‘শহীদ আবু সাঈদ’ দিবস বাতিলে ক্ষোভ বাবা-ভাইয়ের

‘আবু সাঈদকে নিয়ে আমাদের একটা আশা ছিল। সে আমাদের বংশের একটা প্রদীপ হিসেবে ছিল। সেই প্রদীপকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে জোর করে ১৬ জুলাই নিভিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমরা চাই তার আত্মত্যাগ জাতিকে মুক্তি করে দিয়ে গেছে। এই মুক্তি যেন ন্যায় হয়। রাষ্ট্রে যেন নতুন করে স্বৈরাচার সরকার গঠিত না হয়।’

চব্বিশের জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের প্রথম বর্ষপূর্তিতে গতকাল মঙ্গলবার শহীদ আবু সাঈদের বড় ভাই আবু হোসেন বলছিলেন এসব কথা। ১৬ জুলাইকে ‘শহীদ আবু সাঈদ দিবস’ ঘোষণা করে বাতিল করে ‘জুলাই শহীদ দিবস’ ঘোষণা করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, ‘শহীদ আবু সাঈদ দিবস’ কেন পালন করা হবে না, এটা রাষ্ট্রের কাছে জানতে চাই। কেন আবু সাঈদ দিবস ঘোষণা করে বাতিল করা হলো, এটা সরকারের কাছে জানতে চাই। ১৬ জুলাই ‘শহীদ আবু সাঈদ দিবস’ পালনে সমস্যা কী ছিল? কোন ষড়যন্ত্রে ১৬ জুলাই ‘শহীদ আবু সাঈদ দিবস’ বাতিল করে ‘জুলাই শহীদ দিবস’ করা হলো। তিনি বলেন, ‘যদি ১৯৯০ সালে স্বৈরাচার আন্দোলনের শহীদ নূর হোসেন দিবস এখনো পালন করা হয়, তাহলে এত বড় একটা বিপ্লব মাত্র সংঘটিত হলো, এখনো এক বছরও পূর্ণ হয়নি, তার মধ্যে ঘোষণা দিয়ে বাতিল করা শহীদ আবু সাঈদের জন্য চরম অপমানজনক।’ 

আবু সাঈদের বাবা মকবুল হোসেন মনে চাপা কষ্ট নিয়ে দাবি করে বলেন, ‘প্রথম শহীদ আমার ছেলে বীরশ্রেষ্ঠ আবু সাঈদ। সে হিসেবে প্রথম আবু সাঈদের নামেই ১৬ জুলাই শহীদ আবু সাঈদ দিবস পালন করার কথা। সেটা বাতিল করে খালি ‘জুলাই শহীদ দিবস’ করছে, এটাতে আমি একমত না। আমার ছেলের নামে যেন ১৬ জুলাই হয়, এটাই আমার সরকারের কাছে চাওয়া।’