পাকিস্তানের মধ্যাঞ্চল ও বেলুচিস্তান প্রদেশে ভোররাতে মাঝারি মাত্রার একটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। রিখটার স্কেলে কম্পনের মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৫। তবে এ ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত কোনো হতাহত কিংবা বড় ধরনের ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
ভূমিকম্পটি আজ রবিবার স্থানীয় সময় ভোর ৩টা ৩০ মিনিটের দিকে আঘাত হানে। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, কম্পনের উৎসস্থল ছিল বেলুচিস্তানের বারখান শহরের প্রায় ৬০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্ব দিকে। এটি ছিল অপেক্ষাকৃত অগভীর ভূমিকম্প, যার গভীরতা ছিল মাত্র ১০ কিলোমিটার—ফলে কম্পনের তীব্রতা বেশি অনুভূত হয়।
অন্যদিকে, ইউরো-মেডিটেরেনিয়ান সিসমোলজিক্যাল সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পের কেন্দ্র ছিল মুলতান শহর থেকে প্রায় ১৪৯ কিলোমিটার পশ্চিমে। একইসঙ্গে পাকিস্তানের ভূকম্পন পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র জানায়, কম্পনের উৎস ছিল মুসাখেল জেলার উত্তর-পূর্ব অংশে, ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ২৮ কিলোমিটার গভীরে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও সংবাদমাধ্যম দ্য নিউজ ইন্টারন্যাশনাল জানায়, মুসাখেল ও আশপাশের এলাকাগুলোতে কম্পন বেশ স্পষ্টভাবেই টের পাওয়া গেছে। ভূমিকম্পের সময় ঘুমন্ত মানুষজন আতঙ্কে ঘর ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে আসে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া যায়নি। কর্তৃপক্ষ সতর্ক রয়েছে এবং পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
বিশ্বের ভূমিকম্পপ্রবণ দেশগুলোর একটি হিসেবে পাকিস্তান প্রায়ই কম্পনের মুখোমুখি হয়। দেশটি ভারতীয় ও ইউরেশীয় টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থিত হওয়ায় ভূমিকম্প এখানে তুলনামূলক ঘনঘন ঘটে।
এর আগে ২০০৫ সালে ৭ দশমিক ৬ মাত্রার একটি ভয়াবহ ভূমিকম্পে পাকিস্তানের আজাদ কাশ্মীর অঞ্চলে প্রাণ হারান প্রায় ৭৩ হাজার মানুষ এবং গৃহহীন হন প্রায় ৩৫ লাখ মানুষ। ২০১৫ সালে ৭ দশমিক ৫ মাত্রার ভূমিকম্পে মারা যান আরও প্রায় ৪০০ জন। ২০২১ সালে বেলুচিস্তানের হরনাই জেলায় ৫.৯ মাত্রার এক কম্পনে প্রাণহানি হয়েছিল অন্তত ২০ জনের।
সাম্প্রতিক এই ভূমিকম্পে বড় ক্ষয়ক্ষতির খবর না থাকলেও, স্থানীয় প্রশাসন ও জরুরি বিভাগগুলো সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম।