পাকিস্তানের উত্তর ওয়াজিরিস্তানে প্রাণঘাতী এক সন্ত্রাসী হামলার পেছনে ভারতের হাত রয়েছে—পাকিস্তানের এমন অভিযোগকে ‘মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে ভারত।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এ কথা জানানো হয়েছে।
এর আগে শনিবার সকালে পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিম খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশে একটি ভয়াবহ হামলার পর ইসলামাবাদ ভারতের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদের মদদদাতা বলে অভিযোগ তোলে।
এক আত্মঘাতী হামলাকারী বিস্ফোরক ভর্তি একটি গাড়ি পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর বহরের ওপর চালিয়ে দেয়, এরপর শুরু হয় এলোপাতাড়ি গুলি। পাকিস্তান সেনাবাহিনী জানায়, এতে তাদের ১৩ জন সৈন্য নিহত এবং তিনজন বেসামরিক নাগরিক আহত হয়। নিহতদের মধ্যে ছিল দুই শিশু।
তবে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে সংবাদ সংস্থা এএফপি জানায়, হামলায় মোট ২৯ জন বেসামরিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন।
হামলার কয়েক ঘণ্টা পর পাকিস্তান সেনাবাহিনীর জনসংযোগ শাখা (আইএসপিআর) এক বিবৃতিতে ভারতকে দায়ী করে জানায়, ‘এই কাপুরুষোচিত হামলা ভারতের সন্ত্রাসী রাষ্ট্রের পরিকল্পনার অংশ। দিল্লরর মদদপুষ্ট ‘ফিতনা আল খারিজ’ নামে প্রক্সি গোষ্ঠীর মাধ্যমে হামলা পরিচালিত হয়েছে। এই হামলায় মির আলি, উত্তর ওয়াজিরিস্তান অঞ্চলে নিরাপত্তা বাহিনীর বহরকে লক্ষ্য করা হয়।
আরও বলা হয়, ‘পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী জাতির সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ থেকে ভারতের মদদে পরিচালিত সন্ত্রাসবাদ নির্মূলে অটল।’
অন্য একটি বিবৃতিতে বলা হয়, পাকিস্তান সেনাবাহিনীর চিফ ফিল্ড মার্শাল সৈয়দ আসিম মুনির খাইবার পাখতুনখাওয়ার রাজধানী পেশাওয়ারে কর্পস সদর দফতর পরিদর্শনে যান এবং সেখানে চলমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান নিয়ে ব্রিফিং করেন।
এর আগে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে জানানো হয়, পাকিস্তানভিত্তিক তালেবান গোষ্ঠী হাফিজ গুল বাহাদুর গ্রুপ এই আত্মঘাতী হামলার দায় স্বীকার করেছে।