চট্টগ্রামে হচ্ছে বিএসটিআইয়ের ল্যাবরেটরি

আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য সহজীকরণ ও দ্রুততার সঙ্গে সেবা প্রদানের লক্ষ্যে চট্টগ্রামের আগ্রাবাদে অত্যাধুনিক ল্যাবরেটরিসহ ১০ তলাবিশিষ্ট ভবন উদ্বোধন করা হয়েছে। গতকাল শনিবার বিএসটিআইয়ের নবনির্মিত বিভাগীয় কার্যালয় উদ্বোধন করেন ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ফয়সাল আহমেদ শান্তর মা মোছা. কহিনুর আক্তার। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা ছিলেন শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান।

অনুষ্ঠানে বিশেষ বক্তা ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, শিল্প সচিব মো. ওবায়দুর রহমান, বিএসটিআইয়ের মহাপরিচালক এসএম ফেরদৌস আলম, চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম এবং গণপূর্ত অধিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. শাহজালাল চৌধুরী।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শহীদ ফয়সাল আহমেদ শান্তর মা কহিনুর আক্তার বলেন, শান্ত একটি সুন্দর, শোষণমুক্ত ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখত। সে চেয়েছিল এই দেশের প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত হোক, প্রতিটি যুবকের মেধা ও শ্রমের সঠিক মূল্যায়ন হোক। আমার সন্তান যে লক্ষ্য পূরণে শহীদ হয়েছে, সেই লক্ষ্য যেন পূর্ণ হয়। তিনি আরও বলেন, আমি একজন মা, একজন শহীদ জননী। আমার সন্তান আমাকে ছেড়ে চলে গেছে, কিন্তু তার আদর্শ, তার সংগ্রামী চেতনা, আমার হৃদয়ে চিরজাগরুক হয়ে থাকবে।

অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান বলেন, বিএসটিআই দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, শিল্প-বাণিজ্যের গতিশীলতা এবং ভোক্তা অধিকার সুরক্ষায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। আজকে এ অত্যাধুনিক ল্যাবরেটরিসহ ১০ তলাবিশিষ্ট ভবন উদ্বোধনের মাধ্যমে বন্দর নগরী চট্টগ্রামে আমদানি-রপ্তানির ক্ষেত্রে গতিশীলতা বৃদ্ধি পাবে। পর্যায়ক্রমে চট্টগ্রামে বিএসটিআইয়ের ল্যাবরেটরিকে স্বয়ংসম্পূর্ণ ল্যাবরেটরি হিসেবে গড়ে তোলা হবে। এর ফলে বিএসটিআইয়ের সেবার জন্য চট্টগ্রামের মানুষকে ঢাকায় যাওয়ার প্রয়োজন হবে না। এটি এ অঞ্চলের শিল্প-বাণিজ্যকে বিশ্বব্যাপী প্রতিযোগিতায় এগিয়ে নেবে এবং ভোক্তা সুরক্ষাকে আরও শক্তিশালী করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

শিল্প সচিব মো. ওবায়দুর রহমান বলেন, দেশের ভেতরে মানসম্পন্ন পণ্য উৎপাদন এবং মানসম্পন্ন পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে বিএসটিআই কাজ করে যাচ্ছে। বিভিন্ন দেশের সঙ্গে পণ্যের মান বিষয়ক চুক্তি এবং ল্যাবরেটরিগুলোর অ্যাক্রেডিটেশন অর্জন বিএসটিআইকে আরও শক্তিশালী করেছে। এর ফলে বিদেশে বাংলাদেশি পণ্যের গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি পাচ্ছে।