গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলায় শুনানির জন্য আগামী ২ জুলাই দিন ধার্য করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। একই সঙ্গে তার (শেখ হাসিনা) পক্ষে রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী পরিবর্তন করেছে ট্রাইব্যুনাল। গতকাল বুধবার বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে গঠিত ট্রাইব্যুনাল এসব আদেশ দেয়। এ মামলায় অ্যামিকাস কিউরি (আদালতকে আইনি সহায়তাকারী) জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এ ওয়াই মশিউজ্জামান ট্রাইব্যুনালের কাছে শুনানি পেছানোর আরজি জানালে আদালত আগামী বুধবার শুনানির দিন ধার্য করে। এ ছাড়া শেখ হাসিনার পক্ষে মামলার শুনানি করতে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আমিনুল গনি টিটুর পরিবর্তে আইনজীবী আমির হোসেনকে দায়িত্ব দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল। এর আগে গত ১৯ জুন আইনজীবী এ ওয়াই মশিউজ্জামানকে অ্যামিকাস কিউরি হিসেবে এবং আমিনুল গনি টিটুকে শেখ হাসিনার পক্ষে শুনানি করতে নিযুক্ত করেছিল ট্রাইব্যুনাল।
‘২২৭ জনকে হত্যার লাইসেন্স পেয়ে গেছি’ অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া শেখ হাসিনার অডিও ক্লিপের বিষয়টি গত বছরের শেষদিকে ট্রাইব্যুনালের নজরে আনে প্রসিকিউশন শাখা। পরে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর নোটিস দিয়েছিল ট্রাইব্যুনাল। তবে শেখ হাসিনা ও অন্য আসামি হাজির হননি। শেখ হাসিনার এ বক্তব্যের ফরেনসিক পরীক্ষার পর গত ৩০ এপ্রিল নিশ্চিত হয়ে ট্রাইব্যুনালকে অবহিত করে প্রসিকিউশন শাখা। এর ভিত্তিতে ট্রাইব্যুনালের বিচারকাজ বাধাগ্রস্ত করা ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগে শেখ হাসিনা ও শাকিল আকন্দ বুলবুলের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ দায়ের করে প্রসিকিউশন। গত ২৫ মে ট্রাইব্যুনাল আদালত অবমাননার অভিযোগে মামলায় শেখ হাসিনা ও শাকিল আকন্দ বুলবুলকে হাজির হতে জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞপ্তি প্রচারের নির্দেশ দিলে দুটি জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়। এতে দুজনকে ট্রাইব্যুনালে হাজির হতে বলা হয়। অন্যথায় দুজনের অনুপস্থিতিতে বিচারকাজ সম্পন্ন হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়। শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলায় সম্প্রতি তার (শেখ হাসিনা) আইনজীবী আমিনুল গনি টিটুকে নিযুক্ত করে ট্রাইব্যুনাল। তবে ফেসবুকে শেখ হাসিনার ফাঁসি চেয়ে গত বছর ৫ আগস্ট পোস্ট দিয়েছিলেন আমিনুল গনি টিটু। এ নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি আলোচিত হয়।
গতকাল শুনানিকালে আমিনুল গনি টিটুর উদ্দেশে ট্রাইব্যুনাল বলে, ‘আপনি ডিফেন্স কাউন্সেল (শেখ হাসিনার পক্ষে) হিসেবে থাকতে চান কি না, তা পুনর্বিবেচনা করুন। এ সময় আমিনুল গনি টিটু বলেন, আমি শুনানির প্রস্তুতি নিয়ে এসেছিলাম।’ আদালত বলে, ‘এ ক্লায়েন্টকে (শেখ হাসিনা) নিয়ে আপনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মন্তব্য করেছেন। এখন আপনি তাকে ডিফেন্ড করতে চাচ্ছেন, এটা মানুষের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি করেছে। এখানে ন্যায়বিচারের স্বার্থে বিষয়টি ভেবে দেখতে হবে।’ একপর্যায়ে আমিনুল গনি শেখ হাসিনার পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবীর দায়িত্ব থেকে নিজেকে প্রত্যাহারের আরজি জানালে ট্রাইব্যুনাল তা মঞ্জুর করে।