রাষ্ট্র পরিচালনায় একক নেতৃত্ব কার্যকর হয়নি—এমন মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, শেখ মুজিবুর রহমান তার সমস্ত যোগ্যতা দিয়ে চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু একা একজন মানুষের পক্ষে একটি রাষ্ট্র চালানো সম্ভব নয়। প্রয়োজন ছিল দক্ষ, দায়িত্বশীল ও নৈতিক সহযোগীদের; সেই সহযোগিতা না পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে তিনি নিজেও আক্ষেপ প্রকাশ করে গেছেন।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বরিশাল জেলার মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার পাতারহাট আর.সি কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন ডা. শফিকুর রহমান। নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে প্রথমবারের মতো বরিশালে এসে তিনি সরাসরি জনসমাবেশে বক্তব্য দেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ১৯৪৭ সালে এই ভূখণ্ড পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত হয় এবং পরবর্তী ২৩ বছর পূর্ব পাকিস্তান অখণ্ড পাকিস্তানের অংশ ছিল। কিন্তু পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের মধ্যকার চরম বৈষম্য ও রাজনৈতিক বঞ্চনার বিস্ফোরণ ঘটে ১৯৭০ সালের নির্বাচনে। সেই নির্বাচনের রায় অনুযায়ী স্বাভাবিক ক্ষমতা হস্তান্তর না হওয়ায় একটি রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ অনিবার্য হয়ে ওঠে—যার মধ্য দিয়েই বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ সংঘটিত হয় এবং রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে।
স্বাধীনতার পরের শাসনামল প্রসঙ্গে জামায়াত আমির অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ চার বছর দেশ শাসনের সুযোগ পেয়েও রাষ্ট্র পরিচালনায় ব্যর্থতার পরিচয় দেয়। তার ভাষায়, সে সময় দেশ কার্যত একটি গোরস্থানে পরিণত হয়েছিল—চারদিকে ছোপ ছোপ রক্ত, কাড়ি কাড়ি লাশ, ব্যাংক ডাকাতি ছিল নিত্যদিনের ঘটনা। এমনকি শাসক দলের প্রভাবশালী নেতাদের সন্তানরাও ব্যাংক ডাকাতিতে জড়িয়ে পড়ে। মা-বোনেরা ইজ্জত নিয়ে ঘর থেকে বের হয়ে নিরাপদে ফিরতে পারবে কিনা—তার কোনো নিশ্চয়তা ছিল না।
১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ওই দুর্ভিক্ষে লক্ষ লক্ষ মানুষ প্রাণ হারায়। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ ছিল যে, মৃতদের দাফন করার মতো সময়ও সরকারের হাতে ছিল না—যা একটি সম্পূর্ণ ভেঙে পড়া রাষ্ট্রব্যবস্থার নগ্ন চিত্র।
এরপর জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় আসেন এবং দেশ পরিচালনা করেন। তবে তাকেও নির্মমভাবে পৃথিবী থেকে বিদায় নিতে হয়। অন্যদিকে শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করা হয়—তবে ব্যতিক্রম এই যে, তাঁর পরিবারের অন্য সদস্যরা সে সময় ক্ষতির শিকার হননি।
জামায়াতে ইসলামীর বরিশাল-৪ (হিজলা–মেহেন্দিগঞ্জ) আসনের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির পরিচালক অ্যাডভোকেট জহির উদ্দিন ইয়ামিন জানান, শুক্রবার সকালে হেলিকপ্টারযোগে ডা. শফিকুর রহমান মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার পাতারহাটে পৌঁছান। পরে আর.সি কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন। জনসভা শেষে তিনি দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে গণসংযোগে অংশ নেন।
