আওয়ামী লীগ, তাদের সমর্থিত ডামি প্রার্থী এবং জাতীয় পার্টির মাধ্যমে নির্বাচন সম্পন্ন করান।’ এ ছাড়া ভোটের পরিসংখ্যান নিয়ে মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য প্রদান, সাংবিধানিক পদে থেকে সংবিধান ও নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে বিজয়ীদের গেজেট প্রকাশের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

তিনি আরও বলেন, ‘গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আমরা জানতে পারি তিনি মগবাজারে আত্মগোপনে রয়েছেন। নজরদারির পর ডিবি পুলিশের একটি দল তাকে গ্রেপ্তার করে।’

গত ২২ জুন নুরুল হুদার গ্রেপ্তারের পর কাজী হাবিবুল আউয়ালকে ধরতে অভিযান শুরু করে ডিবি পুলিশ। তিনি পালানোর চেষ্টা করছিলেন কি না জানতে চাইলে নাসিরুল ইসলাম বলেন, ‘তাকে তার নিজ বাসা থেকে নয়, অন্য একটি স্থান থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এটি স্পষ্ট যে তিনি আত্মগোপনে ছিলেন। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তার অবস্থান নিশ্চিত করে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে।’

বিএনপির দায়ের করা মামলায় মোট ২৪ জন আসামি রয়েছেন। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে ডিএমপির পদক্ষেপ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা আইনানুগ পদক্ষেপ নিচ্ছি। মামলার সব আসামির বিরুদ্ধে গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। অবস্থান শনাক্ত করতে পারলে গ্রেপ্তার করা হবে।’

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিতর্কিত নির্বাচন পরিচালনাকারী সাবেক সিইসি কাজী রকিব উদ্দিন আহমেদও এই মামলার আসামি। তাকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে জানতে চাইলে নাসিরুল ইসলাম বলেন, ‘মামলার সব আসামির বিরুদ্ধে গোয়েন্দা নজরদারি ও কার্যক্রম চলছে। সুনির্দিষ্ট তথ্য পেলে গ্রেপ্তার করা হবে।’

বিএনপির দায়ের করা মামলায় আওয়ামী লীগ আমলে অনুষ্ঠিত তিনটি জাতীয় নির্বাচনে অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক তিন প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ ২৪ জন আসামি।