আফগানিস্তানের তালেবান সরকারকে রাশিয়া প্রথম দেশ হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দিয়েছে। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে বলে বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। আফগানিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি রাশিয়ার এই স্বীকৃতিকে সাহসী সিদ্ধান্ত বলে অভিহিত করেছেন। তিনি কাবুলে নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত দিমিত্রি জিরনভের সঙ্গে বৃহস্পতিবার বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে জিরনভ আনুষ্ঠানিকভাবে আফগানিস্তানের তালেবান সরকারকে স্বীকৃতি দেওয়ার কথা জানান বলে বিবিসি লিখেছে। মুত্তাকি বলেন, এটি ইতিবাচক সম্পর্ক, পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং গঠনমূলক সম্পৃক্ততার একটি নতুন পর্যায়। এ পরিবর্তন অন্যান্য দেশের জন্য একটি উদাহরণ হিসেবে কাজ করবে।
২০২১ সালের আগস্টে আফগানিস্তানে ক্ষমতা দখল করে তালেবানরা। এরপর থেকে এ সরকারের বিরুদ্ধে নারীদের বিরুদ্ধে নানা বিদ্বেষসহ মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠছে। তা সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায়ের চেষ্টা করে যাচ্ছে তালেবানরা। রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, আমরা বিশ্বাস করি, ইসলামিক আমিরাত আফগানিস্তানের সরকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়ার পদক্ষেপ আমাদের দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার বিকাশে গতি দেবে। এতে আরও বলা হয়েছে, রাশিয়া শক্তি, পরিবহন, কৃষি এবং অবকাঠামো ক্ষেত্রে বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার সম্ভাবনা দেখেছে। সন্ত্রাসবাদ ও মাদক পাচারের হুমকির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে কাবুলকে সহায়তা অব্যাহত রাখবে রাশিয়া।
আশরাফ গনির পতনের পর আফগানিস্তান থেকে সরিয়ে নেওয়া হয় মার্কিন সেনাদের। তালেবান সরকারের শীর্ষ নেতাদের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এবং আফগানিস্তানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিলিয়ন ডলারের সম্পদ ফ্রিজ করে রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে রাশিয়া তালেবানকে মিত্র বিবেচনা করে নানা উদ্যোগ নিয়েছে এরই মধ্যে।