যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বৈঠকের পরিকল্পনা নেই ইরানের

যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে আলোচনায় বসতে যাচ্ছে বলে ডোনাল্ড ট্রাম্প যে খবর দিয়েছিলেন, তা নাকচ করে দিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। গতকাল শুক্রবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয় স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে এক সাক্ষাৎকারে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, ইরানের যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বৈঠকের কোনো পরিকল্পনা নেই। ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনা তাদের স্বার্থে কি না তা মূল্যায়ন করছে তেহরান।

এর একদিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট আগামী সপ্তাহে ইরানের সঙ্গে আলোচনা হবে বলে জানিয়েছিলেন। ডোনাল্ড ট্রাম্প আরও জানান, ওই সময় দুই দেশের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষর হতে পারে। বুধবার নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগে সামরিক জোট ন্যাটোর সম্মেলনের পর সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, সম্প্রতি ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধের কারণে ওয়াশিংটন-তেহরান আলোচনা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। সেই আলোচনা আগামী সপ্তাহে শুরু হবে। যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েল বলেছে, ইরানের ওপর হামলা ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির ক্ষমতা রোধ করার জন্য করা হয়েছে। অন্যদিকে ইরান বলেছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি কেবল বেসামরিক ব্যবহারের জন্য। আরাগচি বলেন, পারমাণবিক স্থাপনার ক্ষতি কম ছিল না এবং সংশ্লিষ্ট কর্র্তৃপক্ষ ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির নতুন বাস্তবতা খুঁজে বের করছে।

গত ১৩ জুন ইরানের ওপর হামলা শুরু করে ইসরায়েল। ওই সময় দেশটির পারমাণবিক স্থাপনা, সামরিক ঘাঁটি ও আবাসিক এলাকার ওপর চালানো হয় হামলা। এতে বেশ কয়েকজন শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা, পরমাণু বিজ্ঞানী ও সাধারণ নাগরিক নিহত হন। এ জবাবে পাল্টা হামলা শুরু করে ইরানও। ইরানে হামলার বিষয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প শুরু থেকে ইসরায়েলের পক্ষে সমর্থন দিতে থাকেন। এর মধ্যেই ২২ জুন মধ্যরাতে ইরানে সরাসরি হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। পরে কাতার ও ইরাকের মার্কিন ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইরান।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট নিয়েছে এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। গত বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে হেগসেথ এ কথা বলেন। গত শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর বোমারু বিমানগুলো ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনার ওপর হামলা চালায়, যেখানে ৩০ হাজার পাউন্ড ওজনের এক ডজনের বেশি বাংকার-বাস্টার বোমা ব্যবহার করা হয়। এই হামলার ফলাফল গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে, যাতে বোঝা যায় এটি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে কতটা পিছিয়ে দিতে পেরেছে।

হেগসেথ বলেন, আমি এমন কোনো গোয়েন্দা তথ্য দেখিনি বা জানি না, যা বলছে যেসব জিনিস যেখানে থাকার কথা ছিল, সেগুলো সরিয়ে ফেলা হয়েছে বা অন্য কোথাও নেওয়া হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথোপকথনের পুরোটা পর্যবেক্ষণ করেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ সময় তিনি তার প্রতিরক্ষামন্ত্রীর বক্তব্যকে সমর্থন করে বলেন, কিছু সরিয়ে নিতে অনেক সময় লাগত।

খামেনিকে হত্যার পরিকল্পনা ছিল : ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী

সাম্প্রতিক ১২ দিনের যুদ্ধে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হত্যার পরিকল্পনা ছিল বলে জানিয়েছেন ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাতজ। বৃহস্পতিবার ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল থারটিনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেন তিনি। তাদের পরিকল্পনায় যুক্তরাষ্ট্রের আপত্তি ছিল বলে সংবাদমাধ্যমে প্রচারিত খবরের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কারও অনুমতি তাদের প্রয়োজন নেই। তার দাবি, এই হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা আঁচ করতে পেরে অজ্ঞাত স্থানে আশ্রয় নিয়েছিলেন খামেনি। এমনকি ইসরায়েলের প্রথম দফা হামলায় নিহত রেভল্যুশনারি গার্ড নেতাদের স্থলাভিষিক্তদের সঙ্গেও যোগাযোগ করেননি তিনি।