অনেক আসনে আমাদেরকে ইচ্ছাকৃতভাবে হারানো হয়েছে: জামায়াত আমির

আপডেট : ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯:২৯ পিএম

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এমপি বলেছেন, সদ্য সমাপ্ত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমাদের প্রত্যাশার প্রতিফলন হয়নি। নির্বাচনে আমাদের হক কেড়ে নেওয়া হয়েছে, এটি আমাদের কাছে পরিষ্কার। অনেক আসনে আমাদেরকে ইচ্ছাকৃতভাবে হারানো হয়েছে, বিশেষ করে যেসব আসনে ভোটের ব্যবধান ছিল ১০-১২ হাজার। যেখানেই যাই লোকজন আমাদেরকে বলে নির্বাচনে আপনারা হারেননি, আপনাদেরকে হারিয়ে দেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার দুপুরে সিলেটের একটি কমিউনিটি সেন্টারে জেলা জামায়াত আয়োজিত শুরা ও কর্মপরিষদ সদস্যদের শিক্ষা শিবির অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা হাবিবুর রহমান।

অনুষ্ঠানে জামায়াত আমির আরও বলেন, সংসদীয় রাজনীতিতে এবারই জামায়াত সবচেয়ে বড় সাফল্য পেয়েছে। এবারের নির্বাচনে আমাদের ৩টি লাভ হয়েছে। প্রথমত জামায়াতের নেতৃত্বে একটি অর্থবহ ঐক্য হয়েছে। এর আগে আমরা অন্যের নেতৃত্বে ঐক্য করেছিলাম। দ্বিতীয়ত- আল্লাহ আমাদের প্রধান বিরোধী দলের দায়িত্ব প্রদান করেছেন। তৃতীয়ত- এবার আমরা ৬টি শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করেছি। আমি তাদের নাম বলছি না, আপনারা সকলেই তা জানেন। ওই ৬ শক্তির সম্মিলিত শক্তি কতটুকু তা আমরা বুঝে গেছি।

দলীয় নেতাকর্মীদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, আমাদের প্রথম লড়াই ছিল জাতীয় নির্বাচন। আর দ্বিতীয় লড়াই শুরু হবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে। এই লড়াইয়ে একটি জায়গাও যেনো আমাদের খালি না থাকে। জাতীয় নির্বাচনে মানুষ বার্তা দিয়েছে, আগামীর বাংলাদেশ হবে ইসলামের বাংলাদেশ, মুক্তি পাগল মানুষের বাংলাদেশ।

এর আগে সকালে তিনি ঢাকা থেকে বিমানে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছলে দলীয় নেতাকর্মীরা তাকে স্বাগত জানান। এসময় বিমানবন্দরে তার জন্য জেলা প্রশাসনের একটি গাড়ি অপেক্ষায় ছিল। কিন্তু তিনি সরকারি গাড়ি ব্যবহার না করে ফিরিয়ে দেন এবং বলেন ১২ তারিখের পর সরকারি গাড়ি চড়ব ইনশাআল্লাহ। আমি ক্ষমতার অপব্যবহার করতে চাই না।

জামায়াত আমির নগরীর বন্দরবাজারে কুদরত উল্লাহ জামে মসজিদে জুমআর নামাজ আদায় করেন। এরপর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, সরকারের মন্ত্রীদের কাঁচা কথাবার্তা সমাজে অস্থিরতা তৈরি করছে ও অপরাধ প্রবণতা উসকে দিচ্ছে। এ ধরণের দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ অব্যাহত থাকলে দেশের জন্য মঙ্গল হবে না। রাষ্ট্রপতিকে অভিশংসন করা প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এখনই এব্যাপারে মন্তব্য করতে চাই না। বিষয়টি নিয়ে বড় পরিসরে আলোচনা করে যেটা দেশের জন্য ভালো হবে, সেভাবেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

বিকালে জামায়াত আমির সিলেট প্রেসক্লাব ও মহানগর জামায়াত আয়োজিত পৃথক ইফতার মাহফিলে যোগদান করেন। প্রেসক্লাবে ইফতার মাহফিলপূর্ব আলোচনাসভায় তিনি বলেন, সরকারি দলের দায়িত্ব হচ্ছে দেশে ইতিবাচক ধারার রাজনীতি করার সুযোগ তৈরি করে দেওয়া। তারা যতটা সুবিধা করে দেবেন দেশ ততটাই লাভবান হবে। সংসদের ভিতরে কিংবা বাইরে সংঘাতের মাধ্যমে দেশের কোনো উপকার হবে না।

তিনি বলেন, এতদিন আমরা দেখে এসেছি বিরোধী দল মানে সবকিছুতে বিরোধিতা করা, আর সরকারি দল মানে সবকিছুতে দমননীতি। ওই দুইটা থেকে বের হয়ে আসতে হবে। দমনও চলবে না, আর অন্ধ বিরোধিতাও চলবে না। আমরা দুইটার সমন্বয় দেখতে চাই।

জাতীয় নির্বাচনের ফল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমাদের প্রত্যাশিত ফল না এলেও এবার তাৎক্ষনিকভাবে নির্বাচনকে অগ্রহণযোগ্য ঘোষণা করা হয়নি, এটা ইতিবাচক রাজনীতির দৃষ্টান্ত। মিডিয়ার উদ্দেশে তিনি বলেন, কালোকে কালো, সাদাকে সাদা বলুন। মিডিয়ার ভূমিকা হতে হবে ন্যায্য ও ভারসাম্যপূর্ণ। ভুল হলে যেমন ধরিয়ে দিতে হবে, তেমনই অকারণ প্রশংসাও ক্ষতির কারণ।  

ইফতার মাহফিলে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত