গ্যাস সংযোগ পুনর্বিন্যাসে পোশাক খাতের ১০ প্রস্তাব

দেশের তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল খাত শিল্প মালিকদের শীর্ষ ছয়টি সংগঠন কারখানা প্রাঙ্গণে গ্যাস সংযোগের পুনর্বিন্যাসের ক্ষেত্রে সরকারি বাধ্যবাধকতা থেকে অব্যাহতি পেতে ১০টি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দিয়েছে। এতে শিল্পে অধিক কর্মক্ষম এবং জ্বালানি-সাশ্রয়ী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা সম্ভব হবে বলে ব্যবসায়ীরা মনে করেন। এর ফলে জ্বালানি দক্ষতা ও উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রা আহরণে বিশেষ ভূমিকা রখেবে বলে তারা মনে করেন।

সম্প্রতি এ সংক্রান্ত একটি চিঠি বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খানের দপ্তরে দেওয়া হয়েছে। চিঠির একটি অনুলিপি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টাকেও পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে স্বাক্ষর করেন বাংলাদেশ গার্মেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টাস অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ) সভাপতি মাহমুদ হাসান খান; বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টাস অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ) নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসান; বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ) প্রেসিডেন্ট শওকত আজিজ রাসেল; বাংলাদেশ টেরি টাওয়েল অ্যান্ড লিনেন ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিটিটিএলএমইএ) চেয়ারম্যান হোসেন মাহমুদ; বাংলাদেশ চেম্বারের সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী (পারভেজ) এবং ঢাকা চেম্বার সভাপতি তাসকিন আহমেদ।

সংগঠনগুলো যেসব প্রস্তাব দিয়েছে তার মধ্যে রয়েছে আরএমএস রুমের মিটার এবং রেগুলেটর থেকে গ্রাহকের আঙিনায় অবস্থিত যাবতীয় স্থাপনার (অভ্যন্তরীণ পাইপলাইন ইত্যাদিসহ) কোনো কিছুই তিতাসের আওতাধীন থাকবে না। অনুমোদিত লোড, বহির্গমন চাপ অপরিবর্তিত রেখে গ্রাহক তার মর্জিমতো, তিতাসের কোনোরূপ অনুমতি ছাড়া, এসব স্থাপনা পরিবর্তন, পরিবর্ধন, সংকোচন, সংযোজন, বিয়োজন, পরিমার্জন, ব্র্যান্ড পরিবর্তন, ইত্যাদি করতে পারবে। এই সব কোনো ব্যাপারেই তিতাস কোনো কৈফিয়ত চাইতে পারবে না; ১০ মেগাওয়াট এবং এর অধিক ক্যাপটিভ রানে গ্যাস ব্যবহারের নতুন সংযোগ অনুমোদনের জন্য সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানির ছাড়পত্র নেওয়ার বিষয়ে আগের সরকারের (শেখ হাসিনা) এই সংক্রান্ত নির্দেশনাটি বাতিল করতে হবে; একই আঙিনায় অবস্থিত, একই মালিকানাধীন একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের অনুমোদিত, কিন্তু গ্রাহকের বিবেচনায় অব্যবহৃত লোড, আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে একই আঙিনায় অবস্থিত, একই মালিকানাধীন অন্য আরেকটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানে স্থানান্তর করা যাবে এবং এ শিল্পপ্রতিষ্ঠান নতুন স্থাপনা হলেও এই কাজকে নতুন সংযোগ বলে কালক্ষেপণ করা যাবে না। এই অনুমোদন তিতাসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক একক সিদ্ধান্তে অনুমোদন দেবেন এবং একই মালিকানাধীন একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের, গ্রাহকের বিবেচনায় অব্যবহৃত লোড, আংশিক বা, সম্পূর্ণভাবে, সম্পূর্ণ সাপেক্ষে, একই মালিকানাধীন কিন্তু অন্য জায়গায় অবস্থিত আরেকটি কারখানায় স্থানান্তর করা যাবে। এই অনুমোদন তিতাসের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের একক সিদ্ধান্তে হবে। অনলাইনে আবেদন প্রক্রিয়া চালু করা যেতে পারে। এতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আপলোড করে স্বয়ংক্রিয় যাচাই সম্ভব।

অন্য প্রস্তাবগুলোর মধ্যে আছে বর্তমানে ব্যবস্থাপনা পরিচালকের অনুমতিতে লোড পুনর্বিন্যাস হয়। তবে ক্যাপটিভ ও শিল্প লোডের মধ্যকার পুনর্বিন্যাস বিদ্যমান আইনে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা রয়েছে। এ অবস্থায় অভ্যন্তরীণ পুনর্বিন্যাসের জন্য পুনরায় ঊর্ধ্বতন অনুমতি বাদ দিয়ে আঞ্চলিক পর্যায়ে অর্থাৎ স্থানীয় গ্যাস অফিসের মাধ্যমে অনুমোদন দেওয়া যেতে পারে; ইডিসি মিটার স্থাপন বা পরিবর্তনের ক্ষেত্রে অনলাইন ফর্ম এবং নির্দিষ্ট ডকুমেন্ট চেকলিস্ট থাকলে গ্রাহক সহজে আবেদন দাখিলের ব্যবস্থা করা; প্রি-অ্যাপ্রুভড মিটার লিস্ট, অনুমোদিত ব্র্যান্ড/মডেল লিস্ট থাকলে নতুন মিটার অনুমোদনে সময় কমে যাবে এবং যথেষ্ট পরিমাণ এবং বিভিন্ন মডেলের মিটার স্টকে রাখতে হবে; মিটার পরিবর্তনের জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা যেমন ৩-৫ কার্যদিবসের মধ্যে ইনস্টলেশন সম্পন্ন এবং লো প্রেসার রেগুলেটরের অনুমোদন স্থানীয় অফিসের মাধ্যমে অটোমেটিক রেগুলেটর অনুমোদন নিতে হবে।

সার্বিকভাবে প্রস্তাবিত বিষয়ের গুরুত্ব বিবেচনায় উপরোক্ত বর্ণনার আলোকে সরাসরি এবং প্রচ্ছন্ন রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল শিল্পপ্রতিষ্ঠান বিবেচনায় উভয় রানের ঘণ্টা প্রতি লোড, মাসিক লোড ও চাপ অপরিবর্তিত থাকলে স্থাপনা পুনর্বিন্যাসের ক্ষেত্রে তিতাস কর্তৃক পুনরায় অনুমোদন হতে অব্যাহতি পাওয়ার জন্য ব্যবস্থা গ্রহণে বিশেষভাবে অনুরোধ করেছেন তারা।