দেশের ব্যাংকিং খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে দীর্ঘদিনের অনিয়ম, দুর্নীতি ও শৃঙ্খলাহীনতার কারণ যাচাইয়ে আরও ১১টি ব্যাংকের সম্পদের গুণগত মান বা ‘অ্যাসেট কোয়ালিটি রিভিউ’ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এসব ব্যাংকের বিরুদ্ধে গত ১৫ বছরে নানা অনিয়ম ও কেলেঙ্কারির অভিযোগ রয়েছে। কার্যক্রম তত্ত্বাবধানের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের অধীনে ‘ব্যাংক রিস্ট্রাকচারিং অ্যান্ড রেজ্যুলেশন ইউনিট’ নামের একটি বিশেষ ইউনিট গঠন করা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, যথাযথ ও নিরপেক্ষ অডিট নিশ্চিত করতে প্রতিটি ব্যাংকের জন্য একজন করে ফোকাল পয়েন্ট কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। একইভাবে প্রতিটি অডিট প্রতিষ্ঠান থেকেও আলাদা কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করছেন। রিভিউয়ের আওতায় ব্যাংকগুলোর আর্থিক নীতিমালা, সম্পদের মূল্যায়ন, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, ঋণ শ্রেণিকরণ ও পুনঃতফসিলিকরণ, একক ও বৃহৎ ঋণের সীমা, বড় খেলাপিদের অবস্থান, হিসাব নীতিমালা, অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং তারল্য ও বিনিয়োগ নীতিমালার দিকগুলো খতিয়ে দেখা হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক আনুষ্ঠানিকভাবে ব্যাংকগুলোর নাম প্রকাশ না করলেও নির্ভরযোগ্য সূত্রে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।
যেসব ব্যাংকের সম্পদ যাচাই হবে তার মধ্যে রয়েছে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবি), আইএফআইসি ব্যাংক, এবি ব্যাংক, প্রিমিয়ার ব্যাংক, এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংক, এনআরবি ব্যাংক এবং মেঘনা ব্যাংক।
আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন নিরীক্ষার মাধ্যমে এসব ব্যাংকের আর্থিক অবস্থান, সম্পদের ঝুঁকি ও ঋণ ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন দিক বিশ্লেষণ করা হবে। এ উদ্যোগের মাধ্যমে দুর্বল ও সমস্যাগ্রস্ত ব্যাংকগুলোর প্রকৃত অবস্থা চিহ্নিত করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। একইসঙ্গে, দেশের ব্যাংকিং খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা, খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণ এবং জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধারে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংক বিবেচনা করছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, এই রিভিউ কার্যক্রমে বিশ্বব্যাংক সহায়তা দিচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক অডিট প্রতিষ্ঠানগুলো এতে অংশ নিচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের অধীনে ইতিমধ্যে ইরনেস্ট অ্যান্ড ইয়াং-এক্সিম ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক এবং আইসিবি ইসলামী ব্যাংকের অডিট সম্পন্ন করেছে।