প্রশ্ন জামায়াত আমিরের

দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে কিসের নির্বাচন?

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দেশে আগে মৌলিক সংস্কার ও সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরি করতে হবে। তারপর নির্বাচনের কথা। এখন দেশের এই পরিস্থিতিতে কিসের নির্বাচন? আগে সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরি করতে হবে। যেন জনগণও মনে করে এখনই সময় নির্বাচনের। তারপর সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সম্ভব।

আজ শুক্রবার (৪ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে নীলফামারীর সৈয়দপুর বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

জামায়াতের আমির আরও বলেন, দেশে দীর্ঘদিন ধরে ‘মব কালচার’ চলছে। তবে এসব সহিংসতায় জামায়াতের কোনো কর্মী বা সমর্থক জড়িত নেই। ১৯৭২ সাল থেকেই দেশে মব পরিস্থিতি চলমান। আমরা মবের ঘোরবিরোধী। জামায়াতের কোনও কর্মী এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত নেই।

লালমনিরহাটের পাটগ্রামের সাম্প্রতিক সহিংসতার উদাহরণ টেনে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশে এখন মব পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এই অবস্থায় সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। আগে নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করতে হবে। সেজন্যই আমরা সংস্কারের কথা বলছি। মৌলিক সংস্কার ছাড়া ভালো নির্বাচন সম্ভব নয়।

তিনি আরও বলেন, যারা এসব ঘটনায় জড়িত, তাদের নিজ নিজ দলের নেতাদের উচিত কর্মীদের নিয়ন্ত্রণে আনা। এরপর রাষ্ট্রের দায়িত্ব পরিস্থিতি সামাল দেওয়া।

এরপর তিনি সৈয়দপুর বিমানবন্দর থেকে রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার বাবনপুর গ্রামে শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারতের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। সেখান থেকে রংপুর জিলা স্কুল মাঠে জামায়াতের বিভাগীয় জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেবেন দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান।

জানা যায়, দীর্ঘ ১৭ বছর পর রংপুরে জামায়াতের বড় ধরনের কোনো সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে। জনসভায় যোগ দিতে ইতোমধ্যে রংপুর বিভাগের বিভিন্ন জেলা থেকে রিকশা, অটোরিকশা, ট্রাক ও কাভার্ডভ্যানে করে দলে দলে লোকজন আসছেন। বিকেলের অনুষ্ঠান ঘিরে শহরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। এ জনসভায় রংপুর অঞ্চলের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিদেরও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

জামায়াত নেতারা জানান, এই জনসভার মাধ্যমে তারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনায় জনগণকে উজ্জীবিত করতে চান। তাদের দাবি, গণমানুষের কাঙ্ক্ষিত নতুন বাংলাদেশ গড়তে একটি বৃহত্তর আন্দোলনের সূচনা করতে চায় দলটি। রংপুর বিভাগের ৩৩টি আসনে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শক্ত অবস্থান তৈরির লক্ষ্যেও আজকের জনসভাকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন স্থানীয় নেতারা।