চট্টগ্রামের পটিয়া থানায় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের জের ধরে ওই থানার ওসি আবু জায়েদ নাজমুল নুরকে অপসারণের দাবিতে বুধবার নগরের খুলশী থানাধীন জাকির হোসেন সড়কে অবস্থান করা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নেতাকর্মীরা দুই ঘণ্টা পর পথ ছেড়েছেন। ফলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে।
এর আগে বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে সাড়ে ৫টা পর্যন্ত সড়ক বন্ধ থাকায় জাকির হোসেন সড়কসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। এ সময় চরম ভোগান্তি পোহাতে হয় যাত্রী ও সাধারণ মানুষকে।
বুধবার বিকেল ৩ টার দিকে পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শকের (ডিআইজি) কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন শুরু করে সংগঠন দুটির নেতাকর্মীরা। তারা ডিআইজিকে কার্যালয়ের বাইরে এসে তাদের সঙ্গে কথা বলার দাবি জানান। কিন্তু এতে ডিআইজির সম্মতি না পেয়ে তারা সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। বেলা সাড়ে ৩টার দিকে জাকির হোসেন সড়কে অবরোধ শুরু করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও এনসিপির নেতাকর্মীরা।
খুলশী থানার ওসি আফতাব আহমেদ বলেন, ৩০ জনের মতো এনসিপি নেতাকর্মী ডিআইজি স্যারের সঙ্গে দেখা করতে এসেছেন। স্যার সবাইকে ভেতরে ওয়েলকাম জানিয়েছেন। তিনজন অ্যাডিশনাল ডিআইজি স্যার গেটে এসে তাদের ভেতরে যাবার কথা বলেন। কিন্তু তারা কিছুক্ষণ নানা কথাবার্তা বলে এক পর্যায়ে দাবি করেন ডিআইজি স্যারকে অফিসের বাইরে রাস্তায় এসে তাদের সাথে কথা বলতে হবে।
এদিকে বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে চট্টগ্রাম জেলার ঊর্ধ্বতন এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ছাত্রদের ওপর হামলার ঘটনায় থানার ওসি আবু জায়েদ নাজমুল নুর প্রত্যাহার হচ্ছেন।
এনসিপি নেতাদের অভিযোগ, ছাত্রলীগ নেতা দীপংকরকে স্থানীয় জনতা আটক করে পটিয়া থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করলেও তার বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা নেয়নি পুলিশ। উল্টো এ ঘটনার প্রতিবাদ জানাতে গেলে এনসিপি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীদের ওপর পুলিশ হামলা চালায়। এতে অন্তত ১৫ জন নেতাকর্মী আহত হন।
বুধবার অবস্থান কর্মসূচি চলাকালে এনসিপি নেতাকর্মীরা পুলিশি নির্যাতনের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন। তবে কর্মসূচি ঘিরে পুলিশি নিরাপত্তা জোরদার ছিল।
এনসিপি চট্টগ্রাম মহানগর সংগঠক রিয়াদ বলেন, যেখানে জনগণ এক দুর্নীতিগ্রস্ত ছাত্রনেতাকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে সেখানে পুলিশ কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে আমাদের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের ওপর চড়াও হয়েছে। এটি প্রমাণ করে পুলিশ বাহিনী এখন রাজনৈতিক রক্ষাকবচে পরিণত হয়েছে। তাই আমরা দ্রুত পুলিশ সংস্কারের দাবি জানাচ্ছি।
এর আগে মঙ্গলবার (১ জুলাই) রাত সাড়ে ৯টার দিকে পটিয়া থানায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে চার পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ২০ জন আহত হন।
পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে পটিয়ার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে থেকে রাঙামাটি জেলা ছাত্রলীগ নেতা দীপংকর দে’কে আটক করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীরা। পরে তাকে পটিয়া থানা চত্বরে নিয়ে আসা হয়। তবে ওই ছাত্রলীগ নেতার নামে মামলা না থাকায় পুলিশ গ্রেফতার করতে চায়নি। এ নিয়ে নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের উত্তেজনা দেখা দেয় এবং পরে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশ ওই ছাত্রলীগ নেতাকে নিজেদের হেফাজতে নেয় এবং নেতাকর্মীদের লাঠিপেটা করে।
পুলিশ জানায়, ছাত্রলীগ কর্মী দীপঙ্কর রাঙামাটি জেলার বনরূপা বাজার এলাকার মৃত গৌরাঙ্গ দে এর ছেলে। তবে তার পৈতৃক বাড়ি চট্টগ্রামের পটিয়ার সুচক্রদন্ডি ২ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায়। তাকে ৫৪ ধারায় (সন্দেহজনক হিসেবে) আদালতে পাঠানো হয়েছে।