১০০ চীনা যুদ্ধবিমান কিনছে ইরান

ইহুদিবাদী ইসরায়েলের সঙ্গে ১২ দিনের যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর ইরান তার আকাশ প্রতিরক্ষা ও আক্রমণ ক্ষমতা বাড়াতে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে। এই পদক্ষেপটি ইরানের জন্য শুধু প্রযুক্তিগত অগ্রগতি নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে শক্তির ভারসাম্য পুনর্গঠনের কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ইরানি ও আঞ্চলিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, তেহরান চীনের সঙ্গে প্রায় ৪০০ কোটি বা ৪ বিলিয়ন ডলারের একটি সামরিক চুক্তি সই করেছে, যার আওতায় চতুর্থ-প্লাস প্রজন্মের ১০০টি চেংদু জে-১০সি মাল্টিরোল যুদ্ধবিমান সংগ্রহ করবে।

ইরানের তাবনাক নিউজ পোর্টালে প্রকাশিত প্রতিবেদনে লেখা হয়েছে, জে-১০সি যুদ্ধবিমান চীনা বিমান শিল্পের সবচেয়ে উন্নত পণ্যগুলোর মধ্যে একটি, যা এর বহু ভূমিকা-ক্ষমতার কারণে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইরান, পাকিস্তান এমনকি মিসরসহ বিভিন্ন দেশের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুসারে, ইসরায়েলের সঙ্গে সাম্প্রতিক যুদ্ধের মাঝে ইরান প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলার মূল্যের এই ১০০টি যুদ্ধবিমান কেনার জন্য চীনের সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছেছে। খবরে আরও বলা হয়েছে, ইরানি সামরিক বিশেষজ্ঞদের একটি দল চীন সফরও করেছে, যাতে এই যুদ্ধবিমান ক্রয়সংক্রান্ত চুক্তির বিস্তারিত চূড়ান্ত করা যায়।

জে-১০সি হচ্ছে চীনের নিজস্বভাবে নির্মিত একটি চতুর্থ-প্লাস প্রজন্মের মাল্টিরোল ফাইটার জেট, আকাশযুদ্ধে স্থলভাগে এবং ইলেকট্রনিক যুদ্ধে আক্রমণের ক্ষেত্রে অত্যন্ত সক্ষম। চেংদু অ্যারোস্পেস করপোরেশনের তৈরি এই বিমানকে ‘শক্তিশালী ড্রাগন’ নামে ডাকা হয়। এটি পশ্চিমা এফ-১৬ ও সুইডিশ গ্রিপেন যুদ্ধবিমানের চীনা বিকল্প হিসেবে ডিজাইন করা হয়েছে।

চীনের নিজস্ব নকশায় তৈরি প্রায় ২ হাজার ২০০ কিমি পাল্লার এই অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান শক্তিশালী স্টিলথ ক্ষমতা, দীর্ঘ রাডার শনাক্তকরণ পরিসর এবং উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার অধিকারী, যা এটিকে প্রতিপক্ষকে প্রথমে শনাক্ত করে আক্রমণ করতে সক্ষম করে।

পাকিস্তান ইতিমধ্যে ২০২২ সালে এই বিমানগুলো সংগ্রহ করেছে এবং ভারতের রাফাল ফাইটারের মোকাবিলায় সফলভাবে ব্যবহার করেছে বলে দাবি করা হয়।

ইরান কেন জে-১০সি বেছে নিচ্ছে?

ইরানের বিমানবাহিনী এখনো মূলত ১৯৭০ ও ৮০’র দশকের ঋ-১৪ ঞড়সপধঃ, ঋ-৪ চযধহঃড়স এবং গরএ-২৯ এর ওপর নির্ভরশীল। দীর্ঘদিন ধরেই রাশিয়ার ঝঁ-৩৫ কেনার বিষয়ে গুঞ্জন চলছিল, তবে বাস্তবে কোনো বিমান এখনো হস্তান্তর হয়নি। এ প্রেক্ষাপটে ইরান তার নিরাপত্তাব্যবস্থা ঢেলে সাজাতে চীনা জে-১০সি বহরকে নিজের ক্ষেপণাস্ত্র, রাডার ও ড্রোন সিস্টেমের সঙ্গে একীভূত করতে চাচ্ছে।

চীনের সঙ্গে ইরানের ৪ বিলিয়ন ডলারের এই সামরিক চুক্তি শুধু অস্ত্র কেনাবেচা নয়, বরং দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারত্ব ও আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা পুনর্গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এখন দেখার বিষয়, এই বিমানগুলো কত দ্রুত সরবরাহ হয় এবং ইরানের সামরিক কাঠামোতে কীভাবে যুক্ত হয়।